|

Advertisement
×

ট্রাস্ট লাইফের শেয়ার কারসাজি, তিন বিনিয়োগকারীকে জরিমানা

রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ২০ বার পঠিত

ট্রাস্ট লাইফের শেয়ার কারসাজি, তিন বিনিয়োগকারীকে জরিমানা

ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার নিয়ে কারসাজির অভিযোগে একই পরিবারের তিন সদস্যকে মোট ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। জরিমানার আওতায় পড়েছেন আবু তাহের শিকদার, তার স্ত্রী উম্মা সালমা নিপা ও স্ত্রীর ভাই এস এম শাহেদ শাকিল। তাদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম লেনদেন দেখানো এবং ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করেছে।

বিএসইসির তদন্তে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে তিন বিনিয়োগকারী বিভিন্ন বিও হিসাব ও একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের শেয়ারে লেনদেন করেন। এ সময়ে তারা সম্মিলিতভাবে কোম্পানিটির ৫১ লাখ ২২ হাজার ৬৯৩টি শেয়ার কেনেন। এতে তাঁদের ব্যয় হয় ২৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ৩৭০ টাকা ৯০ পয়সা। একই সময়ে তাঁরা ৪৪ লাখ ৬ হাজার ১০৯টি শেয়ার বিক্রি করে পান ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা ১০ পয়সা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ার বিক্রি থেকে তিন বিনিয়োগকারীর প্রকৃত মূলধনি মুনাফা হয়েছে ২ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার ৮৮৩ টাকা। এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট কোম্পানিটির শেয়ারের সমাপনী দর ৮৩ টাকা ২০ পয়সা ধরে তাঁদের হাতে থাকা ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ২৬০টি শেয়ারের অবাস্তবায়িত মুনাফা হিসাব করা হয়েছে ৩ কোটি ৬৬ লাখ ৬ হাজার ৭ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁদের প্রকৃত ও অবাস্তবায়িত মুনাফার পরিমাণ ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকার বেশি।

তদন্তে আবু তাহের শিকদারের নামে আইএফআইসি সিকিউরিটিজ, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস, এমটিবি সিকিউরিটিজ ও কাজী ইক্যুইটিজে চারটি হিসাবের তথ্য পাওয়া যায়। এস এম শাহেদ শাকিল সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস এবং উম্মা সালমা নিপা অ্যারেনা সিকিউরিটিজের মাধ্যমে লেনদেন করেন।

শুনানিতে তিন বিনিয়োগকারী কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে তাঁরা শেয়ার কিনেছিলেন। আবু তাহের শিকদার জানান, তিনি সরাসরি একটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করতেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও আত্মীয়রা মুঠোফোনে নির্দেশ দিয়ে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করতেন। এ কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া আদেশের মধ্যে মিল তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের দাবি।

তবে তাদের এ ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি বিএসইসি। কমিশনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একই পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হিসাব থেকে একই সময়ে বিপরীতমুখী আদেশ দেওয়া এবং ধারাবাহিক লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানোর ঘটনা কাকতালীয় হওয়ার সুযোগ নেই।

এ ঘটনায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(রর) ও ১৭(ই)(া) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে আবু তাহের শিকদারকে ৫৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, উম্মা সালমা নিপাকে ৫ লাখ টাকা এবং এস এম শাহেদ শাকিলকে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া কৃত্রিম লেনদেন দেখানোর দায়ে তিনজনের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

Facebook Comments Box

Posted ০৮:৩০ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com