নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৫৫ বার পঠিত
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সুন্দরবন দীর্ঘ ৩ মাস বিরতির পর আজ সোমবার থেকে উন্মুক্ত হলো। বিশ্রামের পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সজ্জিত এই ম্যানগ্রোভ আবারও পর্যটক ও স্থানীয় জেলেদের জন্য খোলা হয়েছে। বন বিভাগের উদ্যোগে অভয়ারণ্যসহ সুন্দরবনের ১১টি পর্যটনকেন্দ্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, যাতে পর্যটকরা নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তা জানান, করমজল, হারবাড়িয়া, দুবলা, কটকা, কচিখালী, নীলকমল, কালাবগী, শেখেরটেকসহ সমুদ্র তীরবর্তী ও বনাঞ্চলের সব পর্যটন স্পট প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও পর্যটন ব্যবসায়ীরা লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযান নতুনভাবে সাজিয়ে পর্যটকদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী, নদী ও খালে মাছ ও কাঁকড়ার প্রজনন রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ২০১৯ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বনাঞ্চলে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে। গত তিন মাসের এই সময়ে মধু আহরণ, মাছ-কাঁকড়া ধরা ও পর্যটন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল।
উন্মুক্ত হওয়ার পর জেলেরা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা খাল ও নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। তবে তারা উদ্বিগ্ন, একসঙ্গে হাজার হাজার মানুষ বনজীবীদের উপস্থিতি সৃষ্টির কারণে কি তারা প্রত্যাশিতভাবে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারবেন কি না। এই অবস্থায় জেলেরা বনকর্মীদের টহল জোরদার এবং অভয়ারণ্যের আয়তন হ্রাসের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা উপকূলীয় এলাকায় বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানিয়েছেন।
জেলেরা জানিয়েছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালানোর জন্য তারা স্থানীয় সমিতি, এনজিও ও মহাজনদের কাছে ঋণ নিয়েছেন। জাল ও নৌকা প্রস্তুতির জন্য শরণাপন্ন হয়েছেন দাদন ব্যবসায়ীসহ অন্য মহাজনদের কাছে। তারা অভিযোগ করেন, সরকার প্রদত্ত সহায়তা তাদের চাহিদার তুলনায় খুবই সীমিত।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “মৎস্যজীবী ও বনজীবীদের সহায়তার জন্য মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে, যা বর্তমানে যাচাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী বছর থেকে জেলেরা খাদ্য সহায়তা পাবেন।”সুন্দরবনের তিন মাসের বিরতির পর উন্মুক্ত হওয়া কেবল জেলেদের জন্য নয়, পর্যটকদের জন্যও একটি নতুন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে। বন বিভাগের সতর্ক পদক্ষেপ ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সহযোগিতায় সুন্দরবন এখন আবার জীবন্ত ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
Posted ০৩:০৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com