নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ১৮৯ বার পঠিত
ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে গত ২১ সেপ্টেম্বর আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে “গ্রামীণ নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালতের সেবা প্রচারের গুরুত্ব” বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সামাজিক বাঁধা, সচেতনতার অভাব এবং সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে ন্যায়বিচার থেকে প্রায়ই বঞ্চিত হন। বিশেষ করে অনেক নারী নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও গ্রাম আদালতে যেতে দ্বিধা বোধ করেন।
গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী, প্রকল্প পরিচিতি ও শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ- তয় পর্যায়’ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাষ চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ পর্যায় প্রকল্পের জেন্ডার এনালিস্ট শামিমা আক্তার শাম্মী। আলোচনার সার সংক্ষেপ ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ- তয় পর্যায় প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক সুরাইয়া আখতার জাহান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, গ্রাম আদালতের তৃতীয় ফেইজ-এর সেবার প্রচার সবাই যেন জানতে পারে তাই আমরা মিডিয়ার কাছে অনুরোধ করছি। প্রান্তিক পর্যায়ে এই প্রচারণের জন্য সাংবাদিক ভাইয়েরা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন।’ বৈঠকের শেষ পর্যায়ে তিনি আরও বলেন, ‘২০০৯ থেকে এ প্রকল্প শুরু হয়েছে, ২০২৭ পর্যন্ত এ প্রকল্পটি চলমান থাকবে। প্রত্যেকটা গ্রাম্য আদালতে নারীদের অন্তর্ভুক্ত করলে কার্যক্রম আরো গতিশীল হবে বলে।’
জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়ক বিভাষ চক্রবর্তী বলেন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে বিশেষ করে নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়া। স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ নিশ্চিত করা, আইন পর্যালোচনা করা, সরকারিভাবে দায়িত্ব নেওয়া এবং গ্রামের জনগোষ্ঠীকে আইনি সহায়তা দেওয়া। তিনি জানান, গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের করার ৭৮ শতাংশই নিষ্পত্তি হয়েছে। গড়ে ১৮ দিনে একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, খরচ হয়েছে গড়ে ৩২৮ টাকা।
প্রকল্পের উপকারভোগীর মধ্যে নরসিংদীর বিলকিস বেগম তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বৈঠকে এবং গ্রাম আদালতের নারী প্রতিনিধি রত্না আক্তার জানান, গ্রাম আদালতে আসা দুই পক্ষকে বসিয়ে ন্যায় বিচার প্রচার করি। তবে কার্যাক্রম আরোও বৃদ্ধির সুপারিশ করেন তিনি।
ইউএনডিপি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ মোঃ আনোয়ারুল হক বলেন, প্রায় দশ হাজার মামলা জেলা আদালত থেকে গ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে যেটা আমাদের জন্য ইতিবাচক কারণ এতেই বুঝা যাচ্ছে গ্রাম আদালতের ওপর প্রশাসন ও জনগণের আস্থা আছে।
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা একমত হন যে, গ্রাম আদালতের সেবা আরও জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হলে ন্যায়বিচার সহজলভ্য হবে এবং সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে জাতীয় মহিলা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহানা সারমিন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোছাম্মৎ হাজেরা খাতুন এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরীসহ জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারক, আইন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষাবিদ ও উন্নয়ন সহযোগীগণ উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৪:১৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন