নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১১ বার পঠিত
২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই ৮ হাজার ৫৪২ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয় এস আলম গ্রুপ। চাকরিপ্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করা হতো চট্টগ্রামের পটিয়ায় এস আলমের বাড়ি ও আছদগঞ্জের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে রাখা বিশেষ বাক্সে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করা হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পাওয়া ১০ হাজার ৮৩২ জনের মধ্যে ৮ হাজার ৯৯ জন, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ শতাংশই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে ৫ হাজার ১৪৮ জনের বাড়ি পটিয়া উপজেলায়। অর্থাৎ ওই সময়ে ব্যাংকের মোট নিয়োগের প্রায় ৪৮ শতাংশ হয়েছে একটি উপজেলা থেকে।
তদন্ত কমিটির মতে, প্রয়োজন বিবেচনা না করে ব্যক্তিস্বার্থনির্ভর নিয়োগের ফলে ব্যাংকের বেতন ব্যয় বেড়েছে এবং তৈরি হয়েছে আঞ্চলিক মেরুকরণ ও কেন্দ্রীভূত ঝুঁকি। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগ্য প্রার্থীরা চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
ইসলামী ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ‘জরুরি পরিস্থিতি’র কথা বলে নীতিমালায় বিশেষ শিথিলতার সুযোগ যুক্ত করা হয়। পরে এই সুযোগ ব্যবহার করে বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১৬ ধাপে বিজ্ঞপ্তি ছাড়া নিয়োগ হয়েছে। শুধু প্রাথমিক পর্যায়ের পদ নয়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্টসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও একইভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, পটিয়া জেনারেল, পটিয়া ক্যাশ, সাতকানিয়া-লোহাগড়া, মহিলা ক্যাশ, পিয়ন-ডিপ্লোমাসহ বিভিন্ন নামে বাক্স বসিয়ে সিভি সংগ্রহ করা হতো। পরে পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হতো এবং সেখান থেকে নিয়োগপত্র দেওয়া হতো। নির্বাচিত প্রার্থীদের অনেকের লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়নপত্রও পাওয়া যায়নি।
২০১৯ সালের ২৪তম প্রবেশনারি অফিসার ব্যাচেও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই চট্টগ্রাম থেকে সংগ্রহ করা ৭৮০টি সিভি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে পাঠানো হয়। লিখিত পরীক্ষায় পাস নম্বর ৫০ শতাংশ থাকলেও চট্টগ্রামের প্রার্থীদের জন্য তা কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। শেষ পর্যন্ত ৩১৬ জন নিয়োগ পান; তাঁদের সবাই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এর মধ্যে ১৯০ জন ইসলামী ব্যাংক এবং ১২৬ জন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ পান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদ ২০১৭-২০২৪ সময়ে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের যোগ্যতা যাচাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর মাধ্যমে বিশেষ পরীক্ষা নেয়। ৫ হাজার ৩৭৩ জনকে পরীক্ষার আওতায় আনা হলেও অংশ নেন মাত্র ৪০২ জন। তাঁরা সবাই উত্তীর্ণ হয়ে চাকরিতে বহাল আছেন।
অন্যদিকে, ৪ হাজার ৯৭২ জন পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে কর্মবিরতি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ব্যাংকের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অভিযোগ আনা হয়। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন না করেই তাঁদের তিন মাসের বেতন দিয়ে চাকরিচ্যুত করা হয়।
এ ছাড়া একই সময়ে নিয়োগ পাওয়া ২৬১ জনকে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখেই চাকরিতে বহাল রাখা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মানবসম্পদ বিভাগের এমন বৈষম্যমূলক আচরণের কারণেও অনেক কর্মকর্তা চাকরি হারিয়েছেন।
Posted ০৭:৪৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com