বিবিএনিউজ.নেট
বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ প্রিন্ট ৫৪৯ বার পঠিত
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা কোম্পানির মধ্যে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক অবস্থা সবচেয়ে করুণ। আয়-ব্যয়ের ভারসাম্যহীনতার পাশাপাশি ব্যবসায় মন্দার কারণে ডুবতে বসেছে কোম্পানিটি। ক্রমাগতভাবে কমছে প্রতিষ্ঠানটির প্রিমিয়াম আয়। পাশাপাশি এ বীমা কোম্পানিটির অন্যান্য আয়ও কমে গেছে। ফলে খরচ কমিয়েও টিকে থাকতে হিমশিম খাচ্ছে কোম্পানি। দিতে পারছে না বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত তিন প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। ২০১৮ সালের তিন প্রান্তিক (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) মিলে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় হয় ৪৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ২০১৯-এর তিন প্রান্তিকে তা কমে দাঁড়ায় ৪১ কোটি ৫২ লাখে। অর্থাৎ এই সময়ে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম বাবদ আয় কমেছে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
এদিকে কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। যে কারণে এ বছর শেষে প্রিমিয়াম আয় আরও কমতে পারে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, কোম্পানিটি বীমা দাবি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে। ২০১৭ সাল থেকে তারা এ সমস্যার মধ্যে পড়েছে। সেই সময় বীমা দাবি পরিশোধ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ১৭৮ শতাংশ। এখন সেই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। যে কারণে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না কোম্পানিটি। পাশাপাশি আয়-ব্যয়ে ভারসাম্যহীনতার কারণে আরও পিছিয়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
এছাড়া ২০১৭ সালের কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল প্রায় ১৪৪ কোটি টাকা কমেছে। মূলত তখন থেকেই কোম্পানিটির ভগ্নদশা শুরু হয়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৭ সালে প্রিমিয়াম আয় প্রায় ১০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা কমেছে। এতে ওই আর্থিক বছরে পদ্মা ইসলামী লাইফের বীমা প্রিমিয়াম আয় ৪২ কোটি টাকায় নামে। অন্যদিকে ওই বছরে প্রায় ১৯২ কোটি টাকা বীমা দাবি পরিশোধে ব্যয় করেছে কোম্পানিটি। এ কারণে কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের আকার ১২৮ কোটি ৮১ লাখ টাকায় নেমে আসে। এর মধ্য দিয়ে আরও পিছিয়েছে ইসলামী জীবন বীমা কোম্পানিটি। বর্তমানেও প্রতিষ্ঠানটিতে একই অবস্থা বিরাজ করছে।
পদ্মা ইসলামী লাইফের পিছিয়ে পড়ার কারণ সম্পর্কে কোম্পানিটির কোম্পানি সচিব আবু সাঈদ সরকার বলেন, শুধু আমাদের প্রতিষ্ঠানই নয়, বর্তমানে বেশিরভাগ লাইফ বীমা কোম্পানির অবস্থা নাজুক। তাছাড়া বীমা পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার কারণে দাবি পরিশোধের চাপ বেড়েছে। এ জন্য বীমা দাবি পরিশোধ ও বাড়তি ব্যবস্থাপনা ব্যয় মেটাতে গিয়ে জীবন বীমা তহবিলের আকার কমেছে। প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশের কারণেই এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে দু-এক বছরের মধ্যেই পরিশোধের চাপ কমবে। আর ব্যবসা বাড়াতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইসলামী জীবন বীমায় প্রতিকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ, নতুন পণ্যের অভাব ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের কারণে বিরূপ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
এদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা মন্দা থাকার কারণে তারা শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ধরনের লভ্যাংশ দিতে পারছে না। যে কারণে এই শেয়ারের চাহিদাও তলানিতে নেমে গেছে। যার জের শেয়ারদরও আশঙ্কাজনকহারে কমে গেছে। দুই বছর আগে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হচ্ছিল ৫২ টাকায়। বর্তমানে যা ১৪ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটি ২০১২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শরিয়াহভিত্তিক বীমা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, জীবন বীমা তহবিলের টাকা ভিন্ন খাতে বিনিয়োগ, সম্পদের তথ্য গোপন ও নিজস্ব ভবন নির্মাণে অনিয়মসহ বেশকিছু অভিযোগ কয়েক বছর ধরেই আলোচিত হচ্ছে। তাই কোম্পানিটির প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন গ্রাহকরা। এর জের ধরে পুঁজিবাজারেও কোম্পানিটির প্রতি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমছে।
এদিকে দুর্বল কোম্পানির তালিকাভুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের মুখপাত্র ও নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল রহমান (বিএসইসি) বলেন, কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তি শুধু আমাদের ইচ্ছেতে হয় না। এর সঙ্গে অডিটর, ইস্যু ম্যানেজারসহ আরও অনেকেই জড়িত থাকেন। তারা একটি কোম্পানিকে যেভাবে উপস্থাপন করেন আমরা তা দেখে তালিকাভুক্তির অনুমোদন দিই।
Posted ০১:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com