নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫ প্রিন্ট ১৬৫ বার পঠিত
বৈশ্বিক অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিল্প খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে তুলতে না পারলে দেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে স্মার্ট মানবসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। গোলটেবিল বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শুধু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়; এটি উৎপাদন, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানে মৌলিক রূপান্তর এনেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন শিল্প ও সেবা খাতে গভীর প্রভাব ফেলছে।’ তিনি আরও জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাজের ধরণ ও চাহিদা পরিবর্তিত হবে। ফলে বাংলাদেশের এলডিসি-পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতিতে টিকে থাকতে হলে স্মার্ট, প্রযুক্তি-দক্ষ ও উদ্ভাবনী মানবসম্পদই হবে সবচেয়ে বড় শক্তি। এ জন্য তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং শিল্প ও একাডেমিক খাতের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।
প্রধান অতিথি ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী বলেন, ‘আমিও জানি যে মানবসম্পদ উন্নয়নে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে এখনো কার্যকর সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতারও অভাব রয়েছে যা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এনএসডিএ প্রতিষ্ঠার মাত্র ৬ বছরের মধ্যেই খুব বেশি এগিয়ে যাওয়া হয়ত চ্যালেঞ্জের বিষয়। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে গ্যাপগুলো নিরসনে কাজ করছি। আশা করি আরও উন্নতি হবে।’ তিনি আরও জানান, জাপানে এক লাখ দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর উদ্যোগে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে নারী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বাস্তবতায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ তাঁর মূল প্রবন্ধে জানান, এটুআই ও ইউএনডিপি’র যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, কৃষি, খাদ্য, ফার্নিচার, পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে প্রায় ৫৩ লাখ ৮০ হাজার চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে যদি প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধি না করা হয়। তিনি বলেন, ‘মানবসম্পদকে প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে হলে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও বাজেট বরাদ্দ উভয়ই বাড়াতে হবে।’
বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসরুর আলী বলেন, ‘গ্রাম ও শহরের শিক্ষার মানে বৈষম্য কমাতে না পারলে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি অসম্ভব। প্রাথমিক স্তর থেকেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।’
হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ সাইফুল হাসান বলেন, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হাই-টেক পার্কে যৌথ উদ্যোগে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।
ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রধান নির্বাহী রাইসুল কবীর মন্তব্য করেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে চাকরি কমবে না; বরং দক্ষ কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। তাই প্রশিক্ষণকেন্দ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আইসিএমএবি সভাপতি মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, দেশে এখনো দক্ষতা অনুযায়ী চাকরি পান মাত্র ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী, অথচ বেকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ ও সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন অপরিহার্য। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. শামস রহমান বলেন, ‘আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা শিল্প খাতের চাহিদা অনুযায়ী মানবসম্পদ তৈরি করতে পারছে না। শিক্ষা ও শিল্পখাতের যৌথ উদ্যোগ ছাড়া দক্ষতার এই ঘাটতি পূরণ সম্ভব নয়।’
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআই পরিচালক মোহাম্মদ জমশের আলী, মীর শাহরুক ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৬:২০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com