বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

ব্যাংক খাতে ঋণ অবলোপন বাড়ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫   প্রিন্ট   ২৯৭ বার পঠিত

ব্যাংক খাতে ঋণ অবলোপন বাড়ছে

দেশের ব্যাংক খাতে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। আর ব্যাংকগুলো খেলাপি কমাতে এখন আগের চেয়ে ঋণ অবলোপনে ঝুঁকছে বেশি। ফলে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ অবলোপন বাড়ছে।

মন্দমানের খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিন আদায় না হলে তা ব্যাংকের মূল ব্যালান্স শিট থেকে আলাদা করে অন্য একটি লেজারে সংরক্ষণ করা হয়, যা ব্যাংকিং পরিভাষায় ঋণ অবলোপন বা ‘রাইট অফ’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় ২০০৩ সাল থেকে ঋণ অবলোপন করে আসছে ব্যাংকগুলো। তবে ঋণ অবলোপনের আগে অর্থঋণ আদালতে একটি মামলা ও খেলাপি ঋণের বিপরীতে শতভাগ নিরাপত্তা সঞ্চিতি বা প্রভিশন সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক।

২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭ শতাংশ বা ২ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৮ কোটি টাকা আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংক খাতে ঋণ বিতরণে বড় যেসব অনিয়ম হয়েছে, তার বেশির ভাগই অবলোপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আড়াল করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পুঞ্জীভূত অবলোপন ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮১ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল ৭১ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ অবলোপন বেড়েছে ৯ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা।

ব্যাংক যে খেলাপি ঋণ আদায়ের কোনো আশা দেখে না, সে খেলাপি ঋণ ব্যালেন্স শিট থেকে সরিয়ে নিতে ‘ঋণ অবলোপন নীতিমালা’ ব্যবহার করে। তারপর অবলোপন করা ঋণকে অফ-ব্যালেন্স রেকর্ডে পাঠানো হয়। এর ফলে ব্যাংকের নিয়মিত খাতায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ কম দেখাতে পারে। তবে ব্যাংকের দায় থেকে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন গাইডলাইনে বলা হয়, দুই বছর ধরে খেলাপি ও লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর ব্যালেন্স শিট থেকে অবলোপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগে এই সময়সীমা ছিল তিন বছর। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক আগের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করে।

নতুন নীতিমালায় বলা হয়, পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত খেলাপি ঋণ অবলোপনের জন্য অর্থঋণ আদালতে মামলা করতে হবে না। আগে এর পরিমাণ ছিল দুই লাখ টাকা।

এছাড়া ব্যাংকগুলো মামলা না করেই মৃত ব্যক্তির নামে থাকা খেলাপি ঋণ অবলোপন করতে পারবে। যা আগে ছিল না। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালায় আরও বলা হয়, খেলাপি ঋণ অবলোপনের জন্য কোনো ঋণ হিসাব আংশিক অবলোপন করা যাবে না এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো ২৫ হাজার ৮৩২ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ৫২ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা, বিদেশি ব্যাংকগুলো দুই হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো ৬১৩ কোটি টাকা।
অবলোপন করা শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক একাই করেছে ৮ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা। এরপর অগ্রণী ব্যাংক ৫ হাজার ৬২৭ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংক ৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেড ২ হাজার ৯৬৯ কোটি টাকা ঋণ অবলোপন করেছে।

এছাড়া বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সাউথইস্ট ব্যাংক ৩ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৩ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা, প্রাইম ব্যাংক ৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা, দ্য সিটি ব্যাংক ৩ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, ব্র্যাক ব্যাংক ২ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা এবং ব্যাংক এশিয়া ২ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা ঋণ অবলোপন করেছে। শীর্ষ ১০ ব্যাংক ছাড়াও পূবালী ব্যাংক ২ হাজার ৪৬৩ কোটি টাকা, উত্তরা ব্যাংক ২ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা, এবি ব্যাংক ২ হাজার ৩০৫ কোটি টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক ২ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা, আইএফআইসি ব্যাংক ২ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ২ হাজার ৯৭ কোটি টাকা, ওয়ান ব্যাংক ২ হাজার ৭২ কোটি টাকা এবং ইস্টার্ন ব্যাংক ২ হাজার ১৯ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ অবলোপন করেছে।

Facebook Comments Box
×

Posted ০৩:০৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com