নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫ প্রিন্ট ২৩৯ বার পঠিত
বীমা খাতের টেকসই উন্নয়ন, গ্রাহকের আস্থা অর্জন এবং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য সুশাসন ও কমপ্লায়েন্স
অপরিহার্য। বিশেষত মানি লন্ডারিং (ML) এবং সন্ত্রাসে অর্থায়ন (CFT) প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব অনেক বড়।
১. মাঠপর্যায়ে কমপ্লায়েন্স বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও করণীয়:
নীতিগত কাঠামো প্রণয়ন করা তুলনামূলকভাবে সহজ। কিন্তু সেটি বাস্তবে প্রয়োগ করাই সবচেয়ে
বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের কোম্পানির অভিজ্ঞতা হলো গ্রাহকের তথ্য সংগ্রহ, পরিচয় যাচাই
(KYC এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক গ্রাহক শ্রেণিবিন্যাস অনেক সময় যথাযথভাবে করা হয় না।
আমাদের করণীয় হলো: প্রতিটি গ্রাহকের জন্য ঝুঁকি প্রোফাইল তৈরি করা। হাই-রিস্ক গ্রাহকের ক্ষেত্রে এনহ্যান্সড ডিউ ডিলিজেন্স (EDD) নিশ্চিত করা প্রতিটি লেনদেনের ট্রেইল সংরক্ষণ করা যাতে প্রয়োজনে তদন্তে ব্যবহার করা যায়
২. কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি: কমপ্লায়েন্সের সবচেয়ে বড় দুর্বল দিক হলো মানবসম্পদ ঘাটতি। অনেক সময় আমাদের
স্টাফরা নিয়ম জানলেও বাস্তব প্রয়োগে আত্মবিশ্বাসী নয়। এজন্য আমাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ
কর্মসূচি চালু রাখতে হবে। প্রতিটি শাখায় বছরে অন্তত একবার কমপ্লায়েন্স ও এএমএল প্রশিক্ষণ আয়োজন করা
যেতে পারে। অনলাইন মডিউল চালু করে প্রত্যেক কর্মীকে মাসিক টেস্ট দিতে হবে।
ভুল করলে শাস্তি নয়, বরং শেখার সুযোগ দেওয়া জরুরি। আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, প্রশিক্ষিত কর্মীরা শুধু নিয়ম মানে না, বরং প্রতিষ্ঠানের প্রতি অতিরিক্ত দায়বদ্ধতা ও সততা প্রদর্শন করে।
৩. প্রযুক্তিনির্ভর কমপ্লায়েন্স: আজকের যুগে শুধু ম্যানুয়াল চেক-লিস্ট দিয়ে এমএল/সিএফটি প্রতিরোধ সম্ভব নয়। আমাদের
প্রযুক্তি নির্ভর সমাধান নিতে হবে। লেনদেন পর্যবেক্ষণ সফটওয়্যার (ঞৎধহংধপঃরড়হ গড়হরঃড়ৎরহম ঝুংঃবস) ব্যবহার করে
সন্দেহজনক লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করা যায়।
ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে গ্রাহকের আচরণগত প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করা যায়।
সন্দেহজনক লেনদেন রিপোর্ট (ঝঞজ) স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হয়ে কমপ্লায়েন্স টিমের কাছে
চলে আসবেএমন ব্যবস্থা করলে সময় ও দক্ষতা দুটোই বাঁচবে।
আন্তর্জাতিকভাবে অনেক বীমা কোম্পানি ইতিমধ্যে অখ-ভিত্তিক মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার
করছে। আমাদেরও ধাপে ধাপে সেই পথে যেতে হবে।
৪. নেতৃত্বের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, কমপ্লায়েন্স সংস্কৃতি উপরের দিক থেকে শুরু হয়। যদি বোর্ড অব
ডিরেক্টরস এবং সিইও নিজেরা কমপ্লায়েন্সকে অগ্রাধিকার না দেন, তাহলে নিচের স্তরের কর্মীরা
এটিকে গুরুত্ব দেবে না।
তাই নেতৃত্বের দায়িত্ব হলো: প্রতিষ্ঠানের মধ্যে “টোন অ্যাট দ্য টপ” নিশ্চিত করা। প্রত্যেক সিদ্ধান্তে সুশাসন ও কমপ্লায়েন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া। ভঙ্গ করলে শাস্তি, মানলে পুরস্কারএমন জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা
৫. কমপ্লায়েন্সকে চাপ নয়, রক্ষাকবচ হিসেবে দেখা।
অনেক সময় কর্মীরা মনে করে কমপ্লায়েন্স মানে বাড়তি ঝামেলা। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি,
প্রত্যেক সিদ্ধান্তে সুশাসন ও কমপ্লায়েন্সকে অগ্রাধিকার দেওয়া
প্রতিষ্ঠানের মধ্যে “টোন অ্যাট দ্য টপ” নিশ্চিত করা
ভঙ্গ করলে শাস্তি, মানলে পুরস্কার – এমন জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা
৫. কমপ্লায়েন্সকে চাপ নয়, রক্ষাকবচ হিসেবে দেখা:
অনেক সময় কর্মীরা মনে করে কমপ্লায়েন্স মানে বাড়তি ঝামেলা। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, কমপ্লায়েন্স হলো ব্যবসা রক্ষার ঢাল।
এটি আমাদের প্রতিষ্ঠানকে আইনি জটিলতা থেকে রক্ষা করে।
এটি আমাদের সুনাম বজায় রাখে। সবচেয়ে বড় কথা, এটি গ্রাহকের আস্থা বাড়ায়। আর গ্রাহকের আস্থা হারালে কোনো
বীমা কোম্পানি টিকে থাকতে পারে না।
৬. ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
আমাদের ভবিষ্যত লক্ষ্য হওয়া উচিত: প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টিগ্রেটেড কমপ্লায়েন্স সিস্টেম গড়ে তোলা গ্রাহক সচেতনতা বাড়ানো-কারণ গ্রাহকরাও যদি ঝুঁকি বোঝেন তবে অনিয়ম কমবে। আমি আমার বক্তব্য শেষ করতে চাই এ কথা বলে-সুশাসন কোনো কাগজে লেখা নীতি নয়, এটি একটি অভ্যাস এবং সংস্কৃতি। কমপ্লায়েন্স, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা যদি আমাদের প্রতিদিনের কাজের অংশ হয়ে যায়, তবে আমরা কেবল এমএল/সিএফটি প্রতিরোধেই সফল হব না, বরং একটি শক্তিশালী, টেকসই এবং বিশ্বমানের বীমা খাত গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
Posted ০৫:০৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০২ অক্টোবর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com