নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬ প্রিন্ট ৩২ বার পঠিত
‘বাংলাদেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে দক্ষ, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই’- এমন মন্তব্য করেছেন ডিসিসিআই-এর বৈঠকে আগত বক্তারা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বাণিজ্য নির্ভর বাংলাদেশের জন্য সমন্বিত বন্দর এবং লজিস্টিকস খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভা শনিবার (৯ মে ২০২৬) ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম)-এর মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, বন্দর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন সুবিধার ঘাটতির কারণে দেশের ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআইয়ের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী বলেন, বন্দরগুলোতে পেপারলেস ও অটোমেটেড ব্যবস্থা চালু, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি)-এর মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক কোল্ড-চেইন লজিস্টিকসে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিআইএম মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সমন্বিত বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ খাতের উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি সব অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম. মাসরুর রিয়াজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উৎপাদনমুখী খাত জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও রপ্তানি এখনও সীমিত কয়েকটি পণ্য ও বাজারের ওপর নির্ভরশীল। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, নীতিগত সংস্কার এবং লজিস্টিকস ব্যয় কমানো এখন সময়ের দাবি।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের লজিস্টিকস খরচ ২৫ শতাংশ কমানো গেলে রপ্তানি ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া পণ্য পরিবহন ব্যয় ১ শতাংশ কমানো সম্ভব হলে রপ্তানি ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কার্যকর লজিস্টিক নীতিমালা বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনা, বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা এবং চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার খালাসের সময় কমানো জরুরি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব (সাবেক সদস্য, প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে রেলভিত্তিক পণ্য পরিবহন বাড়াতে হবে এবং বন্দরের সঙ্গে রেল সংযোগ জোরদার করতে হবে। তিনি সমুদ্রবন্দর পরিচালনায় বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করারও প্রস্তাব দেন।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. শামসুল হক বলেন, বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনার অভাবে যোগাযোগ অবকাঠামো থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর কাঠামোগত সংস্কারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
শাহরিয়ার স্টিল মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস কে মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, পানগাঁও বন্দরে স্ক্যানার না থাকায় উদ্যোক্তারা বন্দরটি ব্যবহার করতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ নৌপথ অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্পখাতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে।
বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ট্রান্সপোর্ট স্পেশালিস্ট নুসরাত নাহিদ বাবী বলেন, দেশের কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়া এখনও পুরোপুরি আধুনিক ও ডিজিটাল হয়নি। বিশেষ করে স্থলবন্দরগুলোতে ডিজিটাল ব্যবস্থা না থাকায় পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়ছে।
এডিবির সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার হুমায়ুন কবির জানান, ধীরাশ্রম আইসিডি কনটেইনার ডিপো ও একটি মাল্টিমোডাল লজিস্টিক হাব প্রকল্প বাস্তবায়নে এডিবি কাজ করছে। তিনি লজিস্টিকস সেবার প্রতিটি ধাপে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই পরিচালক ইঞ্জি. এম এ ওয়াহাব, সাবেক পরিচালক এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, ইএসজি প্রজেক্ট লজিস্টিকস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবরারুল আলম এবং এএনবি লজিস্টিকসের প্রতিনিধি মোক্তার উদ্দিন মতি অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৫:০৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com