নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৩৮৪ বার পঠিত
দেশের লাইফ ও নন লাইফ বীমা ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দিয়ে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণী বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।
সংশোধিত বিধিমালার খসড়ায় মতামত চেয়ে গত ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) ও ইন্স্যুরেন্স ফোরামকে চিঠি দিয়েছে আইডিআরএ।
তবে ইতিমধ্যে ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমানোর এই প্রস্তাবে নেতিবাচক অভিমত প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, বিধিমালা সংশোধন হতে পারে কিন্তু ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমাতে নয়, সময়োপযোগী করতে। যেখানে বেশিরভাগ কোম্পানিরই যৌক্তিক কারণে ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে, সেখানে কমানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক।
বীমা খাতের একাধিক অংশীজন বলেছেন, সময়ের ব্যবধানে বাজার দর বেড়ে একদিকে যেমন বীমা সংযশ্লিষ্টদের প্রাত্যহিক ব্যয় বেড়েছে, তেমনি তাদের ইনক্রিমেন্ট দিতে গিয়ে কোম্পানির ব্যয়ও বেড়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন ফিও বেড়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিতে হবে এবং বাস্তবতার নিরিখে ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারণ করতে হবে। ১৮ সাল বা ২০ সালের হিসাব করে এখন ব্যয় নির্ধারণ করলে কোম্পানিগুলোর টিকে থাকা ঝুঁকিতে পড়বে।
সংশোধনী প্রস্তাবের উপর মতামত চেয়ে আইডিআরএ’র পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিদ্যমান লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণী বিধিমালা , ২০২০ এ বর্ণিত পরিমাণ অনুযায়ী প্রাপ্ত প্রিমিয়ামের উল্লেখযোগ্য অংশ বীমাকারী কর্তৃক ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে খরচ করার কারণে পলিসি প্রিমিয়ামের সিংহভাগ অংশই খরচ হয়ে যাচ্ছে। এতে বীমাকারী ভবিষ্যতে বীমা পলিসির প্রিমিয়াম হতে বীমা গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা হারাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের এ হার আমাদের চেয়ে অনেক কম। বীমাকারীর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, বীমাগ্রাহকদের প্রিমিয়াম হতে বীমা দাবি যথাসময়ে পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংকোচন করা প্রয়োজন মর্মে কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতীয়মান হওয়ায় বীমাকারীর ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিষয়োক্ত বিধিমালার একটি সংশোধন খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে (সংযুক্ত)। প্রস্তুতকৃত খসড়া প্রজ্ঞাপন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন/বিশেষজ্ঞ/জনসাধারণের সুচিন্তিত মতামত আগামী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যবসার সময়কাল বা বয়স যদি ১০ বছর বা তদুর্ধ্ব হয় তাহলে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত প্রথম বর্ষ মোট প্রিমিয়ামের ৮২ শতাংশ খরচ করতে পারবে। তবে বিদ্যমান প্রবিধানমালায় এই খরচের সীমা ৯৩ শতাংশ। অর্থাৎ প্রস্তাবিত সংশোধনী কার্যকর হলে এই ব্যয়সীমা কমবে ১১ শতাংশ।
এ ছাড়াও নবায়ন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে ১০ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের কোম্পানির জন্য সকল অবস্থায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ব্যয়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে খসড়া প্রজ্ঞাপনে। বিদ্যমান প্রবিধানমালায় এই খরচের সীমা ২০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা আছে। এক্ষেত্রেও কোম্পানিগুলোর ১০ শতাংশ পর্যন্ত খরচ কমবে।
খসড়া প্রজ্ঞাপনের তথ্য মতে, অ্যানুয়িটি পলিসির ক্ষেত্রে একক প্রিমিয়াম পদ্ধতিতে প্রিমিয়াম আদায় করা হলে প্রথম বছরে আদায়কৃত প্রিমিয়ামের ৪ শতাংশ খরচ করা যাবে। কিস্তিতে প্রিমিয়াম আদায় করা হলে প্রথম বছরে আদায়কৃত প্রিমিয়ামের ৭ শতাংশ এবং নবায়নের ৪ শতাংশ খরচ করা যাবে। আর উভয় ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট বছরে পরিশোধিত মোট অ্যানুয়িটির ১ শতাংশ ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করা যাবে। তবে একক প্রিমিয়াম পলিসির ক্ষেত্রে খরচ করা যাবে আদায়কৃত প্রিমিয়ামের ৫ শতাংশ পর্যন্ত।
অপরদিকে পেইড আপ পলিসি’র ক্ষেত্রে মোট বীমা অংকের বাৎসরিক গড়ের (পুনর্বীমা বাদে) ০.০৫ শতাংশ খরচ করা যাবে। আর গোষ্ঠী বীমা পলিসির ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ব্যয় করা যাবে বৎসরে পরিশোধিত প্রিমিয়ামের ১০ শতাংশ।
দফা (১), (২) ও (৩) ব্যতীত অন্যান্য সকল পলিসির ক্ষেত্রে লাইফ বীমাকারীর ব্যবসার সময়কাল বা বয়স- ১ থেকে ৫ বছর হলে প্রথম বর্ষ প্রিমিয়ামের ৮৫ শতাংশ এবং নবায়ন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ খরচ করা যাবে। আর ব্যবসার সময়কাল বা বয়স- ৬ থেকে ১০ বছর হলে প্রথম বর্ষ প্রিমিয়ামের ৮৪ শতাংশ এবং নবায়ন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ ব্যয় করা যাবে ব্যবস্থাপনা খাতে।
লাইফ বীমা কোম্পানির ব্যবসার সময়কাল বা বয়স যদি ১০ বছর বা তদুর্ধ্ব হয় তাহলে প্রথম বর্ষ মোট প্রিমিয়ামের প্রথম ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ৮২ শতাংশ খরচ করতে পারবে। আর ১০০ কোটি টাকার বেশি কিন্তু অনূর্ধ্ব ৫০০ কোটি টাকা হলে ৮১ শতাংশ এবং ৫০০ কোটি টাকার বেশি হলে ৭৬ শতাংশ খরচ করতে পারবে। তবে নবায়ন প্রিমিয়ামের ক্ষেত্রে ১০ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়সের কোম্পানির জন্য সকল অবস্থায় সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ব্যয়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে।
নন-লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যাবসায় ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণী বিধিমালা, ২০১৮ এর সংশোধনী প্রস্তাবের উপর মতামত প্রদান সংক্রান্ত চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘বিদ্যমান নন- লাইফ ইন্স্যুরেন্স ব্যবসা ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণী বিধিমালা, ২০১৮ এ বর্ণিত পরিমাণ অনুযায়ী নন-
লাইফ বীমাকারীসমূহ কর্তৃক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয় করায় বীমাকারীর আর্থিক সক্ষমতাতে বিরুপ প্রভাব পড়ছে এবং বীমাদাবী যথাযথভাবে ও যথাসময়ে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে। যা, বীমা শিল্পের জন্য ক্ষতিকারক। বীমার প্রতি গ্রাহকদের আস্থা অক্ষুন্ন রাখা এবং বীমা দাবি যথাসময়ে পরিশোধের সক্ষমতা নিশ্চিতকল্পে ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংকোচন করা প্রয়োজন মর্মে কর্তৃপক্ষের নিকট পরিলক্ষিত হওয়ায় বীমাকারীর ব্যবস্থাপনা ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বিষয়োক্ত বিধিমালার একটি সংশোধন খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে (সংযুক্ত)। প্রস্তুতকৃত খসড়া প্রজ্ঞাপন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন/বিশেষজ্ঞ/জনসাধারণের সুচিন্তিত মতামত আগামী ১৫ (পনের) দিনের মধ্যে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
প্রস্তাবিত বিধিমালায় নন-লাইফ বীমাকারীর গ্রস প্রিমিয়াম আয়ের ওপর নির্ভর করে অগ্নি, অন্যান্য ও নৌ বীমার প্রিমিয়ামের হার ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম ১৫ কোটি টাকার জন্য অগ্নি ও অন্যান্য বীমায় ২৫% এবং নৌ বীমায় ১৬% হার প্রযোজ্য থাকছে।
পরবর্তী প্রতি ১৫ কোটি টাকার জন্য এই হার ক্রমান্বয়ে কমে ২০–১৪% (অগ্নি ও অন্যান্য বীমা) এবং ১২–৭% (নৌ বীমা) পর্যন্ত পৌঁছাবে। ৩০ কোটি টাকার পর বীমাকারীর জন্য নির্ধারিত হার সর্বোচ্চ ১২% (অগ্নি ও অন্যান্য বীমা) ও ৬% (নৌ বীমা)।
কোনো প্রতিষ্ঠান এর বেশি কমিশন, প্রচার বা প্রশাসনিক ব্যয় করতে পারবে না।#
Posted ০৮:৩১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com