নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ প্রিন্ট ৮৬ বার পঠিত
বাংলাদেশের শিল্পখাতে জ্বালানি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে টেকসই শিল্পায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে এমন প্রত্যাশা জানিয়েছেন শিল্প ও জ্বালানি খাতের নীতি-নির্ধারক ও ব্যবসায়ী নেতারা। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) যৌথভাবে ‘বাংলাদেশের শিল্পখাতে জ্বালানি সক্ষমতা নীতিমালা: টেকসই উন্নয়নের পথ নির্দেশনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব মতামত উঠে আসে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) ডিসিসিআই মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দেশের শিল্পখাতকে প্রতিযোগিতামূলক রাখতে জ্বালানি ব্যবস্থায় দ্রুত সংস্কার, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, শিল্পখাতের গতি বাড়াতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প উৎপাদন আবারও গতিশীল হয়ে উঠতে পারে। তিনি শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যয় কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
প্রধান অতিথি বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ালে আমদানিনির্ভরতা কমে যাবে। তিনি জানান, জ্বালানি খাতে দক্ষতার হার বাড়ানোর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। রপ্তানিমুখী শিল্পে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও উন্নত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও সানেম নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, মাস্টারপ্ল্যানের পাশাপাশি সহায়ক নীতিমালা ও প্রণোদনা কাঠামো তৈরি হলে শিল্পখাতে জ্বালানি সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে। তিনি বলেন, সঠিক এনার্জি অডিট, আধুনিক গ্রিড ও কার্যকর নীতি প্রয়োগ শিল্পখাতকে নতুন মাত্রায় উন্নীত করতে পারে। বিইপিআরসি সদস্য ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি খাতে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুযোগ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। গত অর্থবছরে উচ্চ আমদানি ব্যয় দেশীয় উৎসে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা মনে করেন শুল্ক কাঠামো আধুনিকায়ন, পিক ও অফপিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং এলপিজি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রণোদনা বাড়ানো হলে শিল্প উৎপাদন আরও গতিশীল হবে। তৈরি পোশাক শিল্পসহ রপ্তানিমুখী খাত ইতোমধ্যেই নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে যা দেশের সবুজ শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করবে।
ইডকলের উপপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম মনিরুল ইসলাম বলেন, নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হলে ‘গ্রীন বন্ড’সহ নতুন অর্থায়নের পথ উন্মুক্ত হবে এবং উদ্যোক্তারা জ্বালানিদক্ষ প্রযুক্তিতে আরও বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। বিজিএমইএ সহসভাপতি বিদিয়া অমৃতা খান জানান, বৈশ্বিক ক্রেতারা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন, অথচ জাতীয় গ্রিডে এ খাতের অবদান মাত্র ৪ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে নীতি সহায়তার ঘাটতি ও অর্থায়নের জটিলতা বড় বাধা। সভায় বক্তারা এক অভিন্ন মত প্রকাশ করেন যে জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানো, সরবরাহ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে কেন্দ্র করে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশ দ্রুতই টেকসই শিল্পায়নের পথে এগিয়ে যাবে।
Posted ০৬:২০ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com