বিবিএনিউজ.নেট
শনিবার, ২২ জুন ২০১৯ প্রিন্ট ৭০৮ বার পঠিত
বাজেটে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কর পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আর এ নিয়েই তৈরি হয়েছে কোনো কোনো গ্রাহকের বিভ্রান্তি। এত দিন যারা পাঁচ শতাংশ উৎসে কর দিয়ে আসছেন, তাদের জন্য কি এই হার বহাল থাকবে? নাকি নতুন ও পুরোনো সবার জন্যই আগামী ১ জুলাই থেকে ১০ শতাংশ উৎসে কর চালু হবে? যারা মুনাফার টাকা তোলেননি, তাদের ক্ষেত্রেই বা কী নিয়ম হবে?
এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের পরিচালক আবু তালেব বলেন, বাজেট পাস হওয়ার আগে বর্তমানে যে নিয়ম আছে, সে নিয়মই থাকবে। তবে যারা পাঁচ শতাংশ উৎসে কর দিয়েই মুনাফার টাকা তুলতে চান, তাদের উচিত হবে ৩০ জুনের মধ্যেই তা তুলে ফেলা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা বলছেন, ১০ শতাংশ উৎসে কর ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে। যারা এখনো মুনাফার টাকা তোলেননি এবং যারা ৫ শতাংশ উৎসে কর দিয়েই মুনাফার টাকা তুলতে চান, তাদের উচিত হবে ৩০ জুনের মধ্যেই তা তুলে ফেলা। সেক্ষেত্রে তাদের বাড়তি কর দিতে হবে না। উৎসে কর দ্বিগুণ করার কারণে সমাজের সীমিত আয় ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির সঞ্চয়পত্র গ্রাহকদের আয় কমে যাবে। যেমন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের কারণে কোনো গ্রাহক যদি মাসে পাঁচ হাজার টাকা মুনাফা পেয়ে থাকেন, ১ জুলাইয়ের পর থেকে তিনি পাঁচ হাজার থেকে ৫০০ টাকা কম পাবেন। ব্যাংকের কাছ থেকে এ টাকা বুঝে নেবে এনবিআর।
আগামী অর্থবছরের জন্য উপস্থাপিত বাজেট বক্তৃতায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার বা উৎসে কর নিয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল কোনো কথা বলেননি। বলেছেন, সঞ্চয়পত্রের কেনাবেচার ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের কাজ চলছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ যে ‘জাতীয় সঞ্চয় স্কিম অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করছে, তাতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি, মুনাফা ও নগদায়নের তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে।
আরও চারটি সম্ভাবনার কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এগুলো হচ্ছে, জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে সঞ্চয়পত্র কেনার ঊর্ধ্বসীমা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, গ্রাহকের আসল ও মুনাফা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হবে, সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে এবং এ খাতে সরকারের সুদ ব্যয় কমে আসবে।
সরকারি চাকরি থেকে সদ্য অবসরে যাওয়া একজন যুগ্ম সচিব বলেন, সঞ্চয়পত্র চালুর দর্শনটা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে একধরনের সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের গ্রাহক কারা, সেই তথ্যই নেই সঞ্চয় অধিদপ্তরে। আর এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিবিদ এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই সঞ্চয়পত্র বেশি কিনছেন এবং করের টাকায় বিপুল অঙ্কের মুনাফাও নিচ্ছেন তারা। গত সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় দেখা গেছে, মন্ত্রী ও সাংসদেরা ১০, ২০ এমনকি ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন।
সঞ্চয়পত্রকে সরকার প্রতিবছরই বাজেটের ঘাটতি অর্থায়ন পূরণের অন্যতম উপায় হিসেবে বিবেচনা করে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য থাকলেও পরে তা বাড়িয়ে ৪৫ হাজার কোটি টাকা করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যত বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি, সরকারের সুদ ব্যয়ও তত বেশি। আগামী অর্থবছরের জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদ ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সুদ বাবদ বরাদ্দ রয়েছে ২৯ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ১৯ হাজার ১০৯ কোটি টাকা।
Posted ১২:৫৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২২ জুন ২০১৯
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com