নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রিন্ট ২০৫ বার পঠিত
দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে সক্ষম হলেও সময়মতো ঋণ আদায়ে ব্যর্থ। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, সঠিক গ্রাহক বাছাই করে ঋণ দিতে পারলে সেই ঋণ অনাদায়ী হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলন ২০২৬- এ বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর দীর্ঘদিন ধরে নানা বিধিনিষেধ আরোপ থাকায় ঋণ কার্যক্রমে অতিরিক্ত সতর্কতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে তারা ঋণ দিতে পারলেও আদায় করতে পারছে না। এ কারণেই অতীতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত রাখতে হয়েছে। তবে ২০০০ সালের আগেও সরকারি ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রবাহ ছিল সীমিত, যা কোনোভাবেই টেকসই মডেল নয়।
ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংক আমানত সংগ্রহ করেও যদি তা বৃহৎ অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে না পারে, তাহলে সেই অর্জন সীমিত হয়ে পড়ে। সোনালী ব্যাংক বর্তমানে সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে। এখন সময় এসেছে আরও সাহসীভাবে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের।
তিনি আরও বলেন, কনজিউমার লেন্ডিং ও হাউজ লেন্ডিং আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ খাত হলেও দেশের সরকারি ব্যাংকগুলো এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিশেষ করে কনজিউমার লেন্ডিংয়ে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও অগ্রগতি সীমিত।এখানে বড় পরিসরে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
সোনালী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে গভর্নর বলেন, বর্তমানে ব্যাংকটি আংশিকভাবে কমার্শিয়াল ব্যাংকিং নীতিতে পরিচালিত হচ্ছে। এটিকে আরও বিস্তৃতভাবে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনা করে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
গত বছরের মুনাফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ আয় ব্যাংকের মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক লভ্যাংশ প্রদানে সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গভর্নর জানান, সরকার সোনালী ব্যাংককে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক নীতিতে পরিচালনার স্বাধীনতা দেবে এবং পরবর্তী সরকারও এ ধারা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা করেন। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়াতে সোনালী ব্যাংককে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনপিএল পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদ প্রকাশ করে গভর্নর বলেন, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার এরইমধ্যে ১৮ শতাংশ থেকে কমেছে এবং আরও কমবে বলে আশা করা যায়। তবে ঋণ বিতরণের পরিমাণ বাড়ানো জরুরি।
সবশেষে তিনি বলেন, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখতে হবে এবং মাঠপর্যায়ের সক্ষম উদ্যোক্তা ও ভালো এসএমই গ্রাহকদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে রপ্তানি খাতে সোনালী ব্যাংকের ভূমিকা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান গভর্নর।
Posted ০৩:০৮ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com