বিবিএনিউজ.নেট
বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০ প্রিন্ট ৪৭৯ বার পঠিত
শ্রীলংকার চা শিল্পের ১৫০ বছরের গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে সিলন চা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কিন্তু কয়েক বছর ধরে গৌরবের এ ইতিহাসে ভাটা পড়ছে। এজন্য পানীয় পণ্যটির মান ও গুণাগুণ বজায় রাখার প্রয়াসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে হাঁটছে দক্ষিণ এশিয়ার এ দ্বীপরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে নতুন বছর থেকে সিলন চা রফতানিতে যুক্ত কারখানাগুলোর জন্য গুড ম্যানুফ্যাকচারিং পলিসি বা ভালো উৎপাদন নীতি (জিএমপি) সনদ বাধ্যতামূলক করেছে টি বোর্ড অব শ্রীলংকা। খবর সিনহুয়া।
জিএমপি সনদ পেতে হলে প্রস্তুতকারকদের অবশ্যই তাদের পণ্যগুলো ব্যাচ থেকে ব্যাচ পর্যন্ত উচ্চতর মান পূরণ করতে হবে। প্রতিটি শিল্পকে নিয়ন্ত্রণ করা জিএমটির বিষয়গুলো আলাদা হতে পারে। তবে এটির মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর সম্ভাব্য ক্ষতি রোধ করা।
বর্তমানে শ্রীলংকার চা রফতানি কারখানাগুলোর মধ্যে কেবল ৮০ শতাংশের জিএমপি সনদ রয়েছে। মানসম্পন্ন ব্যবস্থার কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে রফতানিতে যুক্ত সম্প্রদায়কে উৎসাহিত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
টি বোর্ড অব শ্রীলংকার চা কমিশনার ইএজেকে এদিরিসিং বলেন, ২০১৯ সালে দেশের চা শিল্পকে বাধ্যতামূলক জিএমপি সনদের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। এখন এটি ২০২১ সাল থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগামী বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করার সময় রফতানিতে যুক্ত কারখানাগুলোকে অবশ্যই জিএমপি সনদ নিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় জিএমপি সনদের জন্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কারখানাগুলো মূল্যায়ন করা হবে এবং মান পরীক্ষায় কেবল ৮০ শতাংশের বেশি নম্বর পাওয়াদের চা রফতানির অনুমতি দেয়া হবে। এখানে শুধু প্রশাসনিক ব্যয় রয়েছে, আর কিছু নয়। আর টি বোর্ড অব শ্রীলংকার কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
এদিরিসিং বলেন, কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া চায়ের মান নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মহামারীর কারণে মান নিয়ন্ত্রণ সনদ আগের চেয়ে আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ মান ও মানের সনদ বাজার ও গ্রাহক উভয়ের জন্যই সুবাতাস নিয়ে আসবে।
বিশ্বের চতুর্থ শীর্ষ চা উৎপাদনকারী দেশ শ্রীলংকা। পানীয় পণ্যটির বৈশ্বিক রফতানিকারকদের তালিকায় দেশটি তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। দেশটি চায়ের বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ১১ দশমিক ৩ শতাংশের জোগান দেয়। তবে চলতি বছর করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দেশটিতে চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। উৎপাদনের পাশাপাশি রফতানিও কমতির দিকে রয়েছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে দেশটির চা রফতানি রেকর্ড পরিমাণ কমেছে।
দেশটি থেকে পনীয় পণ্যটির শীর্ষ তিন রফতানিকারক হলো তুরস্ক, ইরাক ও রাশিয়া। যদিও ইরান, চীন, আজারবাইজান ও চিলি দেশটি থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চা আমদানি করে। এছাড়া সৌদি আরব ও ইউক্রেনও সিলন চা আমদানিতে ঝুঁকছে। আবার লিবিয়া, সিরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রীলংকার চা রফতানি গত বছরের তুলনায় এবার কমতির দিকে রয়েছে।
Posted ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২০
bankbimaarthonity.com | Sajeed
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com