নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট ৮২ বার পঠিত
ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির (ইবিএল) চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধানসহ সরকারের আটজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এ নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ।
নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, মো. শওকত আলী চৌধুরী সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিক এবং ব্যাংক খাতের আলোচিত দুই ব্যবসায়ী এস আলম ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। অভিযোগে বলা হয়, তার নামে থাকা ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দুবাইয়ে স্থানান্তরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য পাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। কেন এমনটি হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
নোটিশে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং প্রকৃত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আইনজীবীর দাবি, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিদেশে গড়ে তোলা সম্পদের তদন্ত চলাকালে যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শওকত আলী চৌধুরীর নামে থাকা ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তথ্য শনাক্ত করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই অর্থ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত মাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডিতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
নোটিশে আরও বলা হয়, যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক লেনদেনটি সাময়িকভাবে আটকে রেখে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করে। একই সঙ্গে জানানো হয়, নির্ধারিত চার সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশ যদি সম্পদ জব্দের আদেশ বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন না করে, তাহলে অর্থ আটকে রাখা সম্ভব হবে না। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় অর্থটি শেষ পর্যন্ত দুবাইয়ে স্থানান্তরিত হয় এবং রাষ্ট্র সম্ভাব্যভাবে অর্থ উদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারায়।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ২০২৫-২৬ করবর্ষে ১৩৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ দেখিয়ে বিদেশে থাকা সম্পদ বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে আইনজীবীর দাবি, বিদেশে পাচার করা সম্পদ কেবল কর পরিশোধের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেশের বিদ্যমান আইনে নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুসারে এটি একটি স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ জুন ও ৩০ জুলাই বিএফআইইউ শওকত আলী চৌধুরী এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছিল। পাশাপাশি বিএফআইইউর অনুসন্ধানে ২৮টি ব্যাংকের ১৮৭টি হিসাবে প্রায় ৮ হাজার ৪০৭ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন এবং বিভিন্ন শেল কোম্পানির মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ গঠনের তথ্য উঠে এসেছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও তদন্ত কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি পায়নি। এ অবস্থায় ২৫ মিলিয়ন ডলার সংক্রান্ত সব গোয়েন্দা তথ্য ও নথি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) চলমান অনুসন্ধানের স্বার্থে হস্তান্তরের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইনের আলোকে একটি তফসিলি ব্যাংকের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এত গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত চলমান থাকলে তিনি ওই পদে বহাল থাকার ক্ষেত্রে ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন কি না, তা দ্রুত পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ নিয়ে কয়েকটি জাতীয় সংবাদ মাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. শওকত আলী চৌধুরীর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ইবিএল-এর কোম্পানি সেক্রেটারীর কাছে ফোন দিলে তিনি জনসংযোগ বিভাগের জিয়াউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে একাধিকবার ফোন দিলেও জিয়াউল করিম ফোন ধরেননি এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তার কোন উত্তর দেননি।
Posted ০৫:৩১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com