Ad
x

প্রান্তিক মানুষের বীমা সুরক্ষায় অভিন্ন মাইক্রোইন্স্যুরেন্স কাঠামো তৈরির উদ্যোগ

শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৩৯ বার পঠিত

প্রান্তিক মানুষের বীমা সুরক্ষায় অভিন্ন মাইক্রোইন্স্যুরেন্স কাঠামো তৈরির উদ্যোগ

দেশের প্রান্তিক, নিম্ন আয়ের এবং আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বীমা সুরক্ষার পরিধি বাড়াতে অভিন্ন মাইক্রোইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। এ লক্ষ্যে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায় এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সঙ্গে সমন্বয় করে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং ইউএনডিপির প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে দেশের মাইক্রোইন্স্যুরেন্স খাতের বর্তমান বাস্তবতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মাইক্রোইন্স্যুরেন্স কার্যক্রম বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও এর জন্য পৃথক কোনো আইন বা সমন্বিত নিয়ন্ত্রক কাঠামো ছিল না। ফলে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, সমবায়ভিত্তিক সংগঠন, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা এবং সীমিত পরিসরে পরিচালিত বীমা উদ্যোগগুলো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। এতে গ্রাহক সুরক্ষা, পণ্যের মান, দাবি নিষ্পত্তি এবং তদারকিতে এক ধরনের নীতিগত অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে।

আইডিআরএর চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন বৈঠকে বলেন, পৃথক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অভাবে মাইক্রোইন্স্যুরেন্স খাত দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। নতুন ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান, সমবায়, তাকাফুলভিত্তিক উদ্যোগ এবং অন্যান্য বিদ্যমান মডেলকে একটি সমন্বিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও সহজে আর্থিক সুরক্ষা পাবে এবং খাতটি একটি সুসংগঠিত ভিত্তি অর্জন করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য একটি জনগোষ্ঠী এখনও প্রচলিত বীমা ব্যবস্থার বাইরে রয়েছে। উচ্চ প্রিমিয়াম, সীমিত পণ্য , আর্থিক সচেতনতার অভাব এবং সহজলভ্যতার সংকটের কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বীমা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

মাইক্রোইন্স্যুরেন্স মূলত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কম প্রিমিয়ামে জীবন, স্বাস্থ্য, কৃষি, গবাদিপশু এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির বিপরীতে আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণীত হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বীমা অন্তর্ভুক্তি বাড়বে;গ্রাহক সুরক্ষা ও দাবি নিষ্পত্তির মান উন্নত হবে;
ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত বীমা কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়বে;ডিজিটাল মাইক্রোইনস্যুরেন্স চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে; সরকারের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, ইউএনডিপির কারিগরি সহায়তায় এবং মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সঙ্গে সমন্বয় করে আইডিআরএ একটি অভিন্ন রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কের খসড়া প্রস্তুত করছে। এতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, স্থানীয় বাস্তবতা এবং বিদ্যমান পরিচালন কাঠামো বিবেচনায় নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমআরএর অভিজ্ঞতা এবং আইডিআরএর নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার সমন্বয় ভবিষ্যতে একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে বীমা খাতের প্রসারে বহুদিন ধরেই অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতিমালার প্রয়োজনীয়তার কথা আলোচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, কৃষি ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপের প্রেক্ষাপটে মাইক্রোইনস্যুরেন্সকে সামাজিক নিরাপত্তার একটি কার্যকর আর্থিক উপকরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত অভিন্ন রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়িত হলে শুধু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বীমা সুরক্ষাই বাড়বে না, বরং দেশের বীমা শিল্পে নতুন গ্রাহকভিত্তি তৈরি হবে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।#

Facebook Comments Box

Posted ০৮:১৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com