Ad
x
মিউনিখ রি’র জরিপ

সাইবার হামলা বাড়লেও বীমা সচেতনতা কম, ৩২% জানেই না এমন বীমা আছে

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৭৬ বার পঠিত

সাইবার হামলা বাড়লেও বীমা সচেতনতা কম, ৩২% জানেই না এমন বীমা আছে

বিশ্বজুড়ে সাইবার হামলা ও অনলাইন জালিয়াতির ঝুঁকি দ্রুত বাড়লেও ব্যক্তিগত সাইবার বীমা সম্পর্কে সচেতনতা এখনও উদ্বেগজনকভাবে কম। ব্যক্তিগত সাইবার বীমা নেই এমন মানুষের মধ্যে ৩২ শতাংশই জানেন না যে এ ধরনের বীমা পণ্য বাজারে বিদ্যমান।

পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান মিউনিখ রি এর ‘গ্লোবাল সাইবার রিস্ক অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স সার্ভে ২০২৬’ এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে ২০টি দেশের ৯ হাজার ৫০০ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে।

জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা জীবনের কোনো না কোনো সময় সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন বা এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ঘটেছে অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা, ম্যালওয়্যার আক্রমণ, ভুয়া ব্যাংক লেনদেন, তথ্য চুরি এবং পরিচয় (Identity) চুরির ঘটনা।

তবুও, যাদের ব্যক্তিগত সাইবার বীমা নেই, তাদের মধ্যে ৪১ শতাংশ জানান যে তারা ভবিষ্যতেও এমন কোনো বীমা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না। অন্যদিকে ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তারা ব্যক্তিগত সাইবার বীমা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।

জরিপে আরও দেখা গেছে, সাইবার বীমা না নেওয়ার পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে -৩২% জানেন না যে এমন বীমা রয়েছে; ৩১% বীমার প্রিমিয়ামকে ব্যয়বহুল মনে করেন; ১৯% বীমা কী কভার করে তা বোঝেন না; ১৪% মনে করেন, তারা সাইবার ঝুঁকির মধ্যে নেই।

Munich Re জানিয়েছে, ব্যক্তিগত সাইবার বীমা অনলাইন শপিং প্রতারণা, অননুমোদিত আর্থিক লেনদেন, ভুল অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানোসহ বিভিন্ন আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে পারে।

এছাড়া ফিশিং বা অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার সাইবার রেসপন্স সেবা, ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্ট সুরক্ষায় সহায়তা এবং অতিরিক্ত আর্থিক ক্ষতি কমানোর সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

পরিচয় চুরির ক্ষেত্রে বীমার আওতায় পরিচয় পুনরুদ্ধার, ক্রেডিট এজেন্সির সহায়তা, আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা এবং হারিয়ে যাওয়া তথ্য পুনরুদ্ধারের ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

জরিপে দেখা যায়, ব্যক্তিগত সাইবার বীমার প্রতি আগ্রহ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ২০২১ সালে যেখানে ২৮ শতাংশ মানুষ এ ধরনের বীমা নেওয়ার কথা ভাবছিলেন, তা ২০২২ সালে ৩৪ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৩৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালে ৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

যারা সাইবার বীমা গ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ মানসিক নিশ্চয়তাকে (Peace of Mind) প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ৪৩ শতাংশ আর্থিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, ৩৫ শতাংশ বিশেষজ্ঞ সহায়তা, ৩৩ শতাংশ হারিয়ে যাওয়া তথ্য পুনরুদ্ধার এবং ২৪ শতাংশ সাইবার ঝুঁকি বোঝা ও মূল্যায়নে সহায়তার জন্য এ বীমা গ্রহণ করেছেন।

এদিকে মিউনিখ রি ’র তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী সাইবার বীমার বাজার ২০২৫ সালে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সাইবার ঝুঁকির তুলনায় বীমা সুরক্ষার পরিধি এখনও অনেক সীমিত, ফলে সচেতনতা বৃদ্ধি ও বীমা গ্রহণে উৎসাহ দেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্বব্যাপী প্রতারণাজনিত ক্ষতির পরিমাণ বছরে সর্বোচ্চ ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এই হিসাব কেবল ডিজিটাল প্রতারণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৮:২৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com