|

Advertisement
×

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ-আইএফএডির ৩২৪ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ৩১ বার পঠিত

গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ-আইএফএডির ৩২৪ মিলিয়ন ডলারের উদ্যোগ

উপকূল, হাওর ও খরাপ্রবণ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং খাদ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বাস্তবায়িত হবে দুটি প্রকল্প

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়ন এবং টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে ৩২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি বিনিয়োগ কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি)। ছয় বছর মেয়াদি এ দুই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৫ লাখ মানুষকে সুবিধার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্প দুটির আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু-সংক্রান্ত আগাম সতর্কবার্তা ও পূর্বাভাসব্যবস্থা জোরদার, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ এবং পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এই অংশীদারত্বের আওতায় সম্প্রতি ১১২ মিলিয়ন ডলারের ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড লাইভলিহুড এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ (ক্রালেপ) চালু হয়েছে। এতে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ডেনমার্ক সরকার। এর আগে ২১২ মিলিয়ন ডলারের ‘গ্রোথ ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড নিউট্রিশন’ (গ্রিন) প্রকল্প চালু করা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) কো-অর্ডিনেশন অ্যান্ড নর্ডিক উইংয়ের প্রধান মোসলেমা নাজনীন বলেন, প্রায় পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে আইএফএডির অংশীদারত্ব অর্থায়ন, উদ্ভাবন, কারিগরি সহায়তা এবং সফল উদ্যোগের সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রকল্প দুটি ভূমিকা রাখবে। একদিকে জলবায়ুর অভিঘাত সহ্য করতে সক্ষম অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে, অন্যদিকে নিরাপদ জীবিকা নিশ্চিত করতে অর্থায়ন, দক্ষতা ও বাজারসুবিধা বাড়ানো হবে।

হাওর ও বরেন্দ্র অঞ্চলে গুরুত্ব

প্রকল্প দুটির বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্মপরিধি আলাদা হলেও লক্ষ্য একই—জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে ক্রালেপ। প্রকল্পটির আওতায় বন্যাপ্রবণ হাওর এবং খরাপ্রবণ উচ্চ বরেন্দ্র অঞ্চলের ৩৩টি উপজেলার ১৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে ছয় বছরে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রকল্পে গ্রামীণ সড়ক, হাটবাজার ও নৌযান নোঙর করার অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। হাওরাঞ্চলে গ্রামীণ সেবার উন্নয়ন, মানুষ ও ফসল রক্ষায় আশ্রয়কেন্দ্র উঁচু করা এবং নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয় থেকে প্রকৃতি সুরক্ষায়ও সহায়তা দেওয়া হবে।

পাশাপাশি হাওরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা এবং উচ্চ বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা মোকাবিলায় আগাম সতর্কবার্তা ও পূর্বাভাসব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর মাধ্যমে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে কারিগরি ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে শ্রম ঠিকাদারি সমিতির মাধ্যমে সহায়তার উদ্যোগ রয়েছে।

ক্রালেপে আইএফএডি ৭০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করবে। ডেনমার্ক সরকার অনুদান হিসেবে দেবে ১০ মিলিয়ন ডলার এবং বাংলাদেশ সরকারের অবদান থাকবে প্রায় ৩১ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার।

ঢাকায় ডেনমার্ক দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন অ্যান্ডার্স বি কার্লসেন বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা ও জীবিকার উন্নয়নকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়ার উদ্যোগটি সময়োপযোগী। এর মাধ্যমে জলবায়ুর পরিবর্তনশীলতার নেতিবাচক প্রভাব কমানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বাড়ানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্রামীণ উদ্যোক্তা ও খাদ্যব্যবস্থায় বিনিয়োগ

অন্যদিকে, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে গ্রিন প্রকল্প। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন এ প্রকল্পের আওতায় হাওর, উপকূলীয় অঞ্চল, উচ্চ বরেন্দ্র এবং নদীচর এলাকার ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি গ্রামীণ পরিবারকে সহায়তার লক্ষ্য রয়েছে।

গ্রিন প্রকল্পে জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবার পরিধি বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করা হবে।

এতে অর্থায়নের পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং বাজারসংশ্লিষ্ট অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করা হবে। এর ফলে ক্ষুদ্র উৎপাদক ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের আয় বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ ছাড়া নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্যের সরবরাহ বাড়ানো এবং ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষতি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্রিন প্রকল্পে আইএফএডির অর্থায়ন রয়েছে ৫১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার।

আইএফএডির বাংলাদেশে কান্ট্রি ডিরেক্টর ও প্রতিনিধি ভ্যালেন্টাইন আচানচো বলেন, প্রকল্প দুটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যেতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তার বিষয়ে যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের কাজ আলাদা হলেও নারী, তরুণ ও গ্রামীণ পরিবারগুলোর জীবিকার ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং সরকারের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোই এ উদ্যোগগুলোর মূল লক্ষ্য।

প্রায় পাঁচ দশকের অংশীদারত্ব

বাংলাদেশ ও আইএফএডির সহযোগিতা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে। এ পর্যন্ত দুই পক্ষের অংশীদারত্বে ৩৯টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে আইএফএডির নিজস্ব অর্থায়ন প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার।

এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ১ কোটি ১৭ লাখ গ্রামীণ পরিবার উপকৃত হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষি, গ্রামীণ অর্থায়ন এবং কৃষিপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়নে এসব প্রকল্প ভূমিকা রেখেছে।

নতুন ক্রালেপ ও গ্রিন প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং গ্রামীণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা ও জীবিকার নিরাপত্তা বাড়বে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

Facebook Comments Box

Posted ০৪:১৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com