সোমবার ৮ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x
বাড়ছে ভালো-খারাপ সব ব্যাংকেই

খেলাপি ঋণে উদ্বেগ

বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫   প্রিন্ট   ৩৪০ বার পঠিত

খেলাপি ঋণে উদ্বেগ

ভালো-খারাপ প্রায় সব ব্যাংকেই উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাস শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকায়, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ২৭ দশমিক ০৯ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় চার ভাগের এক ভাগ ঋণই এখন আদায়যোগ্য নয় বলে বিবেচিত। গত মার্চের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। তখন খেলাপি ঋণের হার ছিল ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে ব্যাংকগুলো এ রকম তথ্যই উল্লেখ করেছে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুনে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা, যা এ বছরের জুনে বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার সময় খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। এরপর থেকে প্রায় প্রতি বছরই তা বেড়েছে। অর্থনীতিবিদদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ সরকারঘনিষ্ঠ প্রভাবশালীরা নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ তুলে নিয়েছেন, যার একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার হয়ে গেছে।

সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নেতৃত্ব আগের দেওয়া একের পর এক ‘নীতি সুবিধা’ বাতিল করে খেলাপি নির্ধারণে কঠোর হচ্ছে। ফলে ভালো-মন্দ সব ধরনের ব্যাংকেই খেলাপি ঋণ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে ইসলামি ধারার পাঁচ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের গড় খেলাপি ঋণ ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সেগুলোকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ ছাড়া চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক চিত্রও সামনে আসছে। এসব ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংক, আইএফআইসি, ইউসিবি, এনআরবি ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সরকারি খাতের অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকেও খেলাপি ঋণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিতরণ করা বড় অঙ্কের ঋণ এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা নামে-বেনামে নেওয়া ঋণের বড় অংশ এখন ফেরত আসছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অনেক ঋণ আদায় না হওয়ায় এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী খেলাপি হিসাবে শ্রেণিকরণ করায় ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। অনিয়মের কারণে অনেক ঋণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ নবায়নের মাধ্যমে কাগজে-কলমে খেলাপি কম দেখানো হলেও বাস্তবে এসব ঋণ আদায়যোগ্য নয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলেন, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। আবার ঋণ খেলাপি হওয়ার নিয়ম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কারণেও দেশে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। যেসব ঋণ নবায়ন করা হয় তার অনেকগুলো আদায় হচ্ছে না। অনিয়মের কারণে অনেক ঋণ খেলাপি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে খেলাপি ঋণ বাড়ছে, যা সামনে আরও বাড়তে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করে। সেই সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়। পাশাপাশি খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কম দেখাতে নেওয়া হয় একের পর এক নীতি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে খেলাপি হয়ে পড়া ১ হাজার ২০০ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিশেষ বিবেচনায় নবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শতাধিক ব্যবসায়ীকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নীতি-সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ব্যাংকগুলো।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও ঋণ আদায়ে দুর্বলতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে খেলাপি ঋণের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, খেলাপি ঋণের পরিমাণ নিয়ে প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। প্রতিবেদনের কাজ চলছে। বের হতে সময় লাগবে। তাই খেলাপি ঋণ প্রকৃত তথ্য এখন বলা সম্ভব না।

Facebook Comments Box

Posted ০৪:৫৮ অপরাহ্ণ | বুধবার, ৩০ জুলাই ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com