নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ প্রিন্ট ৪৪ বার পঠিত
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার এবং ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির মতে, প্রস্তাবিত কর ও উচ্চ নিবন্ধন ব্যয় বহাল থাকলে আবাসন খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে এবং ফ্ল্যাটের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব দাবি তুলে ধরেন। এ সময় সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে ড. আলী আফজাল বলেন, বর্তমানে আবাসন খাত ক্রেতা সংকট, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা এবং নীতিগত অনিশ্চয়তার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর আরোপ খাতটির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে জমির মালিককে দেওয়া সাইনিং মানির ওপর ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। এর পাশাপাশি প্রস্তাবিত বাজেটে যৌথ উন্নয়ন প্রকল্পে জমির মালিকের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের মূল্যেও ১৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে যৌথ উন্নয়নভিত্তিক প্রকল্প নিরুৎসাহিত হবে এবং নতুন বিনিয়োগ কমে যেতে পারে।
উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৪ ইউনিটের একটি প্রকল্পে জমির মালিক ১২টি ফ্ল্যাট পেলে এবং সেগুলোর মূল্য ১২ কোটি টাকা হলে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর দিতে হবে। এতে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ওপর পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে জমি, ফ্ল্যাট ও ভবন ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর পরিশোধের শর্তে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় রিহ্যাব। সংগঠনটির মতে, দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতির মূলধারার বাইরে থাকা অর্থ উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ পেলে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে।
তবে রিহ্যাবের দাবি, দীর্ঘমেয়াদে একটি সহজ, স্বচ্ছ ও বিনিয়োগবান্ধব কর কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যাতে কর প্রদানে মানুষের আগ্রহ বাড়ে এবং অপ্রদর্শিত অর্থ সৃষ্টির প্রবণতা কমে।
সংগঠনটির নেতারা জানান, বাজেট প্রণয়নের আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠকে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে ১৩ শতাংশের বেশি ব্যয় হওয়ায় সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে দাবি তাদের।
রিহ্যাবের মতে, নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হলে সম্পত্তি লেনদেন বাড়বে, বাজারে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ড. আলী আফজাল বলেন, আবাসন খাত দেশের প্রায় ২৬৯টি শিল্পখাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করছে। তাই খাতটিকে অতিরিক্ত করের বোঝা না দিয়ে নীতিগত সহায়তা প্রদান জরুরি।
রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এক অঙ্কের সুদে গৃহঋণ, সেকেন্ডারি মার্কেট চালু, নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস এবং আবাসনবান্ধব করনীতি প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলো বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। তিনি জাতীয় বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর ১৫ শতাংশ কর প্রত্যাহার, নিবন্ধন ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং আবাসন খাতের জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
Posted ০৭:৩১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com