• আগামী বাজেট ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার

    বিবিএনিউজ.নেট | ০১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১:০১ অপরাহ্ণ

    আগামী বাজেট ৫ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার
    apps

    আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এটি চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া আগামী বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন করা হতে পারে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে সম্পদ কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য আকার নির্ধারণ করে আগামী বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

    চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার পাঁচ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী এপ্রিলে এটি সংশোধন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, সাধারণত বাজেটের আকার এর আগের বছরের তুলনায় গড়ে ১২ শতাংশ বেশি হয়। মূলত রাজস্ব আহরণে ধীরগতির কারণে বড় বাজেটের দিকে যাচ্ছে না সরকার।

    Progoti-Insurance-AAA.jpg

    অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আগামী অর্থবছরের জন্য ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি প্রাক্কলনের প্রস্তাব করেন। তবে অর্থমন্ত্রী এতে সায় দেননি। তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ভালো নয়। সঞ্চয়পত্র বিক্রিও কমে গেছে। এ অবস্থায় বড় বাজেট করলে ঘাটতি বাড়বে। ঘাটতি মেটাতে হলে ব্যাংক থেকে টাকা ধার করতে হবে বেশি করে। ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বাড়লে মূল্যস্ম্ফীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফলে পণ্যমূল্যের দাম বাড়বে এবং সাধারণ জনগণ চাপে পড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    বৈঠকে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন তা ৫ শতাংশের বেশি না হয়। এসব বিষয় মাথায় রেখে আগামী বাজেট চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের বাজেট বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার খসড়া তৈরি করছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হবে।


    অপর এক কর্মকর্তা বলেন, বৈঠকে আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার প্রাক্কলনের বিষয়ে দুটো হিসাব উপস্থাপন করা হয়। একটি হচ্ছে ছয় লাখ পাঁচ হাজার কোটি টাকা। অপরটি পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী জানান, রাজস্ব আহরণের অবস্থা ভালো নয়। ফলে বাজেটের আকার বেশি বড় করার সুযোগ কম। তাই আগামী বাজেটের সম্ভাব্য আকার পাঁচ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করে কাজ শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এটি প্রাথমিক হিসাব। মার্চ কিংবা এপ্রিলে সম্পদ কমিটির বৈঠকে আকার চূড়ান্ত করা হবে।

    এ কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনর ফজলে কবির, এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থসচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদসহ বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে রাজস্ব আহরণ নিয়ে বেশি আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। এবার এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় সোয়া তিন লাখ কোটি টাকা। অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে রাজস্ব আদায়। এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয় ৭ শতাংশের কাছাকাছি। রাজস্ব আয়ের ধীরগতির কারণে কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী এর কারণ জানতে চান। এখনও ইলেকট্রনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার ও আধুনিক স্ক্যানার মেশিন না বসানোর বিষয়ে জানতে চান তিনি।

    রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রবৃদ্ধি কমে গেলেও গত অর্থবছরের তুলনায় আদায় পরিমাণগত বেড়েছে। এ ছাড়া পোশাক, এলএনজি গ্যাসসহ বিভিন্ন খাতে শুল্ক্ক-কর ছাড়ের ফলে এর প্রভাব পড়েছে। তবে নভেম্বর থেকে আদায়ে গতি বেড়েছে। এ ধারাবাহিকতা চলতে থাকলে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস ও স্কেনার মেশিন চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

    বৈঠকে আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য জিডিপির আকার নিয়েও আলোচনা হয়। সূত্র বলেছে, আগামী বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে। চলতি বাজেটে যা ধরা হয় ৮ দশমিক ২ শতাংশ। তবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না বলে আভাস দিয়েছে। সংস্থাগুলো বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি হতে পারে ৭ শতাংশ বা এর চেয়ে কিছু বেশি।

    Facebook Comments Box

    বাংলাদেশ সময়: ১:০১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০১৯

    bankbimaarthonity.com |

    এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

    রডের দাম বাড়ছে

    ১৩ জানুয়ারি ২০১৯

    Archive Calendar

    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
     
    ১০
    ১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
    ১৮১৯২০২১২২২৩২৪
    ২৫২৬২৭২৮  
  • ফেসবুকে ব্যাংক বীমা অর্থনীতি