নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 157 বার পঠিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে নতুন নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় আজ রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকেই মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসেস বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দৈনিক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে একজন গ্রাহক প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন।
এই সীমা আজ রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। অর্থাৎ টানা চার দিন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বড় অঙ্কের লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। এই সময়ে গ্রাহকেরা শুধুমাত্র নির্ধারিত সীমার মধ্যেই (পি-টু-পি লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১ হাজার এবং লেনদেনের সর্বোচ্চ সংখ্যা ১০টি) অর্থ পাঠানো, গ্রহণ, বিল পরিশোধ, কেনাকাটা ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) করতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন অবৈধ অর্থপ্রবাহ, অনিয়ন্ত্রিত লেনদেন, অর্থপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা ও সন্দেহজনক আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে না পারে সে লক্ষ্যেই এই সীমা আরোপ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই সাময়িক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আর্থিক ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব মোবাইল ব্যাংকিং ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত সীমার বাইরে কোনো লেনদেন অনুমোদন করা যাবে না এবং প্রতিটি লেনদেন নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করতে হবে। ফলে মোবাইল ব্যাংকিং খাতের সব সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এনে এই সীমা কার্যকর করতে হয়েছে।
এই নতুন নিয়মের ফলে সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়বে। যেসব মানুষ নিয়মিত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লেনদেন, বেতন পরিশোধ, পণ্য কেনাবেচা, অনলাইন সেবা গ্রহণ, ই-কমার্স লেনদেন ও ডিজিটাল বিল পরিশোধ করেন, তাদের জন্য বড় অঙ্কের লেনদেন আপাতত সীমিত হয়ে গেল। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল বা সরাসরি ব্যাংক লেনদেনের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, অনলাইন উদ্যোক্তা, পরিবহন খাত, ক্ষুদ্র সেবা প্রতিষ্ঠান এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মনির্ভর ব্যবসায়ীদের জন্য এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কিছু চাপ তৈরি করতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই এই নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজনীয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সময়ে আর্থিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বড় অঙ্কের দ্রুত লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের অস্বাভাবিক প্রবাহ, অবৈধ লেনদেন, রাজনৈতিক অর্থায়ন এবং ডিজিটাল জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই সীমা আরোপের মাধ্যমে সেই ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত দেশের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর শক্ত অবস্থানও নির্দেশ করে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকা বজায় রাখতে চায়, এই পদক্ষেপ তারই প্রতিফলন।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনকে সামনে রেখে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক ১০ হাজার টাকার সীমা আরোপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় বরং এটি দেশের আর্থিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা এবং ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে রাখার একটি কৌশলগত উদ্যোগ। চার দিনের এই সীমিত সময় শেষে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
Posted ৭:২৬ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy


