সোমবার ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

বড় শিল্পগ্রুপের কর ফাঁকির অভিযোগ পর্যালোচনা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ১৩৫ বার পঠিত

বড় শিল্পগ্রুপের কর ফাঁকির অভিযোগ পর্যালোচনা হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

বড় শিল্পগ্রুপগুলোর সম্ভাব্য কর ফাঁকি পুনরায় পর্যালোচনা করছে সরকার। একইসঙ্গে সামষ্টিক অর্থনীতির সংকট মোকাবিলা, নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রাজস্ব আহরণ জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকটি বড় শিল্পগ্রুপের কর ফাঁকির অভিযোগ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যে তদন্ত শুরু হয়েছিল, তা এখন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “এটা শুধু একটি বিষয় নয়, অনেকগুলো বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। সবকিছুই এখন পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।”

২০২৪ সালের আগস্টে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল বেক্সিমকো, সামিট ও এস আলমসহ কয়েকটি শিল্পগ্রুপের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্ত শুরু করে। সে সময় কিছু বকেয়া কর আদায়ও করা হয়েছিল।

নতুন সরকারের সামনে বাজেট প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, “আমরা যে অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, তা খুব ভালো অবস্থায় নেই। সেখান থেকে অর্থনীতিকে উদ্ধার করতে হবে। একইসঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”

তার ভাষায়, “একদিকে অর্থনীতিকে স্যালভেজ করতে হবে, অপরদিকে মেনিফেস্টোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এটি একটি থ্রি-ওয়ে বা ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ।”

এই পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে রিসোর্স মোবিলাইজেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “রিসোর্স মোবিলাইজেশন করতে না পারলে এসব লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে না।”

চলতি বছর বাংলাদেশের সম্ভাব্য এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি বর্তমানে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) বিবেচনার জন্য যাবে এবং সেখান থেকে অনুমোদন পেলে তা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করা হবে।’’

কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর লক্ষ্যে ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির দিকে যেতে হবে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘সরকার টাকা ছাপিয়ে অর্থনীতিকে সচল রাখতে চায় না; বরং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।’’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের দেশে প্রায়ই দেখা যায়, একটি নীতি প্রণয়ন করার পর কিছুদিনের মধ্যেই তা পরিবর্তন করা হয়, যা বিনিয়োগকারীদের কাছে নেতিবাচক বার্তা দেয়। আমরা চাই, নীতিগুলো দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকুক, যাতে বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিন্তে পরিকল্পনা করতে পারেন।”

বৈঠকে এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানসহ আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

Posted ০৪:৩১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com