নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 182 বার পঠিত

আসন্ন পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি, মজুদ, সরবরাহ ব্যবস্থা ও মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)।
আজ সকালে এফবিসিসিআইয়ের মতিঝিল কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান। সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, এবারের রমজান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ জাতীয় নির্বাচনের পরপরই রোজা শুরু হচ্ছে। ফলে বাজার ব্যবস্থাপনায় বাড়তি দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় খুচরা ও পাইকারি বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, পেঁয়াজসহ প্রধান নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো বিঘ্ন না ঘটলে রমজান মাসে এসব পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই বলেও মত দেন তাঁরা। তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ চেইনের বিভিন্ন স্তরে চাঁদাবাজি ও অযৌক্তিক ব্যয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে ভোক্তাদের উদ্দেশে তাঁরা অনুরোধ জানান প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কিনে কৃত্রিম সংকট তৈরি না করতে।
ব্যবসায়ীরা বলেন, রমজান এলেই বাজার তদারকির নামে খুচরা ব্যবসায়ীদের হয়রানি বাড়ে যা সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ পরিস্থিতি নিরসনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও এফবিসিসিআইয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা। তাঁদের মতে, বাজার অস্থিতিশীলতার জন্য প্রান্তিক ব্যবসায়ীরা দায়ী নয় বরং বড় আমদানিকারক ও করপোরেট সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আবুল হাশেম বলেন, মিল পর্যায়ে নিয়মিত সরবরাহ বজায় থাকলে চিনির বাজারে কোনো ঘাটতি তৈরি হবে না। বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. গোলাম মাওলা বলেন, শুধু খুচরা বাজারে নজরদারি বাড়িয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বড় শিল্পগোষ্ঠী ও আমদানিকারক পর্যায়ে কার্যকর তদারকি জোরদার করতে পারলেই বাজারে প্রকৃত স্থিতিশীলতা আসবে।
এ সময় মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার জানান, রমজানের অতিরিক্ত চাহিদা মোকাবিলায় ভোজ্যতেল ও চিনির পর্যাপ্ত মজুদ ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে নির্বাচন কেন্দ্রিক ছুটির কারণে বন্দর কার্যক্রম, পরিবহন ব্যবস্থা ও কাস্টমস প্রক্রিয়ায় সাময়িক ধীরগতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কাঁচাবাজার বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা জানান, রমজানে শাকসবজি ও কাঁচাপণ্যের বাজার ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেই থাকবে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লেবু ছাড়া অধিকাংশ কাঁচা পণ্যের দাম স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে।
তবে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেন কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট এবং নির্বাচন-পরবর্তী প্রশাসনিক রূপান্তরকালীন সময়ে বাজার তদারকিতে শিথিলতা দেখা দিতে পারে যা কিছু অসাধু মহল সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান বলেন, বড় শিল্পগোষ্ঠী ও সরবরাহকারীদের প্রতি সংগঠনের অনুরোধ রমজানে যেন বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত না হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী (খোকন), খন্দকার রুহুল আমিন, মো. আবুল হাশেম, এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর, এফবিসিসিআই সেইফটি কাউন্সিলের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবু নাঈম মো. শাহিদউল্লাহসহ সাধারণ পরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন বণিক সংগঠনের নেতা, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, টিসিবি, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর কর্মকর্তারা।
Posted ৬:৩১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy


