অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১৩ বার পঠিত
ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের জুবলী রোড শাখা থেকে ভুয়া ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে প্রায় ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী রুকমীলা জামানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি করেন।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে পণ্য কেনাবেচার জাল নথি তৈরি করা হয়েছিল। বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই এসব নথির ভিত্তিতে ব্যাংক থেকে ঋণের অর্থ তুলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এভাবে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরামিট সিমেন্ট পিএলসির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ আলম, প্রতিষ্ঠানটির এজিএম একেএম মারুফ, আরামিট গ্রুপের কর্মচারী ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তা।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট শাখায় আরামিট সিমেন্টের নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়।
ওই বছরের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ নভেম্বর ব্যাংকের ক্রেডিট কমিটির ৫১তম সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটি ঋণটি অনুমোদন করে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে ৫৪টি বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে মোট ২০৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বর্তমান মামলাটি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আরামিট গ্রুপের কর্মচারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী হিসেবে উপস্থাপন করে ক্লাসিক ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। প্রতিষ্ঠানটির নামে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ঋণ পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়।
এসব নথিতে ক্লাসিক ট্রেডিংকে পণ্যের সরবরাহকারী এবং আরামিট সিমেন্টকে পণ্য গ্রহণকারী হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে দুদকের অভিযোগ।
তদন্তকারী সংস্থাটির দাবি, বাস্তবে কোনো পণ্য সরবরাহ না করেই সরবরাহসংক্রান্ত ভুয়া ও মিথ্যা তথ্যসংবলিত কাগজপত্র ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। এসব নথির ভিত্তিতে বাই-মুরাবাহা ডিল অনুমোদন করিয়ে ঋণের অর্থ উত্তোলন করা হয়।
পরে উত্তোলিত অর্থ আরামিট গ্রুপের কর্মচারীদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিং করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগগুলো এখন তদন্তের আওতাধীন। অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের করা মামলা নিজে থেকেই আসামিদের অপরাধ প্রমাণ করে না।
Posted ০২:২৬ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন