অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৫১ বার পঠিত
সাত বছর মেয়াদি বন্ডে প্রাথমিক কুপন হার ১২.০৫ শতাংশ | টায়ার-২ মূলধন শক্তিশালী ও ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্য
মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করা এবং ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৪০০ কোটি টাকার দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করতে যাচ্ছে মেঘনা ব্যাংক পিএলসি। সাত বছর মেয়াদি এ বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন পেয়েছে। বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্যাংকটির টায়ার-২ মূলধন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা মূলধন পর্যাপ্ততা বজায় রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
ব্যাংকটির তথ্য অনুযায়ী, বন্ডটির প্রাথমিক কুপন হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১২.০৫ শতাংশ। তবে সুদহার স্থির থাকবে না; বাংলাদেশ ব্যাংকের রেফারেন্স রেটের সঙ্গে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ মার্জিন যোগ করে তা নির্ধারণ করা হবে। ফলে বাজারের সুদহারে পরিবর্তন এলে বন্ডটির কুপন হারেও সমন্বয় আসবে।
বন্ডটির অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ইস্যু হতে যাওয়া এ বন্ডে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক—উভয় শ্রেণির বিনিয়োগকারীরা অংশ নিতে পারবেন।
সাত বছর মেয়াদি বন্ডটির মূলধন পরিশোধ শুরু হবে তৃতীয় বছর শেষে। এরপর পরবর্তী পাঁচ বছরে প্রতিবছর মূল বিনিয়োগের ২০ শতাংশ করে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। বিনিয়োগকারীরা প্রতি ছয় মাস অন্তর কুপন আয় পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাধারণত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ছয় মাস মেয়াদি স্থায়ী আমানতের সর্বোচ্চ সুদহারের গড়ের ভিত্তিতে রেফারেন্স রেট হালনাগাদ করে। এ ব্যবস্থার ফলে বন্ডের সুদহার পরিবর্তনশীল থাকবে। তবে পরিবর্তনশীল কুপন হার বিনিয়োগকারীর আয়কে বাজারের সুদহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার সুযোগ দিলেও ভবিষ্যৎ আয় নিশ্চিতভাবে একই হারে থাকবে না।
বন্ডটি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেঘনা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সৈয়দ মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীরা স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ডটি লেনদেনের সুযোগ পাবেন। এতে বিনিয়োগের তারল্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সৈয়দ মিজানুর রহমান আরও বলেন, এ উদ্যোগ শুধু মেঘনা ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালী করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্ডনির্ভর দীর্ঘমেয়াদি ও নির্দিষ্ট আয়ের বিনিয়োগ পণ্যের প্রসারেও ভূমিকা রাখবে।
মেঘনা ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আয়কর আইন অনুযায়ী বন্ডটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হলে ব্যক্তিশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা এতে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের সুযোগ পাবেন। ব্যাংকের ডিপিএস ও সাধারণ সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সীমা থাকলেও এ বন্ডে বিনিয়োগের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই বলে দাবি করেছে ব্যাংকটি।
তবে কর রেয়াতের সুবিধা প্রযোজ্য হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আয়কর আইন ও শর্তাবলি বিবেচনায় নিতে হবে। একইভাবে বন্ডের তালিকাভুক্তি ও লেনদেনের সুযোগ কার্যকর হওয়ার বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ব্যাংক খাতে ঋণঝুঁকি মোকাবিলা, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নতুন ঋণ ও বিনিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনায় পর্যাপ্ত মূলধন গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রেক্ষাপটে সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ মেঘনা ব্যাংকের টায়ার-২ মূলধন বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে, করপোরেট বন্ডের বাজার সম্প্রসারিত হলে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রচলিত ব্যাংক আমানত ও শেয়ারের বাইরে বিকল্প বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের নতুন উৎস হিসেবে বন্ডের ব্যবহার বাড়লে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন ব্যবস্থাপনাতেও বৈচিত্র্য আসতে পারে।
মেঘনা ব্যাংকের প্রত্যাশা, দ্বিতীয় সাব-অর্ডিনেটেড বন্ডটি ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বন্ডবাজারের বিকাশে ভূমিকা রাখবে। তবে বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে কুপন হার, মূলধন পরিশোধের সময়সূচি, ব্যাংকের ঋণঝুঁকি এবং বন্ডের প্রকৃত তারল্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
Posted ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন