অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৯ বার পঠিত
দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে উপযুক্ত সরকারি খাসজমির সংকট। প্রভাবশালীদের দখল ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় অনেক এলাকায় মাঠ নির্মাণের উপযোগী জমি পাওয়া কঠিন হচ্ছে। ফলে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
তবে সরকার ধাপে ধাপে সব ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩৫ জেলার ৫৯৯টি ইউনিয়নের জমিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এক হাজার ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে সব ইউনিয়নে মাঠ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার।
তিনি বলেন, এ প্রকল্পের জন্য আলাদা কোনো বাজেট নেই। সরকারি খাসজমি ব্যবহার করেই মাঠ তৈরি করা হবে। মাঠের সংস্কার ও উন্নয়নকাজ স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে করা হবে। যেসব এলাকায় উপযুক্ত খাসজমি পাওয়া যাবে না, সেসব বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৮ অক্টোবর সচিবালয়ে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণ নিয়ে এক সভায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত এক হাজার মাঠ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ মার্চ উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভায় প্রতিটি ইউনিয়নে আট বিঘা করে খাসজমি চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে ১২ সদস্যের একটি কমিটি মাঠ নির্মাণ কার্যক্রম তদারক করছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, মাঠের জন্য এমন জমি নির্বাচন করতে হবে, যা কৃষিজমির ক্ষতি করবে না এবং সরকারি বিক্রির জন্য প্রস্তাবিত নয়। ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় বা নির্ধারিত প্রবৃদ্ধি কেন্দ্রের কাছাকাছি জমিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
জমি হতে হবে একটানা একটি প্লটে, জনবসতির কাছাকাছি এবং ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় এলাকায়, যাতে স্থানীয় বাসিন্দারা সহজে মাঠে যাতায়াত করতে পারেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদেরও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সহায়তা করতে অনুরোধ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মাঠগুলোতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি ও স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি সীমানাপ্রাচীর বা বেড়া, বৃক্ষরোপণ ও হাঁটার পথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। শিশুদের জন্য খেলার জায়গা ও পার্কও গড়ে তোলা হবে।
মাঠের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অর্থবছরে আট বিভাগসহ ফরিদপুর ও কুমিল্লায় মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব স্থাপনায় আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল এবং আর্চারি, শুটিং, ফুটবল ও অ্যাথলেটিকসের প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে।
দেশের তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানো, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং তরুণদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তবে নির্ধারিত সময়ে মাঠ নির্মাণের অগ্রগতি অনেকাংশে নির্ভর করবে উপযুক্ত খাসজমি শনাক্ত, দখলমুক্তকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ের ওপর।
Posted ১২:৫০ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন