অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২৩ বার পঠিত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভ্যাট আদায়ে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক আদায় করতে পেরেছে সংস্থাটি। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় আদায় কমেছে ৫ হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২৮ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে প্রায় ৪৯ দশমিক ৬ শতাংশ। এ সময়ে ভ্যাট আদায়ে ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।
এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়ন বিভাগের সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান জানান, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা কম ভ্যাট আদায় এবং কয়েকটি খাতে রাজস্ব কমে যাওয়ায় সামগ্রিক আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে ডিসেম্বরের মধ্যে আদায় বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
ভ্যাটের মাঠপর্যায়ের কার্যালয়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি দেখা গেছে বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ)। প্রথম তিন মাসে ৩২ হাজার ২০৮ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১২ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা। ঘাটতি ১৯ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। এ ইউনিটে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ঋণাত্মক ৩১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
চট্টগ্রাম ভ্যাট কমিশনারেটে ৪ হাজার ১২৯ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। ঢাকা দক্ষিণ কমিশনারেটে ২ হাজার ৯৬ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। বরিশাল কমিশনারেটেও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।
এনবিআরের সাবেক সদস্য (ভ্যাট নীতি) ড. আব্দুর রউফের মতে, যথাযথ সমীক্ষা ছাড়া নীতিগত পরিবর্তন ভ্যাট আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। মাসিক রিটার্নের পরিবর্তে তিন মাস অন্তর রিটার্ন জমার সুযোগ দেওয়ায় জুলাই ও আগস্টে অনেক ব্যবসায়ী রিটার্ন জমা দেননি। ফলে সেপ্টেম্বরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এনবিআরের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, রিটার্ন জমার সময়সীমা পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশাসনিক দুর্বলতা, তদারকির ঘাটতি, ঘন ঘন কমিশনার পরিবর্তন এবং পদায়ন নিয়ে অসন্তোষও আদায় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।
সব মিলিয়ে, ভ্যাট আদায়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতা সরকারের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনকে কঠিন করে তুলছে। আদায় বাড়াতে নীতিগত সিদ্ধান্তের কার্যকারিতা পর্যালোচনা, নিয়মিত তদারকি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Posted ১১:২২ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন