Ad
x
এনটিটি ডাটার ‘ইন্স্যুরটেক গ্লোবাল আউটলুক’ প্রতিবেদন

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইন্স্যুরটেকে বিনিয়োগ অর্ধেকে নেমেছে

রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৭০ বার পঠিত

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ইন্স্যুরটেকে বিনিয়োগ অর্ধেকে নেমেছে

এশিয়া-প্যাসিফিক (এপ্যাক) অঞ্চলে বীমা প্রযুক্তি (ইন্স্যুরটেক) খাতের বিনিয়োগ গত চার বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যেখানে এ খাতে প্রায় ৯.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছিল, সেখানে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তা কমে ৪.১ বিলিয়ন ডলারে দঁড়িয়েছে। একই সময়ে বিনিয়োগ চুক্তির সংখ্যাও ৩৮৩ থেকে ২০২টিতে নেমে এসেছে।

এনটিটি ডাটার ‘ইন্স্যুরটেক গ্লোবাল আউটলুক ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, এপ্যাক অঞ্চলের ইনসুরটেক বাজার এখন ডিজিটাল বীমা কোম্পানির পরিবর্তে প্রযুক্তি সেবা, অবকাঠামো এবং বীমা প্ল্যাটফর্মভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের দিকে ঝুঁকছে। বিনিয়োগের ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন সরাসরি বীমা কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতাকারী স্টার্টআপের বদলে বীমা খাতের প্রযুক্তি, বিতরণ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি বেশি আগ্রহী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ অঞ্চলে বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে চীনের আধিপত্য ছিল, এখন সেখানে ভারতের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০২২-২০২৫ সময়ে এপ্যাক অঞ্চলের মোট ইন্স্যুরটেক বিনিয়োগের প্রায় ৪৫ শতাংশ ভারত আকর্ষণ করেছে, যা আগের সময়ে ছিল ২৫ শতাংশ। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার সম্মিলিত অংশ ১২ শতাংশ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা এখন এমন প্রতিষ্ঠানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, যারা বীমা কোম্পানিগুলোকে প্রযুক্তি, বিতরণ ব্যবস্থা ও ডিজিটাল অবকাঠামো সরবরাহ করছে।

এদিকে এশিয়ায় বীমা সুরক্ষার ঘাটতি এখনও উদ্বেগজনক।সুইস রি-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগে হওয়া ক্ষতির ৯২ শতাংশই বীমার আওতার বাইরে ছিল। ফলে প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, এমবেডেড ইনসুরেন্স এবং বিভিন্ন খাতের অংশীদারত্বভিত্তিক বীমা সেবার গুরুত্ব বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সাইবার ঝুঁকি এখন বীমাবিহীন ব্যবসায়িক ক্ষতির সবচেয়ে বড় উৎস। ২০২৩ সালের ১৭১ বিলিয়ন ডলার থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে বীমাবিহীন সাইবার ক্ষতির পরিমাণ ৭০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত বীমাবিহীন ক্ষতির পরিমাণ ১৮০ বিলিয়ন ডলার এবং দায়বদ্ধতা-সংক্রান্ত দাবি ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বীমা শিল্পে বড় ব্যবধান রয়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ বীমা প্রতিষ্ঠানের কর্মী এআই ব্যবহার করলেও মাত্র ২২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গভাবে এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। তবে এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয়তা ও প্রক্রিয়া উন্নয়নের মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভবিষ্যতের বীমা শিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর, ব্যক্তিকেন্দ্রিক এবং প্রতিরোধমূলক সেবাই প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে। বিশেষ করে এমবেডেড ইনসুরেন্সের বাজার ২০২৫ সালে ১১৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা বীমা শিল্পে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৯:০১ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com