অনলাইন ডেস্ক
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট ২৯ বার পঠিত
আদালতের নির্দেশে রাজধানীর গুলশানে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের দুটি ফ্ল্যাটে থাকা মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) তৈরির কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পুরো কার্যক্রম শেষ করতে প্রায় দুই দিন সময় লাগতে পারে।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দুদকের একটি যৌথ দল গুলশানের ৬৬ নম্বর সড়কের নর্থওয়েস্ট (বি) ব্লকের ১১ নম্বর প্লটে অবস্থিত ফ্ল্যাট দুটিতে প্রবেশ করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা মশিউর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ফ্ল্যাটে প্রবেশের পর ভেতরে থাকা মালামালের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। এ কাজ সম্পন্ন করতে প্রায় দুই দিন সময় লাগবে।
ফ্ল্যাট দুটির মধ্যে এ-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৭৪৭ বর্গফুট এবং বি-৭ নম্বর ফ্ল্যাটের আয়তন ৩ হাজার ৮৩২ বর্গফুট। মোট আয়তন ৭ হাজার ৫৭৯ বর্গফুট।
ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এর আগে ফ্ল্যাট দুটির রিসিভার হিসেবে দুদকের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পরিচালককে দায়িত্ব দেন। তার দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ, তদারকি, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ। তবে ফ্ল্যাট দুটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ থাকায় রিসিভার দায়িত্ব পালন করতে পারছিলেন না।
পরে দুদকের আবেদনের পর গত ২৯ এপ্রিল আদালত অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতেও তালা খুলে ফ্ল্যাটে প্রবেশ এবং ভেতরে থাকা মালামালের তালিকা তৈরির অনুমতি দেন। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর ফ্ল্যাট দুটি ক্রোকের আদেশ দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি রিসিভার নিয়োগ এবং ২৯ এপ্রিল তালা খুলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
দুদক বর্তমানে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।
এর অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি আদালত যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে থাকা তার ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। দুদকের হিসাবে, এসব সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিষ্ঠানে তার বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।
পরবর্তীতে ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা আরও ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনে এসব সম্পদের মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া এর আগে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং ২৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়। একই অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় তার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও কয়েকটি ব্যাংক ও বিও হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় চলতি বছরের মার্চে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
তবে দুদকের আনা দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
Posted ০২:৪৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com