অনলাইন ডেস্ক
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ১৭ বার পঠিত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাড়ছে পরিবহন ব্যয়। আর সেই বাড়তি খরচের চাপ গিয়ে পড়ছে নিত্যপণ্যের বাজারে। সবজি থেকে মাছ-মাংস, চাল থেকে দুধ—বেশ কিছু পণ্যের দাম ইতোমধ্যে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে আরও কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
বাজারে ঢুকলেই এখন ক্রেতার প্রথম প্রশ্ন—“আজ কোন পণ্যের দাম বাড়ল?”
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর এই প্রশ্নের উত্তরও যেন প্রতিদিন বদলাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে একদিকে সবজির দাম বাড়ছে, অন্যদিকে মাছ-মাংস, চাল, আটা-ময়দা, ডিম ও দুধের বাজারেও তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। ফলে কৃষকের ক্ষেত থেকে পাইকারি বাজার, সেখান থেকে খুচরা দোকান—প্রতিটি ধাপেই বাড়ছে ব্যয়।
২১ সেপ্টেম্বর ডিজেল, পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়।
বর্তমানে ডিজেল ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
এর পরই পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত ট্রাক ও পিকআপের ভাড়া বাড়তে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন রুটে বাস ও লঞ্চভাড়াও বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে।
পণ্য পরিবহনের এই বাড়তি খরচ শেষ পর্যন্ত কতটা খুচরা বাজারে যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
কারওয়ান বাজারে শিম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ২০০ টাকা কেজি। গত সপ্তাহে দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা।
টমেটো ৮০-১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০০-১২০ টাকা। দেশি শসা ৫০-৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা এবং করলা ৬০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা হয়েছে।
বেগুনের দামও ৮০-১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১২০ টাকা কেজিতে উঠেছে।
এ ছাড়া পটোল ৬০ টাকা, ধুন্দল ৭০-৮০ টাকা, বরবটি ৭০-৮০ টাকা এবং ঝিঙা ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও বেড়ে ১০০-১২০ টাকা কেজিতে উঠেছে।
তবে পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৮০ টাকা এবং আদা ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগির বাজারেও দেখা গেছে বাড়তি চাপ।
হাতিরপুলে সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৯০ টাকা কেজি দরে।
ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন বলেন, মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে।
কারওয়ান বাজারের আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তার হিসাবে, এক হাজার মুরগির চাহিদা থাকলেও অনেক সময় ৩০০টির মতো পাওয়া যাচ্ছে।
মাছের বাজারেও একই ধরনের চাপ রয়েছে।
আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা কেজিতে। রুই ৩৮০-৪৫০ টাকা এবং কাতল ৪০০-৪৫০ টাকা কেজি।
বড় তেলাপিয়া ২৮০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ২৪০ টাকা এবং পাঙ্গাশ ২০০-২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। চাষের চিংড়ির দাম ৭০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত।
হাতিরপুলের মাছ ব্যবসায়ী সাইফুল হক বলেন, “আমাদের দোকানে আনার খরচ খুব বেশি বাড়েনি। কিন্তু পাইকারি বাজারে পরিবহন খরচ বেড়েছে। তাই মাছ কিনতেই এখন বেশি টাকা লাগছে।”
ব্যবসায়ীদের হিসাবে, পরিবহন ব্যয়ের কারণে মাছভেদে কেজিতে প্রায় ৫-১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে।
টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক মাসে প্যাকেটজাত আটার দাম ৪ শতাংশ এবং ময়দার দাম ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত আটা প্রায় ৭০ টাকা এবং ময়দা ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ইমরান কবির বলেন, “আটা-ময়দার দাম এরই মধ্যে বেড়েছে। এখন পরিবহন খরচের কারণে ডিলাররা আবার দাম বাড়ানোর কথা বলছেন।”
চালের বাজারেও ট্রাকভাড়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কারওয়ান বাজারের এক চাল ব্যবসায়ীর দাবি, প্রতি ট্রাকে প্রায় ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।
প্যাকেটজাত তরল দুধের দাম গত দেড় মাসে দুই দফায় বেড়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দুধ এখন প্রায় ১২০ টাকা লিটার এবং ৬০ টাকা আধা লিটারে বিক্রি হচ্ছে।
উৎপাদনকারীরা পরিবহন, দুধ সংগ্রহ, প্যাকেজিং, গোখাদ্য, গ্যাস ও বিদ্যুতের বাড়তি ব্যয়কে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এর মধ্যে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহও কিছুটা কমেছে।
চলতি মাসের শুরুতে লিটারপ্রতি ৫ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা করা হয়। এখন এক ও দুই লিটারের বোতলের পাশাপাশি কিছু বাজারে পাঁচ লিটারের বোতলের সরবরাহও কম বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, কোম্পানিগুলো বাজারে তুলনামূলক কম পরিমাণে তেল ছাড়ছে। আরও এক দফা দাম বাড়ার কথাও বাজারে শোনা যাচ্ছে। তবে সব এলাকায় সরবরাহ পরিস্থিতি একই নয়।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ির ভাড়ায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। উৎপাদন থেকে পরিবহন, পাইকারি থেকে খুচরা—সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে বাড়তি খরচ তৈরি হলে তার একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ভোক্তার ওপর পড়ে।
তবে কোনো পণ্যের দাম কতটা বাড়বে, তা শুধু জ্বালানি খরচের ওপর নির্ভর করে না। উৎপাদন, সরবরাহ, মৌসুমি পরিস্থিতি, পাইকারি বাজার ও চাহিদার পরিবর্তনও এতে ভূমিকা রাখে।
তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম কি এখানেই থামবে, নাকি ধীরে ধীরে আরও পণ্যের দামে ছড়িয়ে পড়বে?
ক্রেতাদের জন্য অবশ্য উত্তরটা খুব সহজ—বাজারের ব্যাগ ছোট হচ্ছে, কিন্তু খরচের হিসাব বড় হচ্ছে।
Posted ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com