Ad
x

দায়িত্ব নিয়ে দেখলাম এটি খুবই সহজ কাজ : চেয়ারম্যান

শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৪০ বার পঠিত

দায়িত্ব নিয়ে দেখলাম এটি খুবই সহজ কাজ : চেয়ারম্যান

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে খুবই সহজ কাজ মনে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

তিনি বলেন, আমি এই কঠিন জায়গায় কেন আসছি, এটি অনেকেই প্রশ্ন করেছিলেন। আমি তাদেরকে বলেছিলাম, গিয়ে দেখি কিছু বদলাতে পারি কিনা। এখন বলতেছি, এটি খুবই সহজ কাজ।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) আয়োজিত ‘পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছি, তাতে বাজার ঘুরে দাঁড়াবেই। ভবিষ্যতে আপনারা এটি দেখতে পাবেন। ভবিষ্যতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর তদারকিও অনেক বাড়িয়ে দেব। এই বাজারে আস্থা ফিরবেই, ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর হাতে সিগনেচার প্রক্রিয়া রাখবো না। এটিকে ডিজিটালাইজড করা হবে। তা ছাড়া, ডিএসই এমন একটি ব্যাক অফিস সফটওয়্যার তৈরির কাজ করছে, যেখানে চাইলেও ব্রোকারেজ হাউজ বিনিয়োগকারীর তথ্য পরিবর্তন করতে পারবে না। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলো যে প্রক্রিয়ার দুর্নীতি করে থাকে, সেটির আর সুযোগ থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা ডিএসইকে বলেছি, আগামী এক বছরের মধ্যে তাদের সার্ভেইল্যান্স বিভাগকে এআই বেজড করতে হবে। তখন আর কারসাজিকারীরা চাইলেই দুর্বল শেয়ারে কারসাজি করতে পারবে না। কোনো শেয়ারে অস্বাভাবিক দাম বাড়লে অটোমেটিক সেটির লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে।

মাসুদ খান বলেন, বিগত চার দশকে পুঁজিবাজারের প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী। কিন্তু, তাদের অধিকাংশের পুঁজিবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। অথচ, তারা মনে করেন যে, তারা শেয়ারবাজার বোঝেন। এজন্য তারা শুনে শুনে বিনিয়োগ করেন। তারা গেম্বলারদের পেছনে ছোটেন। তারা যখন কোনো শেয়ার কেনেন, তারা সবাই একটি শেয়ারই কেনেন। এতে তারা বারবার মার্কেট ম্যানুপুলেটারদের মাধ্যমে প্রতারিত হন।

তিনি বলেন, আরেকটা বিষয় হলো— আমাদের বিনিয়োগকারীরা দ্রুত বড়লোক হতে চান। তারা সেজন্য ভালো শেয়ারে না গিয়ে দুর্বল শেয়ারে বিনিয়োগ করেন। আমাদের দেশে তো বিনিয়োগকারীদের শেয়ারবাজার নিয়ে জ্ঞান নেই। এখানে কী করতে হবে? বিনিয়োগকারীদের গাইড করার লোক থাকতে হবে। এজন্য মিউচুয়াল ফান্ডের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। ভারতের শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন দেশটির জিডিপির ১৩০ শতাংশের বেশি। এখানে মিউচুয়াল ফান্ডের অবদান সবচেয়ে বেশি। আমরাও মিউচুয়াল ফান্ডে গুরুত্ব বাড়াবো।

শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্রধান আরো বলেন, রেগুলেটর ও মার্কেট— দুটো দিকই দেখতে হবে। একটা দেখলে হবে না। গতবছর যে মার্জিন রুলস হলো— সেটি বাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকটা নিরাশ করেছে। তাই, আমরা এটিকে পুনরায় সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি।

তিনি বলেন, একক কোনো ব্যক্তির স্বার্থে আমি কিছুই করবো না। সামষ্টিক প্রয়োজনে যেটি দরকার হবে, আমি সেটি করবো। আমাদের প্রত্যেকের কাজের জবাবদিহিতা থাকতে হবে। আমাদের সংসদের মধ্যেও এই জবাবদিহিতা আসছে। আমাদের প্রত্যেকটি নিয়ন্ত্রক সংস্থায়ও এটি থাকতে হবে।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলামের সময়ের রোড শো’র সমালোচনা করে তিনি বলেন, রোড শো কেন করতে হবে? আমরা ভালো করলে বিদেশিরা এখানে এমনিতেই আসবে। একজন ফরেন ইনভেস্টরস কেন আসবে আর কেন আসবে না, এটা বুঝতে হবে। এখানে মার্কেট কীভাবে চলছে, সেটা তো তারা দেখেই আসবে। ফ্লোর প্রাইসের মার্কেটে তারা কেন আসবে? আবার ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা না থাকলেই বা তারা কেন বিনিয়োগ করবে? তারা যেই মুনাফা করবে তা তো ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নেই চলে যাবে। এগুলো ঠিক করতে হবে। তাহলে তারা এমনিতেই আসবে।

পাঁচ ব্যাংক নিয়ে মাসুদ খান বলেন, প্রথম বলতে চাই, মার্জার প্রক্রিয়া যেটি হচ্ছে, এটি কয়েক বছর ধরেই চলছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর প্রধান নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। তারা একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্বিতীয়ত, যারা এই শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন, অবশ্যই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এক্ষেত্রে বিদেশে কী করা হয়? প্রত্যেকটা শেয়ারের ফেয়ার ভ্যালুয়েশন করা হয়। আপনি ওই ব্যাংকগুলোতে ইকুইটি অনেক নেগেটিভ দেখতে পাবেন। এক্ষেত্রে ওই বিনিয়োগকারীদের জন্য কী সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত, সেটি আমি বলতে পারবো না। এক্ষেত্রে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

ছায়া সংসদে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকটের পেছনে সরকারি ও বিরোধী দলের মনোভাব নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সরকারি দলের বক্তব্যের প্রধান বিষয়বস্তু ছিলো ‘দু্র্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা’। আর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এর পেছনে ‘রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব’কে প্রধান হিসেবে দায়ী করেন। প্রতিযোগিতায় এক নম্বরের ব্যবধানে ‘দুর্বল নিয়ন্ত্রক সংস্থা’ বিষয়টি গৃহীত হয়েছে।

প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে প্রাইম ইউনিভার্সিটি ও বিরোধী দল হিসেবে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন। এতে বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রাইস, সাংবাদিক মাইনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক হোসাইন শাহাদাত। এতে স্পিকার হিসেবে ছিলেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী।

সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা বলেন, যদি কর্মকর্তারা দুর্নীনিগ্রস্ত হন, তাহলে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? নিয়ন্ত্রক সংস্থার কর্মকর্তারাই যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হন, তাহলে আইপিও কেলেঙ্কারি, দুর্বল শেয়ারে কারসাজির মতো অনিয়ম তো হবেই।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বলেন, বিগত সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি ও ডিএসইর শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সখ্যতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এই কারণেই বাজারে এতটা দুরবস্থা তৈরি হয়েছে। একটি পুতুল নিজে থেকে নাচতে পারে না। তাকে স্টেজের পেছনে থেকে কেউ নাচান। এই পেছন থেকে যে বা যারা নাচান, তারাই হলেন রাজনৈতিক শক্তি।

Facebook Comments Box
বিষয় :

Posted ০৫:০৬ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com