মঙ্গলবার ১৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

নন লাইফে প্রথম প্রান্তিকে ১,৪৮৫ কোটি টাকার প্রিমিয়াম

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬   প্রিন্ট   ১০ বার পঠিত

নন লাইফে প্রথম প্রান্তিকে ১,৪৮৫ কোটি টাকার প্রিমিয়াম

চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের নন-লাইফ বা সাধারণ বীমা খাতে প্রিমিয়াম সংগ্রহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে জমা দেওয়া নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিগুলো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্রস প্রিমিয়াম আয় করেছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ সাধারণ বীমা করপোরেশন (এসবিসি), গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স এবং সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে রয়েছে।

আইডিআরএ’র তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশের নন লাইফ বীমা খাতের ৪৬ কোম্পানির মধ্যে ৪৫ কোম্পানির গ্রস প্রিমিয়াম আয় দাঁড়িয়েছে ১,৪৮৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের নন লাইফ বীমা খাতের ৪৬ কোম্পানির গ্রস প্রিমিয়াম আয় ছিল ৬ হাজার ৪৯২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে, বাংলাদেশ সাধারণ বীমা করপোরেশন প্রথম প্রান্তিকে ৪১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে বাজারে নেতৃত্ব ধরে রেখেছে। বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স ১৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা এবং রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স ১৩২ কোটি ৪২ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স ৭৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা প্রিমিয়াম আয় করেছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ নন-লাইফ বীমা কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় ১০ থেকে ৩০ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এতে বোঝা যায় যে, বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো খুচরা ও করপোরেট গ্রাহকভিত্তি বাড়াতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল বীমা সেবা, দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি এবং গ্রাহক আস্থা বৃদ্ধি করতে পারলে এসব কোম্পানির ব্যবসায়িক সক্ষমতা আরও বাড়বে।

 

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের বড় অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের কারণে সাধারণ বীমার চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বাজারের টেকসই উন্নয়নের জন্য সুশাসন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত পুনর্বীমা সুবিধা এবং খেলাপি দাবি নিষ্পত্তির হার কমানোর ওপর জোর দিতে হবে।

 

তারা আরও বলেন, দেশের বীমা খাতে এখনও বীমা প্রবেশহার দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম। ফলে সাধারণ বীমা খাতে প্রবৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। যথাযথ নীতি সহায়তা ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে নন-লাইফ বীমা খাত আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

 

কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স ১৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ কো-অপারেটিভস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৩১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে। বাংলাদেশ সাধারণ বীমা করপোরেশন ৪১৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ১৩ কোটি ১২ লাখ টাকা, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২৪ কোটি ৬ লাখ টাকা, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ২০ কোটি ২৮ লাখ টাকা, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৮ কোটি ৯ লাখ টাকা, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১০ কোটি ২১ লাখ টাকা, ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা, এক্সপ্রেস ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৩২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকা, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড ১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, জনতা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, মার্কেন্টাইল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, নিটল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৩ কোটি ৯১ লাখ টাকা, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, পিপলস ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ২২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৭৭ কোটি ৭২ লাখ টাকা, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ৫৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ২৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ৩৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১৩২ কোটি ৪২ লাখ টাকা, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৩ কোটি ১ লাখ টাকা, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, সেনা কল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৫৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৩ কোটি ২০ লাখ টাকা, সাউথ এশিয়া ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১০ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড ১৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রিমিয়াম সংগ্রহ করেছে।

 

 

Facebook Comments Box

Posted ০২:২৩ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com