নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
ঢাকা মহানগরীর পরিবেশ উন্নয়নে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালের সীমানা নির্ধারণ ও খনন, বৃক্ষরোপণ, সৌন্দর্যবর্ধন, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং ময়লার বিন প্রতিস্থাপন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, দিনের বেলায় রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকলে নগরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এ কারণে রাতের বেলায় বর্জ্য সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু বর্জ্য অপসারণ করলেই পরিচ্ছন্ন নগর নিশ্চিত হবে না। নাগরিকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের মাধ্যমে নিয়মিত প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ঢাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়নে রাস্তার দুই পাশে বারোমাসি ফুলের চারা রোপণের পরামর্শ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, নগরকে শুধু পরিচ্ছন্ন নয়, নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ ভিশন দ্রুত বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন, খাল পুনরুদ্ধার, সবুজায়ন, পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সভায় ঢাকা মহানগরীর চলমান উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের সার্বিক অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৯টি খালের সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের খালগুলোর সীমানা চিহ্নিতকরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া দুই সিটি কর্পোরেশনেই সৌন্দর্যবর্ধন ও সবুজায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সভায় জানানো হয়, ঢাকার মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে ইতোমধ্যে রাতে জোনাকির উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা নগরীর পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি দৃষ্টান্ত।
সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম চলমান কার্যক্রমের প্রশংসা করে এগুলোতে আরও গতি আনার তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়টি তদারকি করছেন উল্লেখ করে তিনি বাস্তবভিত্তিক সমাধান, কাজের আগে ও পরের তুলনামূলক চিত্র এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপনের নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, এসব কার্যক্রমের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে। তাই মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
সভায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান পিএসসি, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com