নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ প্রিন্ট ১৬ বার পঠিত
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তবে একই অনুষ্ঠানে দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী ও এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর অভিযোগ করেছেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণের কথা বলা হলেও প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু ক্ষেত্রে ‘মিক্সড সিগন্যাল’ রয়েছে, যা তৈরি পোশাক খাতের বাইরে অন্যান্য রপ্তানি খাতের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করছে না।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) আয়োজিত ‘২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট: অর্থনৈতিক প্রতিকূলতা মোকাবিলা’ শীর্ষক সংলাপে এসব বক্তব্য উঠে আসে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকার মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে। ব্যবসা সহজীকরণের জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো হবে এবং শিল্পের টেকসই বিকাশ নিশ্চিত করতে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে করের হার না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বাড়ানো হবে। ব্যবসা ও শিল্প খাতকে উৎসাহ দিতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্রদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিতুমীর বলেন, অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি একটি মানবিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের পাশাপাশি অপচয়, জালিয়াতি, কর ফাঁকি, অনিয়ম ও দুর্নীতি কমানোর ওপর জোর দেন তিনি। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকিভিত্তিক (রিস্ক-বেইজড) অডিট এবং আমদানি মূল্যায়ন ও শুল্কায়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।
অন্যদিকে সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, সরকার রপ্তানি বহুমুখীকরণের কথা বললেও বাজেটের কিছু প্রস্তাব সে লক্ষ্য অর্জনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কমপ্লায়েন্ট রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বার্ষিক বন্ডেড অডিটের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্প এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তার ভাষায়, “যদি সত্যিই রপ্তানি বহুমুখীকরণ লক্ষ্য হয়, তাহলে শুধু পোশাক শিল্প নয়, কম ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য রপ্তানিমুখী শিল্পকেও বার্ষিক বাধ্যতামূলক অডিট থেকে অব্যাহতি দেওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, নতুন বাজেটে আটটি খাতকে ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে অধিক শুল্কমুক্ত আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, এ ধরনের শর্ত টেক্সটাইল খাতের জন্য উপযোগী হতে পারে, তবে অন্যান্য শিল্পের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজনের হার ১৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়।
বাজেট বাস্তবায়ন নিয়েও অনুষ্ঠানে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। র্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা হলেও বাস্তবে তা প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাস্তবায়ন এবং আয় সংগ্রহ নিয়ে তাই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সংলাপে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে তা কেবল নীতিগত ঘোষণায় সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, দেশে পিছিয়ে পড়া নয়, বরং পিছিয়ে রাখা জনগোষ্ঠী রয়েছে; তাদের মূলধারায় আনার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উপাচার্য ড. রুবানা হক বলেন, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে নানা ধরনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন। তবে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থে ব্যবসায়ী সমাজ সরকারের পাশে থাকবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু ইউসুফসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
Posted ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com