নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রিন্ট ৭ বার পঠিত
সারাদেশে তীব্র লোডশেডিং এবং চরম বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশবাসীর কাছে জাতীয় সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। বুধবার ( ২ সেপ্টেম্বর ) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এই দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সাথে তিনি বর্তমান ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিগত সরকারের ১৫ বছরের ভুল ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তকে দায়ী করেন।
দেশের চলমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, বর্তমান সংকট নিয়ে জনগণের কাছে কোনো ধরনের তথ্য লুকানোর কিংবা লুকোচুরি করার কোনো সুযোগ নেই। তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে দেশের মানুষ অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে তিনি স্বীকার করেন। সার্বিক পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজের মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সাময়িক সংকটটি একদিনে তৈরি হয়নি, বরং বিগত দেড় দশক ধরে ফ্যাসিবাদের ভুল নীতির অনিবার্য কুফল এখন দেশের সাধারণ মানুষকে ভোগ করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের টেকনিক্যাল সীমাবদ্ধতা ও জ্বালানি সংকটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকার মূলত আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতা তৈরি করে রেখেছিল। দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ১২ হাজার মেগাওয়াট হলেও ওই পরিমাণ বিদ্যুৎ তৈরির জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন এবং এলএনজি আমদানির বর্তমান হিসাব মিলিয়ে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি ও যান্ত্রিক ত্রুটির বিস্তারিত জানিয়ে তিনি বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে ঐতিহ্যবাহী পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের আরও একটি ইউনিট প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে করা পূর্ববর্তী চুক্তির শর্ত অনুসারে প্রতিদিন ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পুরো গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছিল, যা দীর্ঘ মেরামতের পর গত ১৫ আগস্ট আবার চালু করা সম্ভব হয়েছে।
সংকট উত্তরণে বর্তমান সরকারের নেওয়া বিভিন্ন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ ও খরচের হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বিগত সরকার বিদায় নেওয়ার আগে এসব বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের কাছে প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রেখে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর বিদ্যমান সংকট সামাল দিতে দ্রুততম সময়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছাড় করেছে, যেন কেন্দ্রগুলোর মালিকেরা সময়মতো জ্বালানি তেল আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদন চালু রাখতে পারেন। পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই সারাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হবে। এ সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রয়োজনে রাত ৮টার পর দেশের সকল দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে সংসদে উপস্থিত সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
Posted ০৮:১২ অপরাহ্ণ | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com