অনলাইন ডেস্ক
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ প্রিন্ট ৪৭ বার পঠিত
দেশের বেসরকারি খাতের বীমা কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স নবায়ন ফি বর্ধিত করে সংশোধিত বিধিমালার বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। বর্ধিত ফি নিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সঙ্গে কোম্পানিগুলোর টানাপোড়েনের ফলে সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত এলো। এর আগে খাতের অংশীজনদের তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমূহূর্তে তাড়াহুড়ো করে আইডিআরএ’র বিদায়ী চেয়ারম্যান এম আসলাম আলমের প্রস্তাবে এ সংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করা হয়।
ওই সংশোধনীর বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব চেয়ে মঙ্গলবার (১২ মে) আইডিআরএ’র চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। উপসচিব মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, লাইফ ও নন-লাইফ বীমা কোম্পানিগুলোর ২০২৬ সালের নিবন্ধন নবায়ন ফি নির্ধারণের সুবিধার্থে ‘বীমা ব্যবসা নিবন্ধন ফি বিধিমালা, ২০১২’ (সর্বশেষ সংশোধন ২০২৬)-এর বিধি ৩(২) নিয়ে সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
সংশোধিত বিধি ৩(২) এ ২০২৬ সাল থেকে ২০৩২ ও পরবর্তী সময় পর্যন্ত ধাপে ধাপে বীমা কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন ফি বর্ধিত করার বিধান যুক্ত করা রয়েছে।
তবে সংশোধিত ওই বর্ধিত ফি দিতে অস্বীকৃতি জানায় বেশিরভাগ বীমা কোম্পানি। নতুন করে আরোপ করা বর্ধিত নবায়ন ফি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার কারণে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বেসরকারি খাতের ৮০টি বীমা কোম্পানির মধ্যে ৬৭টির লাইসেন্স এখনো নবায়ন হয়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে আইনগত মতামত ও নির্দেশনা চেয়ে চিঠি পাঠায় আইডিআরএ । গত ২৬ এপ্রিল পাঠানো ওই চিঠিতে ২০২৬ সালের জন্য কোন হারে নবায়ন ফি প্রযোজ্য হবে-সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা চাওয়া হয়।
বিরোধের মূল কোথায়:
বীমা আইন, ২০১০ অনুযায়ী, পরবর্তী বছরের লাইসেন্স নবায়নের আবেদন ও ফি জমা দিতে হয় আগের বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে। সে অনুযায়ী বীমা কোম্পানিগুলো ২০২৫ সালের মধ্যেই ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দেয়।
তবে ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট আকারে প্রকাশিত সংশোধিত বিধিমালায় নবায়ন ফি বাড়িয়ে প্রতি হাজার গ্রস প্রিমিয়ামের বিপরীতে ১ টাকা থেকে ২ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এই নতুন হারই এখন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু।
বীমা কোম্পানিগুলোর যুক্তি যে সময় তারা ফি জমা দিয়েছে, তখন পুরনো বিধিমালাই কার্যকর ছিল। তাই পরবর্তীতে সংশোধিত হার প্রয়োগ করে অতিরিক্ত ফি দাবি করা আইনসম্মত নয়।
আইডিআরএ বলছে, সংস্থাটির ব্যয় নির্বাহ সম্পূর্ণ নিজস্ব আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ২০১৮ সালে ফি কমানোর ফলে আয় কমে যায়। এর মধ্যে জনবল বৃদ্ধি, ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, ন্যাশনাল কোর ইন্স্যুরেন্স সলিউশনসহ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের কারণে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এই বাস্তবতায় ফি বাড়ানো প্রয়োজন হয়ে পড়ে এবং তা ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর করা হয়।
তবে ফি নির্ধারণে বিলম্ব ও অংশীজনদের সঙ্গে দীর্ঘ পরামর্শ প্রক্রিয়ার কারণে সময়মতো লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হয়নি বলে চিঠিতে স্বীকার করেছে সংস্থাটি।
বর্তমানে মাত্র ১৩টি কোম্পানি বর্ধিত ফি দিয়ে লাইসেন্স নবায়ন করেছে। বাকি ৬৭টি কোম্পানি অতিরিক্ত ফি দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের লাইসেন্স ঝুলে আছে।
বীমা খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লাইসেন্স নবায়ন না হলে কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম, নতুন ব্যবসা গ্রহণ এবং গ্রাহক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
Posted ০৮:৪৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: ই-মেইল: bankbima1@gmail.com