|

Advertisement
×

রাজউকের আট জোনে শতভাগ অনলাইন পারমিট, সাত মাসে অনুমোদন ৭,৯৯৩টি

রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৩ বার পঠিত

রাজউকের আট জোনে শতভাগ অনলাইন পারমিট, সাত মাসে অনুমোদন ৭,৯৯৩টি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভবন নির্মাণের অনুমতি পেতে একসময় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরতে হতো সেবাগ্রহীতাদের। এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ফাইল নিয়ে ছোটাছুটি, দীর্ঘসূত্রতা এবং নানা ধরনের ভোগান্তি ছিল পরিচিত চিত্র। সেই পরিস্থিতি বদলাতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন আটটি জোনে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন এবং অনুমোদন কার্যক্রম শতভাগ অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত মাসে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের জন্য মোট ১০ হাজার ৯৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ৭ হাজার ৯৯৩টি। বাকি আবেদনগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে অথবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য শর্ত পূরণের অপেক্ষায় আছে।

এই সময়ে প্লানিং পারমিটের জন্য জমা পড়া ৭ হাজার ৫৫টি আবেদনের মধ্যে ৫ হাজার ৩৯৩টি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, কনস্ট্রাকশন পারমিটের ৩ হাজার ৯৩০টি আবেদনের মধ্যে অনুমোদন পেয়েছে ২ হাজার ৬০০টি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ

অনলাইন ব্যবস্থার পাশাপাশি আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে রাজউক। প্লানিং পারমিটের আবেদন নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিন নির্ধারিত রয়েছে। আর কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন (বিসি) কমিটিতে উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আবেদনের সঙ্গে জমা দেওয়া নথি ও নকশায় কোনো ঘাটতি থাকলে আবেদনকারীকে মোবাইল ফোন বা ই-মেইলের মাধ্যমে জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ আবেদন অনলাইনে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন ও কাগজপত্র সংযুক্ত করে পুনরায় আবেদন জমা দিলে সেটিও অনলাইনে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম রিজু বলেন, আগে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিট পেতে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে যেতে হতো এবং এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে হতো। এই ভোগান্তি কমাতেই অনলাইনে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, আগে এসব সেবা পেতে দীর্ঘ সময় লাগত। এখন আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণ করায় কাজের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রাজউক চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, নকশা অনুমোদনের কার্যক্রম আগে থেকেই অনলাইনে পরিচালিত হলেও এর জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না। বর্তমানে প্লানিং পারমিট ও কনস্ট্রাকশন পারমিটের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষ করে কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ২৪ দিনের মধ্যে বিসি কমিটিতে উপস্থাপনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে রাজউক।

অনলাইন সেবা নিয়ে আবেদনকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। রাজউকের সব ধরনের সেবা ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দরপত্র ও এস্টেট কার্যক্রমসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও ডিজিটাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কোন জোনে কত আবেদন ও অনুমোদন

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন) প্রকৌশলী নূর-ই-খোদার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি জোনেই প্লানিং পারমিটের আবেদন জমা পড়েছে।

প্লানিং পারমিটের ক্ষেত্রে জোনভিত্তিক আবেদন ও অনুমোদনের চিত্র হলো—

জোন আবেদন অনুমোদন
জোন-১ ১,০৫৯ ৮৭৮
জোন-২ ৭৯৭ ৫৮৯
জোন-৩ ১,০৩০ ৭৪১
জোন-৪ ১,৬৬৩ ১,৬০৯
জোন-৫ ৫০৩ ৩০৫
জোন-৬ ১,১৭০ ৭৬৭
জোন-৭ ৪৮৩ ২২৮
জোন-৮ ৩৫০ ২৭৬
মোট ৭,০৫৫ ৫,৩৯৩

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্লানিং পারমিটের সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে জোন-৪-এ। এ জোনে ১ হাজার ৬৬৩টি আবেদনের মধ্যে ১ হাজার ৬০৯টি অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, জোন-৮-এ আবেদন জমা পড়েছে ৩৫০টি, যার মধ্যে ২৭৬টি অনুমোদিত হয়েছে।

একই সময়ে কনস্ট্রাকশন পারমিটের আবেদন ও অনুমোদনের চিত্রও জোনভেদে ভিন্ন।

জোন আবেদন অনুমোদন
জোন-১ ৭০৭ ৪০১
জোন-২ ৪১৩ ২২৫
জোন-৩ ৫২৬ ৩৬৫
জোন-৪ ১,১৮৯ ৭৫৩
জোন-৫ ২২৯ ৯৭
জোন-৬ ৪৬১ ৪০৫
জোন-৭ ১৮৮ ১৪৮
জোন-৮ ২১৭ ২০৬
মোট ৩,৯৩০ ২,৬০০

কনস্ট্রাকশন পারমিটের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ আবেদন জমা পড়েছে জোন-৪-এ। এ জোনে ১ হাজার ১৮৯টি আবেদনের মধ্যে ৭৫৩টি অনুমোদন পেয়েছে। জোন-৮-এ ২১৭টি আবেদনের মধ্যে ২০৬টি অনুমোদিত হয়েছে।

রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১) মো. মনিরুল হক জানান, আবেদনপত্রে ত্রুটি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি থাকলে তা অনলাইনে আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংশোধিত আবেদন পুনরায় জমা পড়লে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না হলে আবেদন বাতিল করা হচ্ছে।

অনলাইন আবেদন হলেও রয়ে গেছে ম্যানুয়াল কার্যক্রম

রাজউকের পারমিট কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হলেও ভবন নির্মাণের অনুমোদন-সংশ্লিষ্ট পুরো প্রক্রিয়া এখনো ডিজিটাল হয়নি। বিশেষ করে নকশা অনুমোদনের পর নির্মাণকাজ চলাকালে ভবন তদারকি ও পরিদর্শনের কার্যক্রম এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে।

এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নকশা অনুমোদনের আগে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অনাপত্তিপত্র বা এনওসি সংগ্রহ করতে হয়। ফায়ার সার্ভিস, সিভিল এভিয়েশন এবং কেপিআইডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিতে হয়। এসব সংস্থার অনেক ক্ষেত্রেই অনাপত্তিপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক নয়।

ফলে রাজউকের নিজস্ব আবেদন ও অনুমোদন ব্যবস্থা ডিজিটাল হলেও সংশ্লিষ্ট অন্য সংস্থাগুলোর ম্যানুয়াল কার্যক্রমের কারণে পুরো প্রক্রিয়ায় সব সময় কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ, আবেদন অনলাইনে জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও অনুমোদনের প্রতিটি ধাপ এখনো একই ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় আসেনি।

ডিজিটাইজেশনের শুরু ২০১৬ সালে

রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্লানিং পারমিট ও নকশা অনুমোদন কার্যক্রম ডিজিটাল করার উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) অর্থায়নে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে শুধু জোন-৫, অর্থাৎ ধানমন্ডি এলাকায় ভূমি ব্যবহার-সংক্রান্ত কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হতো। পরবর্তী সময়ে তা রাজউকের আওতাধীন আটটি জোনে সম্প্রসারিত হয়।

তিনি আরও জানান, ঢাকা আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের আওতায় ইলেকট্রনিক কনস্ট্রাকশন পারমিটিং সিস্টেম চালু করা হয়, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদের মতে, অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ওয়ান উইন্ডো সেলের মাধ্যমে এক জায়গা থেকে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা গেলে অনুমোদনের সময় কমানো এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হ্রাস করা সম্ভব হবে।

পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ

রাজউকের আটটি জোনে অনলাইন পারমিট চালুর ফলে আবেদন জমা, কাগজপত্র যাচাই এবং অনুমোদনের অগ্রগতি সম্পর্কে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। নির্ধারিত সময়সীমা থাকায় আবেদন নিষ্পত্তিতে জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগও তৈরি হয়েছে।

তবে শুধু আবেদন অনলাইনে নেওয়া বা অনুমোদনের সিদ্ধান্ত ডিজিটাল পদ্ধতিতে দেওয়াই পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। নির্মাণকালীন পরিদর্শন, বিভিন্ন সংস্থার অনাপত্তিপত্র প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানও একই ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, সব সংস্থাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা গেলে ভবন নির্মাণের অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা আরও কমবে। এতে সেবাগ্রহীতাদের দাপ্তরিক দৌড়ঝাঁপ হ্রাসের পাশাপাশি পুরো ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে। রাজউকের অনলাইন পারমিট ব্যবস্থার পরবর্তী লক্ষ্য তাই কেবল আবেদন ডিজিটাল করা নয়, বরং শুরু থেকে নির্মাণকালীন তদারকি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে একটি কার্যকর ওয়ান-স্টপ সেবার আওতায় নিয়ে আসা।

প্রকাশের আগে গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ

  • পরিসংখ্যান: প্রতিবেদনে দেওয়া মোট আবেদন ও অনুমোদনের হিসাব জোনভিত্তিক পরিসংখ্যানের সঙ্গে মিলে যায়।

  • অনুমোদনের হার: মোট আবেদনের প্রায় ৭২.৭ শতাংশ অনুমোদিত হয়েছে। প্লানিং পারমিটে অনুমোদনের হার প্রায় ৭৬.৪ শতাংশ এবং কনস্ট্রাকশন পারমিটে প্রায় ৬৬.২ শতাংশ।

  • সময়কাল: প্রতিবেদনটি মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত মাসের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা। প্রকাশের সময় বছরটি নির্দিষ্ট করে দেওয়া উচিত, কারণ মূল লেখায় বছর উল্লেখ করা হয়নি।

  • গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য: কনস্ট্রাকশন পারমিটের ক্ষেত্রে ২৪ দিনের মধ্যে বিসি কমিটিতে আবেদন উপস্থাপনের কথা বলা হয়েছে; এটিকে ২৪ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়ার নিশ্চয়তা হিসেবে লেখা যাবে না।

  • নামের নির্ভুলতা: ‘কেপিআইডিসিসহ’ শব্দটির পূর্ণরূপ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঠিক নাম মূল প্রতিবেদনের উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ০১:৫৩ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com