অনলাইন ডেস্ক
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১০০ বার পঠিত
দেশের জীবন বীমা খাতের ৩৪টি কোম্পানির সম্মিলিত লাইফ ফান্ড চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৯৭৫ কোটি ৪ লাখ টাকা। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কাছে কোম্পানিগুলোর পাঠানো অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। এর আগে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৩৬টি কোম্পানির লাইফ ফান্ড ছিল ৩৮ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের শেষে এ তহবিলের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ৯৯১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।
তবে সামগ্রিক তহবিল বাড়লেও কয়েকটি কোম্পানির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক অবস্থায় রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আর্থিক সক্ষমতা ও পলিসিধারীদের ভবিষ্যৎ দাবি পরিশোধের সামর্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আইডিআরএর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি লাইফ ফান্ড রয়েছে মেটলাইফ বাংলাদেশের। কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ১৭ হাজার ৯৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ন্যাশনাল লাইফের লাইফ ফান্ড ৭ হাজার ১০২ কোটি ৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ডেল্টা লাইফের ৪ হাজার ২৩৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং জীবন বীমা করপোরেশনের ৩ হাজার ২৩১ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
হাজার কোটি টাকার বেশি লাইফ ফান্ড রয়েছে মেঘনা লাইফ ও পপুলার লাইফেরও। মেঘনা লাইফের লাইফ ফান্ড ১ হাজার ৫২০ কোটি ৭ লাখ টাকা এবং পপুলার লাইফের ১ হাজার ৪১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। গার্ডিয়ান লাইফের লাইফ ফান্ড ৯৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, সোনালী লাইফের ৯২৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং প্রগতি লাইফের ৮৬৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, কয়েকটি কোম্পানির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক রয়েছে। এর মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ঋণাত্মক লাইফ ফান্ড ১ হাজার ১২০ কোটি ৬ লাখ টাকা এবং পদ্মা ইসলামী লাইফের ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। বায়রা লাইফের ঋণাত্মক লাইফ ফান্ড ৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা, শান্তা লাইফের ১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, গোল্ডেন লাইফের ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা এবং যমুনা লাইফের ৯৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া আকিজ তাকাফুল লাইফের লাইফ ফান্ড ৫৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা, আলফা ইসলামী লাইফের ৩৬০ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, আস্থা লাইফের ৭১ কোটি ২৮ লাখ টাকা, বেঙ্গল ইসলামী লাইফের ৭২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, বেস্ট লাইফের ৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং চার্টার্ড লাইফের ৭৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
তালিকায় আরও রয়েছে ডায়মন্ড লাইফের ২ কোটি ২১ লাখ টাকা, হোমল্যান্ড লাইফের ১৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশের ৫১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফের ১০৯ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং এনআরবি ইসলামী লাইফের ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
প্রাইম ইসলামী লাইফের লাইফ ফান্ড ৬৭৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফের ৬১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফের ২৪ লাখ টাকা, রূপালী লাইফের ৪৮৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং সন্ধানী লাইফের ৭২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ ছাড়া সানফ্লাওয়ার লাইফের ৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের ৪৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং জেনিথ ইসলামী লাইফের ৩০ কোটি ৮১ লাখ টাকা লাইফ ফান্ড রয়েছে।
স্বদেশ ইসলামী লাইফ ও সানলাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ডের তথ্য এ তালিকায় পাওয়া যায়নি।
আইডিআরএ’র তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে আকিজ তাকাফুল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের লাইফ ফান্ড দাঁড়িয়েছে ৫৬ কোটি ২৭ লাখ, আলফা ইসলামী লাইফ ৩৬০ কোটি ৫৩ লাখ, আস্থা লাইফ ৭১ কোটি ২৮ লাখ, বায়রা লাইফ (৫৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা) , বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ৭২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, বেস্ট লাইফ ৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা , চার্টার্ড লাইফ ৭৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ডেল্টা লাইফ ৪,২৩৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ডায়মন্ড লাইফ ২ কোটি ২১ লাখ টাকা , ফারইস্ট ইসলামী লাইফ (১১২০ কোটি ৬ লাখ টাকা) , গোল্ডেন লাইফ (১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা), গার্ডিয়ান লাইফ ৯৭৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা , হোমল্যান্ড লাইফ ১৬৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যমুনা লাইফ (৯৪ লাখ টাকা), জীবন বীমা করপোরেশন ৩,২৩১কোটি ৬১ লাখ টাকা, লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন অব বাংলাদেশ ৫১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, মেঘনা লাইফ ১,৫২০ কোটি ৭ লাখ টাকা, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ ১০৯ কোটি ৩৭লাখ টাকা, মেটলাইফ বাংলাদেশ ১৭,০৯৪ কোটি ৬৯লাখ টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ৭১০২ কোটি ৬ লাখ টাক , এনআরবি ইসলামী লাইফ ১১ কোটি ৭০ লাখ টাকা, পদ্মা ইসলামী লাইফ (৩২৭কোটি ২০ লাখ টাকা), পপুলার লাইফ ১,৪১৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা, প্রগতি লাইফ ৮৬৩কোটি ৮৯ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামী লাইফ ৬৭৯ কোটি ৮৭লাখ টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফ ৬১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ ২৪ লাখ টাকা, রূপালী লাইফ ৪৮৫ কোটি ৫৭লাখ টাকা, সন্ধানী লাইফ ৭২০ কোটি ৩০ লাখ টাকা, শান্তা লাইফ (১৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা), সোনালী লাইফ ৯২৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ৮৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ৪৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, জেনিথ ইসলামী লাইফ ৩০ কোটি ৮১লাখ টাকা।
ঋণাত্মক লাইফ ফান্ডে আর্থিক ঝুঁকির ইঙ্গিত:
বিশ্লেষকরা বলছেন, লাইফ ফান্ড জীবন বীমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এ তহবিলের সঙ্গে পলিসিধারীদের ভবিষ্যৎ দায় পূরণের সক্ষমতার সম্পর্ক রয়েছে। কোনো কোম্পানির লাইফ ফান্ড ঋণাত্মক হলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে।
বীমা খাতের বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ কমিশন ব্যয়, দুর্বল করপোরেট গভর্ন্যান্স, বিনিয়োগের নিম্নমান এবং নতুন ব্যবসা সংগ্রহে স্থবিরতা কোনো কোনো কোম্পানির আর্থিক অবস্থার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।
ঋণাত্মক লাইফ ফান্ডে থাকা কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে সম্পদ ও দায়ের প্রকৃত অবস্থা যাচাই, বিনিয়োগের গুণমান পর্যালোচনা এবং দাবি পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়ন জরুরি। পরিস্থিতি বিবেচনায় পুনঃমূলধনীকরণ, বিনিয়োগ পুনর্বিন্যাস ও নিয়ন্ত্রক তদারকি জোরদার করার মতো পদক্ষেপ প্রয়োজন হতে পারে।
জীবন বীমা খাতের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও পলিসিধারীদের আস্থা বজায় রাখতে লাইফ ফান্ডের পাশাপাশি অনিষ্পন্ন দাবি, বিনিয়োগ আয়, ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং সুশাসনের সূচকগুলোও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
Posted ০৮:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন