Ad
x
ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্সের এজিএম

জবাবদিহিতায় অসন্তুষ্ট শেয়ারহোল্ডাররা

বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৬৫ বার পঠিত

জবাবদিহিতায় অসন্তুষ্ট শেয়ারহোল্ডাররা

ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১৪ জুলাই ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ২০২৫ অর্থবছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদ ঘোষিত ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন লাভ করে। কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), কোম্পানি সচিব এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত উল্লেখযোগ্য শেয়ারহোল্ডার ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় অংশ গ্রহণ করেন।

অধিকাংশ শেয়ারহোল্ডার ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশকে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। অনেকেই আগামী বছর আরও বেশি নগদ লভ্যাংশ, ইপিএস বৃদ্ধি, ব্যবসা সম্প্রসারণ, ডিভিডেন্ড ইকুয়ালাইজেশন ফান্ড গঠন, শেয়ারহোল্ডারদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে সশরীরে বা হাইব্রিড পদ্ধতিতে এজিএম আয়োজনের দাবি জানান।

আবুল বাশার হাওলাদার নামে এক শেয়ারহোল্ডার মানসম্পন্ন বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ধারাবাহিকভাবে লভ্যাংশ প্রদান অব্যাহত রাখায় পরিচালনা পর্ষদকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, কোম্পানির গ্রস প্রিমিয়াম, নিট প্রিমিয়াম, আন্ডাররাইটিং মুনাফা, কর-পূর্ব ও কর-পরবর্তী মুনাফা, মোট সম্পদ, রিজার্ভ ও ইপিএসসহ বিভিন্ন আর্থিক সূচকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সব শাখা আইডিআরএর অনলাইন নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে কি না, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা, আয়কর পরিশোধের সর্বশেষ অবস্থা, ক্লেইম নিষ্পত্তি এবং ব্যবস্থাপনা ব্যয় বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান।

অন্যদিকে, অনেক শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির চেয়ারম্যানের দূরদর্শী নেতৃত্ব, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দক্ষতা এবং কোম্পানি সচিবের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তারা বলেন, বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতার প্রতিফলন। পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডারদের একাংশ কোম্পানির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন নিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। শেয়ারহোল্ডার মোবারক হোসেন অভিযোগ করেন, অতীতের কয়েকটি এজিএমেও শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর না দিয়েই এজেন্ডা অনুমোদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে এজিএমের মূল উদ্দেশ্য কীভাবে পূরণ হয়?” তিনি অনুযোগ করে বলেন, সব প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না পেলে প্রয়োজনে বিএসইসির মাধ্যমে উত্তর চাওয়া হবে।

বার্ষিক প্রতিবেদনের ৯২ থেকে ১১৫ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখিত কর্পোরেট কমপ্লায়েন্স বিষয়ে তিনি জানতে চান। প্রতিবেদনের ঘরে টিক চিহ্ন দিয়ে যে কমপ্লায়েন্স দেখানো হয়েছে, বাস্তবে সেগুলো কতটা কার্যকরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন। করপোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন নিয়েও তিনি একাধিক প্রশ্ন তুলেন। বিশেষ করে একজন ইন্ডিপেনডেন্ড পরিচালককে পূর্ণ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব প্রদান, আইন অনুযায়ী তার দায়িত্ব পালনের সময়সীমা এবং কোম্পানি সচিবের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন নোট, স্পন্সর শেয়ারহোল্ডিংয়ের শতাংশের পার্থক্য, শেয়ার প্রিমিয়াম, প্রিমিয়াম ডিপোজিট, এফডিআর, ব্যাংকভিত্তিক বিনিয়োগ, শেয়ারবাজারে লোকসান এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবের অসঙ্গতি নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলেন। বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানতে চান, কোম্পানির কোন কোন ব্যাংকে এফডিআর রয়েছে, একীভূত বা সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকে কত অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে এবং সেই অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে লোকসানের কারণ এবং অভিজ্ঞ বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন। ক্লেইম নিষ্পত্তি, এফডিআর কমে যাওয়ার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা সম্পর্কেও তিনি ব্যাখ্যা দাবি করেন। অন্য এক শেয়ারহোল্ডার কোম্পানির চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, চেয়ারম্যান নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থেকে সকাল থেকে দিনের শেষ পর্যন্ত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও কর্মকান্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকছেন। তার দাবি, বীমা আইন ও আইডিআরএ’র বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যানের এ ধরনের নির্বাহী দায়িত্ব পালনের সুযোগ নেই। কোম্পানির দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যানেজমেন্ট টিমের ওপর ন্যস্ত। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব মূলত বোর্ড সভায় সভাপতিত্ব করা, নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বোর্ডের কার্যক্রম তদারকির মধ্যে সীমাবদ্ধ।

ওই শেয়ারহোল্ডার বিষয়টি উত্থাপন করে চেয়ারম্যানের নিয়মিত অফিস পরিচালনার আইনগত ভিত্তি সম্পর্কে ব্যাখ্যা চান। আরেক শেয়ারহোল্ডার ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের আর্থিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি মোট বিনিয়োগ, শেয়ারে বিনিয়োগ, এফডিআর, নগদ ও ব্যাংক স্থিতি, মোট সম্পদ, শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি, আন্ডাররাইটিং মুনাফা, নিট প্রিমিয়াম, ক্লেইম, ব্যবস্থাপনা ব্যয়, এজেন্সি কমিশন, কর ব্যয়, এনএভি, সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ ডিভিডেন্ড নীতি এবং কোম্পানির অঅঅ ও ঝঞ-১ ক্রেডিট রেটিং ধরে রাখার কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চান। তিনি জানতে চান, মোট বিনিয়োগ ও নগদ অর্থ কমে যাওয়ার কারণ, ক্যাশ ফ্লো ও গ্রস প্রিমিয়ামের পার্থক্য নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেন। এছাড়া সম্পদ ও শেয়ারহোল্ডারদের ইকুইটি কীভাবে বৃদ্ধি করা হবে, আন্ডাররাইটিং ব্যবসা লোকসান থেকে লাভে ফেরার মূল চালিকাশক্তি কী, ফায়ার ও মোটর বীমা ব্যবসায় প্রবৃদ্ধির কারণ, মেরিন বীমা ব্যবসা কেন কমেছে, নেগেটিভ ক্লেইম পেইডের প্রকৃত কারণ কী, ব্যবস্থাপনা ব্যয় ও এজেন্সি কমিশন বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক সীমার মধ্যে তারতম্য রয়েছে কি না সে বিষয়েও তিনি জানতে চান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের পরিকল্পনা এবং উচ্চ ক্রেডিট রেটিং ধরে রাখার রোডম্যাপ সম্পর্কেও তিনি জানতে চান। আগামীতে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ, ইপিএস বৃদ্ধি, মূলধন সম্প্রসারণ, ডিভিডেন্ড ইকুয়ালাইজেশন ফান্ড গঠন এবং শেয়ারহোল্ডারবান্ধব নীতিমালা গ্রহণের আহ্বান জানান শেয়ারহোল্ডাররা। ভবিষ্যতে ভার্চুয়ালের পাশাপাশি হাইব্রিড বা সশরীরে এজিএম আয়োজনের দাবি জানান। তাদের মতে, সরাসরি সভা হলে শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্নোত্তর ও জবাবদিহিতার স্বচ্ছতা বাড়বে এতে কোম্পানির প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের আস্থা ফিরবে।

Facebook Comments Box

Posted ০৯:১৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com