|

Advertisement
×
বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ

১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের চিত্র তুলে ধরেছে বিএফআইইউ

বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ১০ বার পঠিত

১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের চিত্র তুলে ধরেছে বিএফআইইউ

সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থপাচারের একটি কৌশলগত চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) একটি কেস স্টাডি। বন বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তাকে ঘিরে তৈরি করা এই বিশ্লেষণে দেখানো হয়েছে, কীভাবে সরকারি তহবিল ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর, নগদ উত্তোলন, সঞ্চয়পত্র ক্রয় এবং আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপনের চেষ্টা করা হতে পারে।

তবে বিএফআইইউ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, কেস স্টাডিতে ব্যবহৃত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম কাল্পনিক। এগুলো বাস্তব ঘটনার ধরন বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে নয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক বন কর্মকর্তা সরকারি হিসাব থেকে প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকা নিজের ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করেন। একই সময়ে আরও প্রায় ৪৭ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক ইস্যু করা হয়। সব মিলিয়ে দুটি লেনদেনের মাধ্যমে সরকারি উৎস থেকে প্রায় ১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে প্রবাহিত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

বিএফআইইউর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকারি কর্মকর্তার বেতন ও বৈধ আয়ের সঙ্গে তাঁর ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থের পরিমাণের উল্লেখযোগ্য অসামঞ্জস্য রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার হিসাবে প্রায় ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা জমা থাকার তথ্যকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কেস স্টাডিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থের উৎস আড়াল করতে পরিবারের সদস্যদের নামেও বিপুল পরিমাণ সঞ্চয়পত্র কেনা হয়। কর্মকর্তার স্ত্রী প্রায় ৪৫ লাখ টাকার এবং তাঁর বাবা-মা প্রায় ১৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র কিনেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া একজন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও তাঁর স্ত্রীর কাছেও ৮০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সঞ্চয়পত্র থাকার তথ্য উঠে এসেছে, যার অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএফআইইউ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তরের পর দ্রুত প্রায় ১ কোটি টাকা নগদ উত্তোলন করা হয়। এরপর সেই অর্থ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্ত বিশ্লেষণে এটিকে অর্থপাচারের ‘প্লেসমেন্ট’ ও ‘লেয়ারিং’ ধাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএফআইইউ আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরকারি দরপত্র ও নিরাপত্তা আমানতসংক্রান্ত কার্যক্রমে অনুমোদন ছাড়াই সম্পৃক্ত ছিলেন বলে সন্দেহ রয়েছে। সরকারি পদ ব্যবহার করে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়া এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেনে জড়িত থাকার বিষয়টিও কেস স্টাডিতে গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে অসামঞ্জস্য, স্বল্প সময়ে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর, অস্বাভাবিক নগদ উত্তোলন এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিনিয়োগ—এসবই অর্থপাচার ও দুর্নীতির গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির সূচক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থপাচারের ক্ষেত্রে এখন আর শুধু ব্যাংক হিসাব নয়, সঞ্চয়পত্র, আত্মীয়স্বজনের হিসাব এবং বিভিন্ন আর্থিক উপকরণও ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্তে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

বিএফআইইউ বলেছে, সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন (এসএআর), আর্থিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ধরনের দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ঝুঁকি চিহ্নিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত আর্থিক নজরদারি ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেছে সংস্থাটি।

Facebook Comments Box

Posted ০৭:৩৩ অপরাহ্ণ | বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com