নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট ১৪ বার পঠিত
দেশে ব্যক্তিগত ব্যয়ের জন্য ব্যাংকঋণের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। আবাসন, বেতননির্ভর ঋণ, ক্রেডিট কার্ড, জমি কেনাসহ বিভিন্ন খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে গত এক বছরে ব্যাংক খাতে ভোক্তা ঋণের পরিমাণ প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। সর্বশেষ প্রান্তিকেও এ ঋণের প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ব্যাংক খাতে মোট ভোক্তা ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর তিন মাস আগে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৩৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। সে হিসাবে জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসেই ভোক্তা ঋণ বেড়েছে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালের মার্চ শেষে এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ভোক্তা ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে আবাসন ঋণ, বেতননির্ভর ঋণ, ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার, জমি ক্রয় এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত ঋণের চাহিদা বৃদ্ধিই ভোক্তা ঋণের প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
মার্চ শেষে ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনার জন্য বিতরণ করা ঋণের স্থিতি বেড়ে প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তিন মাস আগে এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। একই সময়ে বেতননির্ভর ঋণ ২২ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ২৩৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নেওয়া ঋণেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। ডিসেম্বর শেষে এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, যা মার্চ শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৫১৯ কোটি টাকায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ ও স্বল্পমেয়াদি অর্থসংস্থানে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।
এ ছাড়া জমি কেনার জন্য নেওয়া ঋণ ৬ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ১৮১ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মোটরগাড়ি ও মোটরসাইকেল কেনার ঋণও একই সময়ে ৬ হাজার ৮৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) ও বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্রের বিপরীতে নেওয়া ব্যক্তিগত ঋণে। তিন মাসের ব্যবধানে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার ৫৯১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৭ হাজার ৬২৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
পেশাভিত্তিক ঋণেও কিছুটা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীদের জন্য দেওয়া ঋণ ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিপরীতে নেওয়া ঋণ ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা। অন্যান্য ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণও ২ হাজার ৯৯০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
তবে সব খাতেই ঋণ বাড়েনি। টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটর, কম্পিউটারসহ গৃহস্থালি ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক পণ্য কেনার ঋণে সামান্য পতন দেখা গেছে। ডিসেম্বর শেষে এ খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা, যা মার্চ শেষে কমে ৩৪ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
Posted ০৭:১৮ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com