Ad
x
লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতের সংকট উত্তরণে চেয়ারম্যান-সিইওদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

সিঙ্গেল প্রিমিয়াম পলিসি নিয়ে প্রশ্ন

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬   প্রিন্ট   ৯৭ বার পঠিত

সিঙ্গেল প্রিমিয়াম পলিসি নিয়ে প্রশ্ন

দেশের বীমা শিল্পকে টেকসই ও জনবান্ধব করতে বীমা পণ্যকে আরও যুগোপযোগী করার পাশাপাশি অননুমোদিত বা রিভিউবিহীন সিঙ্গেল প্রিমিয়াম পলিসি বন্ধের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে বর্তমান চেয়ারম্যান বা মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) বিরুদ্ধে মামলা করার পরিবর্তে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

দেশের বীমা শিল্পের চলমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট এবং উত্তরণে করণীয় নির্ধারণে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) আয়োজিত জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিআইএর প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ। সভায় দেশের জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান, সিইও এবং পরিচালনা পর্ষদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারে কেবল নতুন পণ্য বাজারে আনা নয়, বরং আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ, বাস্তবসম্মত মুনাফার প্রতিশ্রুতি এবং দ্রুত দাবি নিষ্পত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে যে কোনো বীমা পণ্য চালুর আগে তার অ্যাকচুয়ারিয়াল ভিত্তি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং দীর্ঘমেয়াদি দায় পরিশোধের সক্ষমতা কঠোরভাবে মূল্যায়নের ওপরও জোর দেয়ার দাবি জানান।

সভায় আলোচনায় অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান বাজার বাস্তবতায় বীমা পণ্যকে মানুষের চাহিদা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। একই সঙ্গে সিঙ্গেল প্রিমিয়ামভিত্তিক কিছু বীমা পণ্যের কার্যকারিতা ও আর্থিক টেকসইতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

আলোচনায় বলা হয়, গ্রাহকের আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলো যেখানে তুলনামূলক কম হারে মুনাফা বা সুদ দিতে পারছে, সেখানে কিছু বীমা কোম্পানি এককালীন (সিঙ্গেল) প্রিমিয়াম গ্রহণ করে ব্যাংকের চেয়েও বেশি রিটার্ন বা মুনাফা প্রদানের প্রতিশ্রুতি কীভাবে দিচ্ছে-তা গভীরভাবে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এ ধরনের পণ্যের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতা ও গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়েও প্রশ্ন উত্থাপিত হয়।
কয়েকজন চেয়ারম্যান এবং মুখ্য নির্বাহী সভায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জীবন বীমা খাতের অনেক কোম্পানিই এখন বীমা দাবি দিতে পারছে না। কিন্তু বাকী যেসব কোম্পানি রয়েছে সেসব কোম্পানির যাতে সুনাম নষ্ট না হয়, সেজন্য এখন থেকেই সম্মিলিত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে। তারা বলেন, অনেক সিঙ্গেল প্রিমিয়ামের পলিসির অ্যাকচুয়ারিয়াল অনুমোদন থাকলেও, সেসব আসলে কীভাবে কার্যকর হচ্ছে-তা এখন আইডিআরএ রিভিউ করে দেখতে পারে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রশ্ন তোলেন, যেখানে ব্যাংকগুলো গ্রাহকের আমানতের বিপরীতে তুলনামূলক সীমিত হারে সুদ বা মুনাফা দিতে সক্ষম হচ্ছে, সেখানে কিছু বীমা কোম্পানি এককালীন প্রিমিয়ামের বিপরীতে আরও বেশি রিটার্নের প্রতিশ্রুতি কীভাবে দিচ্ছে। তাদের মতে, এ ধরনের পণ্যের আর্থিক ভিত্তি, অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন এবং বিনিয়োগ সক্ষমতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা জরুরি।

সভায় আরও বলা হয়, বীমা দাবি পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানির বর্তমান চেয়ারম্যান ও সিইওদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। অথচ এসব অনিষ্পন্ন দাবির বড় একটি অংশ অতীতের ব্যবস্থাপনা, অনিয়ম বা পূর্ববর্তী পরিচালকদের সময়কার সিদ্ধান্তের ফল। ফলে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।

সভায় দুর্বল কোম্পানিগুলোর বকেয়া বীমা দাবি পরিশোধে বিআইএ, আইডিআরএ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানানো হয়।

ব্যাংকাস্যুরেন্সের অগ্রগতি পর্যালোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আরো বেশি সংখ্যক ব্যাংক ও বীমা কোম্পানিকে এর সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

সভায় মুখ্য নির্বাহীদের পক্ষে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও পপুলার লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বি এম ইউসুফ আলী, প্রগতি লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জালালুল আজিম, জেনিথ লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান, মেটলাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা উদ্দিন আহমদ বক্তব্য রাখেন। চেয়ারম্যানদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিআইএ প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ, মেঘনা লাইফের ভাইস চেয়ারম্যান ও বিআইএ’র সাবেক প্রেসিডেন্ট নাসির উদ্দিন আহমেদ পাভেল, সন্ধানী লাইফের চেয়াম্যান মজিবুল ইসলাম ও চার্টার্ড লাইফের চেয়ারম্যান ইঞ্জিঃ নুরুল আকতার।

এর আগে সভা উপলক্ষে জারি করা নোটিশে বিআইএ জানায়, দেশের বীমা শিল্পের চলমান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিয়ে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সভায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের যথাসময়ে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, কোনো কারণে চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকতে না পারলে কোম্পানির ভাইস-চেয়ারম্যান অথবা পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্যকে অবশ্যই সভায় অংশ নিতে হবে। একই সঙ্গে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে যথাযথভাবে অবহিত করার জন্য সিইওদের অনুরোধ জানানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বীমা খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, অনিষ্পন্ন দাবি নিষ্পত্তি, নিয়ন্ত্রক সংস্কার, পণ্যের আধুনিকায়ন এবং শিল্পের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধারে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সভায় উত্থাপিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বীমা শিল্পে সুশাসন, জবাবদিহি ও আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৮:৪১ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com