মো. মানসুর আলম সিকদার
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ প্রিন্ট ২১ বার পঠিত
দক্ষিণ আফ্রিকা, গুয়াতেমালা, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্য ছাড়া এমন কোন রাষ্ট্র খুঁজে পাওয়া যাবে না যেখানে মোটর লায়াবিটি বীমাটি বাধ্যতামূলক না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বাংলাদেশে এখনো মোটর লায়াবিলিটি বীমাটি বাধ্যতামূলক না। এটি একটি ভুল সিদ্ধান্ত বলে আমরা মনে করি। এ কারণে প্রতি বছর সরকার শত শত কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। পূর্বে কিন্তু মোটর লায়াবিলিটি বীমা বাধ্যতামূলক ছিল। বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপ২০২০ সালে সার্কুলার নম্বর: সার্কুলার নং- নন-লাইফ ৮২/২০২০ এর মাধ্যমে থার্ড-পার্টি মোটর বীমা বা মোটর লায়াবিলিটি বীমার বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে সেটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিল। মোটর লায়াবিলিটি বীমাটি বিলুপ্ত হওয়ার কারণে বীমা কোম্পানিগুলো জিডিপিতে অবদান রাখার সক্ষমতা অনেকাংশে হারিয়ে ফেলেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সর্বশেষ দাপ্তরিক হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা ৬৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৪৭টি।
দেশের নিবন্ধিত যানবাহনের এই বিশাল সংখ্যার ভেতরে সব ধরনের পরিবহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নিচে প্রধান কয়েকটি ক্যাটাগরির আলাদা হিসাব দেওয়া হলো:
১) মোটরসাইকেল: বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ ৯৭ হাজার (প্রায় ৫০ লাখ)।
২) ব্যক্তিগত গাড়ি (Private Passenger Car): দেশে ব্যক্তিগত ব্যবহার্য প্রাইভেট কারের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৩২ হাজার।
৩) জিপ ও মাইক্রোবাস: নিবন্ধিত জিপের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার এবং মাইক্রোবাসের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার।
৪) পাবলিক ও কমার্শিয়াল ট্রান্সপোর্ট: এর মধ্যে নিবন্ধিত অটোরিকশার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ২৬ হাজার, ট্রাকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার এবং বাসের সংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজার।
ক) যাত্রী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ীঃ ২০২৫ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা: ৬,৭২৯টি, নিহত: ৯,১১১ জন, আহত: ১৪,৮১২ জন।
খ) ৩ বছরে মোট ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়েছেঃ ২০২৩ থেকে ২০২৬ জুল পর্যন্ত ৩ বছরে মোট ১ হাজার ৭ শতাধিক সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারকে বিআরটিএ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিহত পরিবার পেয়েছে ১,৪২০ জন এবং গুরুতর বা স্থায়ীভাবে অঙ্গহানি হওয়া প্রায় ২৮০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
গ) ৩ বছরে হতাহতের সংখ্যাঃ বেসরকারি হিসাব (বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী) বিগত ৩ বছরের (২০২৩, ২০২৪, এবং ২০২৫) বার্ষিক পরিসংখ্যান একত্র করলে মোট হতাহতের সংখ্যা দাঁড়ায়: সড়ক দুর্ঘটনা সংখ্যা: ১৯,৩৪৯টি, নিহত: ২৫,৫৫৬, আহত: ৩৭,৭৯২। সে হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনা মোট নিহত পরিবাব মাত্র ৫.৫৫৬% ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল, যা একেবারেই অপ্রতুল।
ঘ) ক্ষতিপূরণ প্রদানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ
তহবিলের আকার: প্রতি বছর সব ধরনের যানবাহন নিবন্ধনের সময় নির্দিষ্ট পরিমাণ চাঁদা বা ফি আদায়ের মাধ্যমে এই বিশাল তহবিল গঠন করেছে বিআরটিএ। বর্তমানে এই ফান্ডে শত কোটি টাকা অলস পড়ে থাকলেও প্রচারণা ও তথ্যের অভাবে অনেক ভুক্তভোগী আবেদন করতে পারেন না।
ক্ষতিপূরণের পরিমাণ: এই তহবিল থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে এককালীন ৫ লাখ টাকা, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গহানি বা চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণকারীদের ৩ লাখ টাকা এবং চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে এমন গুরুতর আহতদের ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়। এখানে তৃতীয় পক্ষের কোন ক্ষতিপূলনের কথা বলা হয় নাই। কিন্তুমোটর লায়াবিলিটি বীমাটিতে নিহত, আহত এবং তৃতীয় পক্ষের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়।
তাই মোটর লায়াবিলিটি বীমাটি পুনরায় বাধ্যতামূলকভাবে চালু করা এখন সময়ের দাবি।
Posted ১১:২২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com