শনিবার ২৩ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

Ad
x

যুদ্ধ কীভাবে একটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়?

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬   প্রিন্ট   ৪০৮ বার পঠিত

যুদ্ধ কীভাবে একটি দেশের মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়?

যুদ্ধ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে জাতির ইতিহাসকে রূপ দিয়েছে। মানবিক ও রাজনৈতিক পরিণতির বাহিরেও যুদ্ধ একটি দেশের অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলে। যুদ্ধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাবগুলোর মধ্যে একটি হল মুদ্রস্ফীতি। যুদ্ধ কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি ঘটায়, কীভাবে হঠাৎ সংঘাত বা আক্রমণ একটি সমাজ বা রাষ্ট্রকে বিপর্যস্ত করে এই প্রশ্নটা থেকেই যায়।

অনেক পরিস্থিতিতে যুদ্ধ মুদ্রাস্ফীতির দিকে পরিচালিত করতে পারে, যার ফলে মানুষের সঞ্চয় হ্রাস পায়, অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায় এবং আর্থিক ব্যবস্থার উপর আস্থা হ্রাস পায়। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন গৃহযুদ্ধের সময়, কনফেডারেসি যুদ্ধের খরচ মেটাতে আর্থিকভাবে লড়াই করতে বাধ্য হয়। তাই তারা সৈন্যদের বেতন দেয়ার জন্য টাকা ছাপাতে শুরু করে। কিন্তু, তারা টাকা ছাপানোর সাথে সাথে টাকার মূল্য শীঘ্রই হ্রাস পেতে থাকে। আর উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি মধ্যম আয়ের সঞ্চয়কারীদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে কারণ তারা তাদের সঞ্চয়ের মূল্য হারিয়ে ফেলে।

মুদ্রাস্ফীতি কী ? মুদ্রাস্ফীতি ঘটে যখন সময়ের সাথে সাথে পণ্য ও পরিষেবার সাধারণ মূল্য বৃদ্ধি পায়, যার ফলে অর্থের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পায়। যুদ্ধের সময়, সরকার প্রায়শই সামরিক সরঞ্জাম, সৈন্য সরবরাহ এবং পুনর্গঠনের জন্য বিশাল ব্যয়ের সম্মুখীন হয়। এই খরচগুলো পরিচালনা করার জন্য তারা আরও অর্থ মুদ্রণ করতে পারে বা ঋণ গ্রহণ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা মুদ্রাস্ফীতির দিকে পরিচালিত করে। তাছাড়া যুদ্ধের সময় জ্বালানি, খাদ্য, ধাতু এবং কাঁচামালের মতো প্রয়োজনীয় সম্পদের অভাব হয়ে পড়ে। সরকার সামরিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেয়, বেসামরিক লোকদের জন্য কম পণ্য রেখে দেয়। এই অভাব দাম বাড়ায় এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি করে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছির কারণ অর্থনীতি প্রায় পূর্ণ ক্ষমতার কাছাকাছি চলেছিল, সরকারি ব্যয়ের উচ্চস্তর এবং কর্মীদের অভাব মুদ্রাস্ফীতির চাপের সম্মূখীন হয়েছিল। প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উভয়ই যুক্তরাজ্যের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই জাতীয় ঋণের পরিমাণ তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে, পুনর্গঠন এবং কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের কারণে ঋণ বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শেষে যুক্তরাজ্যের জাতীয় ঋণ শতকরা ১৫০ ভাগ এ বেড়ে যায়-কিন্তু ১৯৫০ এর দশকের গোড়ার দিকে তা শতকরা ২৪০ ভাগ এ পৌছে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের উপর নির্ভর করেছিল এবং তা পরিশোধ করতে বহু দশক সময় লেগেছিল।

যুদ্ধের সময়, পণ্য ও পরিষেবায় ঘাটতি এবং তেলের মতো কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতিতে ব্যয়ের চাপ এবং মুদ্রাস্ফীতিও দেখা দিতে পারে। যদি কোন দেশ যুদ্ধের কারণে বিধ্বস্ত হয় এবং পণ্য উৎপাদনের ক্ষমতা তীব্রভাবে হ্রাস পায়, তাহলে এটি অতি মুদ্রাস্ফীতি পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, কারণ সরকার পণ্যের অভাব মোকাবিলা করার জন্য মরিয়া হয়ে টাকা ছাপায়। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৪৬ সালে একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির সাথে হাঙ্গেরি এবং অষ্ট্রিয়া রেকর্ডের সর্বোচ্চ হারে অতি মুদ্রাস্ফীতি অনুভব করেছিল। যুদ্ধ প্রায়শই তেলের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে, কারণ বড় ধরনের সংঘাত সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯০ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। যুদ্ধের সময় আমরা প্রায়শই সরকারি খাতের ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি দেখতে পাই। সরকার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ঋণ নিতে ইচ্ছুক কারণ-যুদ্ধ প্রচেষ্টার প্রতি দেশপ্রেমিকদের সমর্থন রয়েছে।

ইরান যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলবে? একটি দীর্ঘ যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী জিডিপির উপর সীমিত প্রভাব পড়বে। কিছু কিছু উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো ক্রমাগত উচ্চ জ্বালানির দামের ঝুঁকিতে রয়েছে। অর্থনীতিবিদরা আরেকটি দিক বিবেচনা করছে সেটা হচ্ছে এর অর্থনৈতিক পরিণতি। এই পরিণতিগুলোও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে-যদি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে এর বন্টন হবে অসম। কিছু দেশকে এর ব্যাপক মূল্য দিতে হবে। অন্যদের জন্য এর প্রভাব আশ্চর্যজনকভাবেই সামান্য হতে পারে। আর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত প্রায় নিশ্চিতভাবেই অর্থনীতিতে আরও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করবে। উৎপাদন ব্যাহত হবে, বিনিয়োগ স্থবির হবে এবং পর্যটন সংকুচিত হবে। ইরানের অর্থনীতি আরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। অন্যান্য দেশের যুদ্ধের প্রভাবের উপর ভিত্তি করে জিডিপি ১০ শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে-যদিও ইরান নিজে সর্বশেষ ২০২৪ সালে সরকারি জিডিপি প্রকাশ করেছিল।

কিন্তু, বিশ্ব অর্থনীতির কী হবে ? উপসাগরীয় অর্থনীতিগুলো বিশ্ব জিডিপির মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশের অংশীদার। তাই, এমনকি একটি গুরুতর আঞ্চলিক মন্দা ও বিশ্ব উৎপাদনের উপর সীমিত প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলবে। উদাহরণস্বরূপ, কাতার প্রায় বিশ্বের ৪০ শতাংশ হিলিয়াম উৎপাদনের একটি উৎস। যা সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এই অঞ্চলটি অ্যামোনিয়া এবং নাইট্রোজেনের ও একটি উল্লেখযোগ্য উৎপাদক, যা অনেক কৃত্রিম সার পণ্যের মূল উপাদান। বিশ্বের সমুদ্র পথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে যায়। এই সংর্কীন জলপথ দিয়ে পণ্য পরিবহনে যে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ওপর তাৎক্ষনিক প্রভাব ফেলে। অর্থনৈতিক পরিভাষায়, জ্বালানির উচ্চমূল্য একটি দেশের বাণিজ্য শর্তকে (ঞবৎসং ড়ভ ঞৎধফব) পরিবর্তন করে দেয়, যাকে অর্থনীতিবিদরা বলেন-অর্থাৎ আমাদানির তুলনায় তার রপ্তানির মূল্য। যখন জ্বালানির দাম বাড়ে, তখন আয় জ্বালানি আমাদানিকারী দেশগুলো থেকে জ্বালানি রপ্তানিকারকদের কাছে স্থানান্তরিত হয়। জ্বালানি সংকটের মাত্রা ও স্থায়ীত্বই শেষ পর্যন্ত এর সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ধারণ করে। জ্বালানি আমদানিকারী দেশগুলোর ক্ষেত্রে, এর প্রধান সঞ্চালন মাধ্যম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির মাধ্যমে। তেল ও গ্যাসের উচ্চমূল্য পরিবার ও প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দেয়, যা প্রকৃত আয় সংকুচিত করে এবং ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস করে।

মিডল ইস্ট কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের তথ্য মোতাবেক, মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলায় গ্লোবাল নর্থে সুদের হার বৃদ্ধি করা হলে ঋণগ্রস্ত গ্লোবাল সাউথ দেশগুলো ঋণ সংকটের মুখোমুখি হতে পারে। চীন এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক পরিণতির বিরুদ্ধে আরও বেশি প্রতিরোধী। কারণ তারা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি বৃহৎ আকারের জ্বালানি বৈচিত্র্য অভিযান পরিচালনা করেছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পারমানবিক শক্তি এবং কয়লায় বিশাল বিনিয়োগ করেছে, তার হাইড্রোকার্বন সরবরাহকারীদের, বৈচিত্র্যময় করেছে এবং একটি কৌশলগত রিজার্ভ সংগ্রহ করেছে।

ইউরোপ যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভব করছে কারণ নর্ড স্ট্রিম গ্যাস পাইপলাইন আক্রমণ এবং রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মহাদেশটি ইতোমধ্যেই রাশিয়ান হাইড্রোকার্বন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ইউরোপের শিল্পগুলো ইতোমধ্যেই উচ্চ জ্বালানি খরচের কারণে চাপের মধ্যে রয়েছে, এবং এই যুদ্ধ নিশ্চিতভাবে দীর্ঘমেয়াদী পতনশীল প্রবৃদ্ধির শিকার হচ্ছে অর্থনীতি। আমেরিকা জ্বালানিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু পেট্রোলের দাম জনসাধারণের অসন্তোষের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। খাদ্যমূল্যের মতোই, এগুলোও জনসংখ্যার সুবিধা বঞ্চিত অংশকে আরও কঠিনভাবে আঘাত করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষকরা, যারা একটি সোচ্চার জনগোষ্ঠী, তারা জ্বালানি ও সারের দামের কারণে ও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে, যা ব্যয়ের একটি বড় কারণ। এরই মধ্যে তারা ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের কারণেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিক্সের শিয়ারিং এবং তার অর্থনীতিবিদদের মতে, যুদ্ধ যদি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়, উপসাগরীয় অর্থনীতির বাহিরে, জিডিপি, মুদ্রাস্ফীতি এবং আর্থিক নীতির উপর প্রভাব সীমিত হবে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্খায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলে দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয় বাড়ার ফলে দেশের মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী ফেব্রুয়ারি-২০২৬ এ মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। যুদ্ধ তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন মোতাবেক বাংলাদেশ গত ১০ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে ‘লাল’ তালিকায় অবস্থান করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সহসাই কমছে না। যে সব দেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে, যেসব দেশ ‘লাল’ তালিকাভুক্ত।

বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বজুড়ে খুচরা পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি চলতি বছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসও সংশোধন করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, জ্বালানির দাম ১০ শতাংশ বেড়ে যদি এক বছর স্থায়ী হয়, তবে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৪০ বেসিস পয়েন্ট (দশমিক ৪০ শতাংশ) বাড়তে পারে। ফলে বৈশিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দশমিক ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।
যুদ্ধ সবসময়ই শক্তিশালী অর্থনৈতিক পরিণতি বয়ে এনেছে। তাই, যুদ্ধ তীব্র হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি দুর্বল হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও রপ্তানিতে।

লেখক : অর্থনীতি বিশ্লেষক
ই-মেইল pkroyrajat2016@gmail.com

Facebook Comments Box

Posted ০৫:৫০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

আর্কাইভ ক্য

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com