নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ২৩ বার পঠিত
আদালতের আদেশ অমান্য করে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মিরপুরের গোড়ান চটবাড়ি এলাকার ৬২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটির দাবি, গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫০-৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সম্পত্তিতে প্রবেশ করে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করেছে।
একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে শাহ আলী থানায় পরপর দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন বা কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ।
রোববার (৪ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. আবদুর রহিম ভূঞা এসব অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে ভোগদখল করে আসছে। কোম্পানির কাছে মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও রেকর্ড রয়েছে। সম্পত্তির একটি অংশে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখান থেকে কোম্পানি ভাড়াও পেয়ে আসছে বলে দাবি করা হয়।
কোম্পানির অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির পর আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুল হঠাৎ ওই সম্পত্তির ওপর দাবি উত্থাপন করেন। তিনি নিজেকে স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ভাই হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়।ফারইস্ট ইসলামী লাইফের দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। হাইকোর্ট বিভাগের ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখের আদেশ অনুযায়ী রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির ওপর স্থগিতাদেশ বজায় রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এরপরও গত ২০ সেপ্টেম্বর তাদের নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় একটি জিডি করা হয়।
এর কয়েক দিন পর, ২৪ সেপ্টেম্বর, আনিসুল ইসলাম ওরফে নাজমুলের নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সম্পত্তিতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছে কোম্পানিটি। ঘটনার পর ২৭ সেপ্টেম্বর শাহ আলী থানায় আরও একটি জিডি করা হয়েছে।
তবে দুটি জিডি এবং একাধিকবার অবহিত করার পরও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেনি এবং দখলচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত সিইও মো. আবদুর রহিম ভূঞা।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের আদেশ কি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে এবং থানায় অভিযোগ জানিয়েও একটি বৈধ প্রতিষ্ঠান পেশিশক্তির কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে কি না।
পরিস্থিতিতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ছয়টি দাবি জানিয়েছে। এগুলো হলো ১. বিচারাধীন সম্পত্তির ওপর আদালতের আদেশের পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়ন।
২. ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা, ৫০-৬০ জনের মহড়া এবং জোরপূর্বক সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার।
৩. দখল প্রক্রিয়ায় কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তদন্ত।
৪. ২১ ও ২৭ সেপ্টেম্বরের জিডি থাকা সত্ত্বেও শাহ আলী থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার কারণ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত।
৫. কোম্পানির বৈধ সম্পত্তি ও গ্রাহকদের আমানত রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৬. আইন ও আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি অবৈধ দখলমুক্ত করে কোম্পানির শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করা।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে ফারইস্ট ইসলামী লাইফের ভারপ্রাপ্ত সিইও বলেন, তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে কোনো বিচার বা রায় চান না। বরং দলিলপত্র, আদালতের আদেশ, ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা এবং পুলিশের ভূমিকা অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
Posted ০৮:১৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | rina sristy
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com