|

Advertisement
×

ঋণসংকট সামলাতে শেয়ারবাজারে আসার পরিকল্পনা সিটি গ্রুপের

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬   প্রিন্ট   ১৩ বার পঠিত

ঋণসংকট সামলাতে শেয়ারবাজারে আসার পরিকল্পনা সিটি গ্রুপের

ব্যাংকঋণ পুনর্গঠন ও নতুন অর্থায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপ। এ লক্ষ্যে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি সম্পদ ও প্রকল্প বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে হোশেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলে থাকা ছয় থেকে সাতটি বড় প্রকল্প বিক্রি করে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে গ্রুপটি। একই সময়ে জমি বিক্রি করে আরও প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে নতুন মূলধন সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

ঋণ পুনর্গঠন নিয়ে ব্যাংকগুলোর মতপার্থক্য

সিটি গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিল ও নতুন কার্যকরী মূলধন সরবরাহের বিষয়ে ৩৬টি ঋণদাতা ব্যাংকের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। গ্রুপটি বিদ্যমান ঋণ ১২ বছরে পুনঃতফসিল করার পাশাপাশি নতুন করে ৬ হাজার কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন চেয়েছে।

তবে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় ব্যাংকগুলোর একাংশ নতুন অর্থায়নে সম্মতি দিতে পারছে না। তাদের আশঙ্কা, নতুন ঋণ দেওয়ার পরও পুরোনো দায় পরিশোধ নিশ্চিত না হলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক সময় বাড়ানোর অনুমতি না দিলে গত ১ অক্টোবর থেকে সিটি গ্রুপের প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ শ্রেণিকরণের ঝুঁকি তৈরি হওয়ার কথা ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ঋণের বিপরীতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সঞ্চিতি রাখতে হতে পারে, যা তাদের মুনাফায় চাপ সৃষ্টি করবে।

প্রকল্প ও জমি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ

সিটি গ্রুপের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অংশ হলো সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ। ২০২৮ অর্থবছরের মধ্যে হোশেন্দি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ছয় থেকে সাতটি বড় প্রকল্প বিক্রি করে ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। জমি বিক্রি থেকে আসতে পারে আরও প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব সম্পদ বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না এবং প্রকৃত বাজারমূল্য কত হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। সম্পদ বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের কতটা ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে, সেটিও পরিকল্পনার সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

গ্রুপটির আর্থিক অবস্থা মূল্যায়ন ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা তৈরির জন্য আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংসহ দুটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হয়েছে। তারা গ্রুপের বিভিন্ন কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য এবং ভবিষ্যৎ আয়-ব্যয়ের পূর্বাভাস পর্যালোচনা করছে। ব্যাংকারদের আগের বৈঠকে গঠিত একটি কমিটিও সম্পদ মূল্যায়নের কাজে যুক্ত রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে প্রায় ছয় মাস লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা

সম্পদ বিক্রির পাশাপাশি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে মূলধন সংগ্রহ করতে চায় সিটি গ্রুপ। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করার এবং অর্থায়নের বিকল্প উৎস তৈরির সুযোগ পেতে পারে।

তবে তালিকাভুক্তির সম্ভাব্য সময়সূচি, শেয়ার ছাড়ার ধরন, ইস্যুর আকার কিংবা কত টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, ব্যবসার স্থিতিশীলতা, করপোরেট সুশাসন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ঋণসংকটের প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা গ্রুপটির আর্থিক সক্ষমতা, ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ নগদ প্রবাহের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে পারেন।

বিক্রি কমেছে, চাপে সরবরাহব্যবস্থা

ঋণসংকটের প্রভাব সিটি গ্রুপের ব্যবসা ও পণ্য সরবরাহেও পড়েছে। গ্রুপটির প্রস্তাব অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর সময়ে বিক্রি প্রায় ৩৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কমে ১৪ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে।

গত মার্চ থেকে পর্যাপ্ত ঋণপত্র বা এলসি খুলতে না পারায় পণ্য সরবরাহ কমেছে। এতে বাজারে গ্রুপটির অংশীদারত্বও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সিটি গ্রুপের পণ্য তালিকায় রয়েছে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চাল, ডাল, চিনি, গুঁড়া দুধ ও পশুখাদ্য। ফলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা শুধু গ্রুপটির ব্যবসার জন্য নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্যাংকগুলোর প্রস্তাব কী

ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর মতে, বিদ্যমান ঋণের চাপ কমাতে প্রথমে সম্পদ বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করা উচিত। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী দুই বছরে চার থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দায় কমাতে পারে সিটি গ্রুপ। এরপর ব্যবসা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় কার্যকরী মূলধনের বিষয়টি ব্যাংকগুলো আলাদাভাবে বিবেচনা করতে পারে।

সব মিলিয়ে সম্পদ বিক্রি, ঋণ পুনর্গঠন ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পরিকল্পনা সিটি গ্রুপের জন্য অর্থায়নের নতুন পথ খুলতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সমঝোতা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনের ওপরই নির্ভর করবে গ্রুপটির আর্থিক পুনরুদ্ধারের সাফল্য।

Facebook Comments Box
✎ মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Posted ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

bankbimaarthonity.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com