অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ৪৩ বার পঠিত
রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে | ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল বিল, প্রকৃত পরিচয় ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন
বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রায় ৯৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রেলওয়ে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও সীমান্ত ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিল তৈরি করে ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে ব্যাংক হিসাব থেকে তুলে নেওয়া হয় পুরো অর্থ।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ‘মেসার্স দি কসমোপলিটন করপোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চারটি বিলের বাইরে অতিরিক্ত ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি কথিত ভুয়া বিল তৈরি করা হয়। ওই বিলের বিপরীতে রেলওয়ের অর্থ পরিশোধ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর ৯৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি চেক ইস্যু করে রেলওয়ে। পরদিন চেকটি সীমান্ত ব্যাংকের আগ্রাবাদ শাখায় ‘দি কসমোপলিটন করপোরেশন’-এর নামে খোলা একটি ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ধাপে ওই হিসাব থেকে পুরো টাকা তুলে নেওয়া হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে দপ্তরের বিল রেজিস্টারসহ অন্যান্য নথিতে কথিত ভুয়া বিলটির বৈধ এন্ট্রি পাওয়া যায়নি। বিল গ্রহণ ও চেক ইস্যুর ক্ষেত্রে নিয়ম অনুসরণ না করা এবং মূল ঠিকাদারের পরিচয় ও তথ্য যাচাই না করার অভিযোগও আনা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া এবং সীমান্ত ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কোহিনুর আক্তার নামের এক নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হয়েছিল। তবে প্রকৃত কোহিনুর আক্তার নিজেকে একজন শ্রমিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধানকালে কথিত ভুয়া কোহিনুর আক্তার ও সোহাগ আলীকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তদন্তে তাঁদের প্রকৃত পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মামলার আসামিদের মধ্যে রেলওয়ের আটজন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তিনজন এবং সীমান্ত ব্যাংকের তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন।
রেলওয়ের আসামিরা হলেন অস্থায়ী কর্মচারী মো. হাবিবুল্লাহ খান, সাবেক অডিটর পবন কুমার পালিত, জুনিয়র অডিটর মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ও খোকন চন্দ্র দে, হিসাব কর্মকর্তা মো. মামুন হোসেন, হিসাবরক্ষক সৈয়দ মো. সাইফুর রহমান, হিসাব কর্মকর্তা মো. আবু নাছের এবং অফিস সহায়ক মো. মাকসুদুর রহমান।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আসামিরা হলেন লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন পরিদর্শক মুহাম্মদ ইকবাল, সাবেক উপকর কর্মকর্তা এম. মনজুর উদ্দিন চৌধুরী এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর কর্মকর্তা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
সীমান্ত ব্যাংকের আসামিরা হলেন সাবেক অফিসার মো. পারভেজ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার বিদেশ বড়ুয়া এবং সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ ফরহাদ সরওয়ার।
দুদকের উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, আসামিরা পরস্পরের সহযোগিতায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাঁদেরও তদন্তের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে কথিত ভুয়া পরিচয়ে ট্রেড লাইসেন্স ও ব্যাংক হিসাব খোলার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।
সরকারি অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে বিলের সত্যতা যাচাই, দাপ্তরিক নথির সঙ্গে হিসাবের সামঞ্জস্য পরীক্ষা এবং ঠিকাদারের পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় কীভাবে অনিয়ম ঘটেছে, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে মামলার অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করা যায় না।
Posted ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com
✎ মন্তব্য করুন