অনলাইন ডেস্ক
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রিন্ট ১২ বার পঠিত
রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বিদ্যমান ৯৮টি বাস রুটকে ৩২টি রুটে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করেছে সরকার। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে একাধিক কোম্পানির পরিবর্তে একটি কোম্পানির অধীনে বাস পরিচালনা করা হবে। অর্থাৎ, চালু হবে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ ভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি বাস সার্ভিস।
প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে কতটি বাস চলবে, কোন কোম্পানি পরিচালনা করবে, কোথায় কাউন্টার ও ডিপো থাকবে এবং বাসের জন্য কোথায় লে-ওভার পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করা হবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাস মালিক, শ্রমিক সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবিত ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছে। আলোচনায় মালিক ও শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিয়েও মতবিনিময় হয়।
প্রস্তাবটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের পর্যালোচনার জন্য সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। ডিটিসিএ জানিয়েছে, আলোচনার ভিত্তিতে ৩২টি রুট প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হলেও তালিকাটি এখনো পরিবর্তনযোগ্য। প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন ৩২টি রুটের গড়ে প্রায় ৭০ শতাংশ বিদ্যমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রস্তাবিত রুটগুলো রাজধানী ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন কেন্দ্রগুলোকে একটি সমন্বিত নেটওয়ার্কের আওতায় আনবে। এর মধ্যে রয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, গাবতলী, মহাখালী, কুড়িল, গুলিস্তান, মতিঝিল, সায়েদাবাদ, সদরঘাট, কাঁচপুর, সাভার, টঙ্গী, গাজীপুর ও কেরানীগঞ্জ।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৩২টি রুটের মধ্যে রয়েছে নন্দন পার্ক-ডেমরা, নন্দন পার্ক-কাঁচপুর, দিয়াবাড়ী-সদরঘাট, শ্রীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির, কোনাবাড়ী-কেরানীগঞ্জ, গাবতলী-শিমুলতলী, ঘাটারচর-সালনা, নবীনগর-বাবুবাজার, সাভার-কাঁচপুর, গাবতলী-ডেমরা, গাবতলী-কুড়িল, কাঁচপুর-গাজীপুর এবং সাভার-আড়াইহাজারসহ আরও কয়েকটি রুট।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বাসের নির্দিষ্ট কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও ন্যূনতম মানদণ্ডও নির্ধারণ করা হবে। এসব মানদণ্ড পূরণ করেই অপারেটরদের বাস পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে।
ডিটিসিএর উপপরিকল্পনাবিদ ধ্রুব আলম বলেন, প্রতিটি রুটে যাত্রী চাহিদার ভিত্তিতে বাসের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, বাসগুলো একীভূত করা হলে মালিক ও বাসের সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে। প্রতিটি রুটে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বহর ব্যবস্থাপনা করা হবে।
৩২টি প্রস্তাবিত রুটের মধ্যে যাত্রী চাহিদা, বাসের প্রাপ্যতা ও সড়কের অবস্থা বিবেচনায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রাথমিকভাবে ১২ মিটার দীর্ঘ ৫২ আসনের বাস চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।
রুটগুলো হলো—
রুট ২১এ: বেরাইদ-খিলগাঁও রেলগেট
রুট ১এ: তালতলা-সদরঘাট
রুট ২৭এ: কাঁচপুর-গাজীপুর চৌরাস্তা
রুট ৫: নন্দন পার্ক (জিরানি)-ডেমরা
রুট ৪: শ্রীপুর-ঢাকেশ্বরী মন্দির
রুট ২১এ-এর দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার এবং দৈনিক যাত্রী চাহিদা আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার ৮৭৮ জন। রুট ১-এর দৈর্ঘ্য ৫৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার; দৈনিক যাত্রী চাহিদা ৮৬ হাজার ৫০৯ জন।
রুট ২৭এ-এর দৈর্ঘ্য ৪৩ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার এবং দৈনিক যাত্রী চাহিদা ৮৫ হাজার ২৬৬ জন। ৪১ দশমিক ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ রুট ৫-এ প্রতিদিন প্রায় ৬০ হাজার ৮৯০ যাত্রীর চাহিদা রয়েছে। আর রুট ৪-এর দৈর্ঘ্য ৫৪ দশমিক ২৭ কিলোমিটার, যেখানে দৈনিক যাত্রী চাহিদা প্রায় ৫৮ হাজার ৯১০ জন।
রুট পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনাটি রাজধানীতে পরিচালিত যাত্রী ও যানবাহন জরিপের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
ডিটিসিএর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা ৯৮টি রুটে ১০ হাজারের বেশি যাত্রীর ওপর বোর্ডিং ও অ্যালাইটিং জরিপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩৫ হাজারের বেশি যাত্রীর ওপর অরিজিন-ডেস্টিনেশন জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে।
ঢাকার ৫২টি স্থানে টানা ৭২ ঘণ্টা যানবাহন গণনাও করা হয়। ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের প্রকৌশল নকশা তৈরি করা হয়েছে।
জরিপে রাজধানীর সড়ক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও উঠে এসেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার সড়কের মধ্যে মাত্র ২৮০ কিলোমিটার বাস চলাচলের উপযোগী। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৬৮ কিলোমিটার এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে।
পরিকল্পনায় স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য আরও ২৫টি সার্কুলার বাস রুট চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব রুটের মাধ্যমে মেট্রোরেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো এবং প্রধান সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
তবে সার্কুলার রুট চালুর আগে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ন্ত্রণ এবং এসব যানবাহনের চালকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে বলে পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ডিটিসিএর উপপরিকল্পনাবিদ ধ্রুব আলম জানান, চলতি মাসেই রুট নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি রুটে একটি মালিক বা কোম্পানির অধীনে কীভাবে বাস পরিচালনা করা হবে, তা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই মালিক সমিতির সঙ্গে আবার আলোচনা হবে। কোন রুটে কোন কোম্পানি বাস পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে মালিকরাই প্রস্তাব দেবেন।
তবে ৩২টি রুট এখনো চূড়ান্ত নয় বলেও জানান তিনি। বাস মালিকদের সঙ্গে আরও আলোচনার পর রুটের সংখ্যা বা বিন্যাসে পরিবর্তন আসতে পারে।
প্রতিটি রুটের যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী বাসের সংখ্যা সমন্বয় করা হবে। ধ্রুব আলম বলেন, কোনো রুটে ৬০টি বাসের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে যদি ১০০টি বাস চলাচল করে, তাহলে অতিরিক্ত বাস এবং অযোগ্য ও জরাজীর্ণ যানবাহন সরিয়ে দেওয়া হবে।
মালিক সমিতিও অচল ও অনুপযোগী বাস পরিচালনা বন্ধে নীতিগতভাবে সম্মতি দিয়েছে বলে জানান তিনি।
পরবর্তী ধাপে বাসের তালিকা যাচাই, যানবাহনের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং নির্ধারিত কাউন্টার ব্যবহারের মাধ্যমে যোগ্য বাসগুলোকে পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
ডিপো, কাউন্টার ও বাসের সময়সূচিসহ বিস্তারিত বিষয় পরবর্তী পর্যায়ে নির্ধারণ করা হবে।
ডিটিসিএ বলছে, চলতি মাসের মধ্যেই প্রাথমিক কাজগুলো শেষ করার চেষ্টা চলছে। একসঙ্গে ৩২টি রুট চালু করা সম্ভব না হলেও অন্তত কিছু রুটে নতুন ব্যবস্থা চালু করে সংশ্লিষ্ট বাস মালিকদের একটি অভিন্ন কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে।
Posted ১২:২৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
bankbimaarthonity.com | Animator Alif
পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।
ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫
ই-মেইল: bankbima1@gmail.com