Ad
x

অবশেষে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের সিইও’র পদ থেকে খালেককে অপসারণ

শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫   প্রিন্ট   ৭৬৬ বার পঠিত

অবশেষে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের সিইও’র পদ থেকে খালেককে অপসারণ

অবশেষে ইসলামী ইন্স্যুরেন্স থেকে অপসারিত হলো কোম্পানিটির বিতর্কিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আব্দুল খালেক মিয়া। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ২৪৮ তম সভায় তাকে চাকরি থেকে অবসানের এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ২০ আগস্ট ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি আব্দুল খালেক মিয়াকে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ‘ আপনার নিয়োগ চুক্তি পত্রের ১০ নং শর্তের আলোকে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের ২৪৮ তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এতদ্বারা কোম্পানিতে আপনার চাকুরি অবসান করা হলো।

এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। কোম্পানির সাথে আপনার যাবতীয় দেনা পাওনা (যদি থাকে) প্রযোজ্য আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী নিষ্পত্তি করা হবে।’ খালেককে অপসারণের পর পরই মো. মইনুল আহছান চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সিইও করা হয়েছে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
আব্দুল খালেক মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্কে ছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকান্ডের এক মামলার আসামি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দায়ের করা দুটি মামলায়ও তার বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞে অর্থায়ন ও ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সম্প্রতি তার ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তারের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে অর্থ ফেরত না দিলে মামলা দায়েরের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আব্দুল খালেক মিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সংঘটিত হত্যা মামলার আসামি। মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট হত্যাকান্ডে ইন্ধন ও অর্থ যোগানদাতা হিসেবে আরো দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খোকনের অন্যতম সহযোগী আব্দুল খালেক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গাজীপুরে সংঘটিত হত্যাকান্ডের এক মামলার ৫৪ নং আসামি আব্দুল খালেক মিয়া। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দায়ের করা হত্যাকান্ডের দুটি অভিযোগের একটিতে ২৭ ও আরেকটিতে ৩৮ নং আসামি হিসেবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

গত ১১ অক্টোবর গাজীপুরের গাছা থানায় শহীদ রায়হান আলীর বাবা মামুন সরদারের দায়ের করা মামলার ৫৪ নং আসামি আব্দুল খালেক। ওই মামলায় আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন ও প্রতিহত করতে হত্যাযজ্ঞ চালাতে অর্থায়ন ও সার্বিক সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। আব্দুল খালেকসহ ওই মামলার ১৬৭ জন আসামি সম্পর্কে এজাহারে বলা হয়েছে, “আসামি ক্রমিক নং-২২ হতে ৬২ পর্যন্ত সকলে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার আমলে আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে সিন্ডিকেট বাণিজ্য, ব্যাংকের তহবিল আত্মসাত ও নানাভাবে অবৈধ উপায়ে বিপুল অর্থ-বিত্ত ও সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে এবং বিদেশে অর্থ পাচার করে। তারা অবৈধ সরকারের অবৈধ এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য যখন যেভাবে প্রয়োজন সেভাবে অর্থ যোগান দিয়ে সর্বমহলে সরকারের অর্থ যোগানদাতা ও শেখ পরিবারের দুর্নীতির বিপুল পরিমাণের অর্থ পাচারে সহায়তাকারী হিসেবে পরিচিত।

“উল্লেখিত নং-২২ হতে ৬২ পর্যন্ত আসামিগণ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য আসামি ক্রমিক নং-১ হতে ২১ এবং ৬৩ হতে ১৬৭ এদেরকে বিভিন্নভাবে নগদ অর্থ প্রদান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করার জন্য সার্বিক সহায়তা করে। উক্ত আসামিগণ বিভিন্ন সময়ে গণভবন, সচিবালয়, পুলিশ সদর দপ্তর ও আওয়ামী লীগ দলীয় কার্যালয়ে দফায় দফায় বৈঠক করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন নস্যাৎ করার জন্য বল প্রয়োগ পূর্বক গণহত্যা করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।”

২৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দায়ের করা হত্যাকান্ডের একটি অভিযোগে ৩৮ নং আসামি হিসেবে আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে ২০ জুলাই যাত্রাবাড়িতে ছাত্রজনতার ওপর সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে শহীদ সোহেলের স্ত্রী আয়শা আকতার কুহেলি বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই অভিযোগে ২৭ নং আসামি হিসেবে ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধেও আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়ার আবেদন করা হয়েছে।

গত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে দায়ের করা হত্যাকান্ডের আরেকটি অভিযোগে ২৭ নং আসামি হিসেবে আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে। ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আঃ রব মিয়া এই অভিযোগ দায়ের করেছেন। এদিকে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ৩ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে আব্দুল খালেক মিয়া ও তার স্ত্রী পারভীন আক্তারকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স। গত ২৫ জুন সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ. এস. এম. এম . কবির খান এই নোটিশ পাঠান। নোটিশে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসাতকৃত অর্থ কোম্পানির হিসাবে জমা দেয়ার আল্টিমেটাম দেয়া হয়। অন্যথায় মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

খালেক মিয়াকে পাঠানো আইনি নোটিশে বলা হয়, “আপনি গত ১৯/০৫/২০১৬ইং তারিখ থেকে ১২/০৭/২০২২ইং তারিখ পর্যন্ত সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এর মাদার কোম্পানি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। উক্ত দায়িত্ব পালনকালীন সময় বিধি অনুযায়ী আপনি সোনার বাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এর পরিচালক ছিলেন। এর প্রেক্ষিতে পর্ষদ কর্তৃক আপনাকে কোম্পানির ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য সিগনেটরি মনোনীত করা হয়। উক্ত মনোনয়নের প্রেক্ষিতে আপনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিম্নোক্ত পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে কোম্পানির আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাত করেছেন।

 

Facebook Comments Box

Posted ০৯:০৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫

bankbimaarthonity.com |

সম্পাদক : মোহাম্মাদ মুনীরুজ্জামান
প্রকাশক : সায়মুন নাহার জিদনী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়

পিএইচপি টাওয়ার, ১০৭/২, কাকরাইল, ঢাকা-১০০০।

ফোন: নিউজরুম: ০১৭১৫-০৭৬৫৯০, ০১৮৪২-০১২১৫১ ফোন: ০২-৮৩০০৭৭৩-৫

ই-মেইল: bankbima1@gmail.com